চাঁদপুরে ফেরীতে স্পেশালের নামে গাড়ি উঠানোকে কেন্দ্র করে নৌ পুলিশের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আহত, পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও

শাহরিয়ার খান কৌশিক

চাঁদপুর হরিনা ফেরিঘাটে টাকার বিনিময় স্পেশালের নামে গাড়ি ফেরিতে উঠানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনদের সাথে নৌ পুলিশের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
স্পেশাল গাড়ি ফেরিতে উঠাতে বাধা দেওয়ায় নৌ পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ শেখ কে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সন্ধ্যায় গাড়ির চালক স্থানীয় এলাকাবাসী হরিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নৌ পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন এই এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে।
হরিনা ফেরিঘাটে স্পেশাল গাড়ি ফেরিতে উঠানোর নামে নৌ পুলিশ গাড়ির চালকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়ে ফেরিতে উঠায়।
গত শনিবার রাতে এস আই গিয়াস উদ্দিনের নির্দেশে এএসআই রায়হান ও জয়নাল চারটি তেলের লরি থেকে তিন হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা নিয়ে স্পেশাল এর নামে ফেরিতে উঠায়। এ সময় ঘাটে থাকা অন্যান্য চালকরা সহ স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে নৌ পুলিশের সাথে বাক-বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এর পরেই আরও দুটি জাটকা ও ইলিশ মাছ বোঝাই ডিসটিক ট্রাক আসলে সেগুলো নৌ পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন মোটা অংকের টাকা নিয়ে গাড়িতে উঠায়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে এসআই গিয়াস উদ্দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ শেখ কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
পুলিশের পিটুনি রাগাতে লতিফ সরকার এক হাতের আঙ্গুল ফেটে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা সহ ট্রাক চালকরা রবিবার সন্ধ্যায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে। ঘটনা বেগতিক দেখে নৌ পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করে ঘটনাটি সমাধান করার জন্য। পরে নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসআই গিয়াস উদ্দিন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে লতিফ শেখ এর হাত  ক্ষমা চায় এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটাবে না বলে অঙ্গীকার করে।
হরিণা ফেরিঘাট এলাকার বেশ কয়েকজন জেলে জানায়,মার্চ এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও নৌ পুলিশের এসআই গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে হরিনা চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। এই এলাকার প্রায় ৪০ টি নৌকা থেকে নৌকা প্রতীক প্রতিদিন ৭০০ টাকা করে চাঁদা তুলে দিনে হাজার হাজার টাকা অবৈধ পন্থায় ইনকাম করছে। জেলেরা প্রতিদিনের টাকা হরিণা ফেরিঘাটের আলাউদ্দিনের দোকানে জমা দিয়ে নদীতে যায়। এস আই গিয়াস উদ্দিন আলাউদ্দিনের কাছ থেকে সেই টাকা বুঝে নেয়। যেসব জেলেরা তাকে টাকা দেয় না শুধুমাত্র তাদেরকেই আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। এছাড়া এসআই গিয়াস উদ্দিন দুটি স্টিল বডি ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে বিভিন্ন মালবাহী নৌযানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।
এ ব্যাপারে এস আই গিয়াস উদ্দিন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হরিনা ফেরিঘাটে স্থানীয় লোকজন গাড়ি উঠানোর সময় বাধা দিলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তেমন কোন বড় ধরনের ঘটনা না ঘটায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। ঘটনাটি সমাধান হয়ে গেছে।