চাঁদপুরে পিতা-পুত্রের দ্বন্দ সমাধানে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের পুরাণবাজারের ঘোষ পাড়া এলাকায় পিতা-পুত্রের দীর্ঘ দিনের পারিবারিক কলোহের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধী মহলসহ সবাই যেন তাদের সমঝোতা করাতে হাপিয়ে উঠেছে।এ ব্যপারে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুধী মহল।এ চলমান দ্বন্দের ঘটনার কথার সত্যতা স্বীকার করে পুরান বাজারের মৃত নগেন্দ্র সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর এ প্রতিবেদককে জানান,আমার ১ম সংসারের বড় ছেলে নেপাল সূত্রধর ও তার স্ত্রী রিতা সূত্রধর এবং তাদের মা অর্থাৎ আমার ১ম স্ত্রী মধুমালা সূত্রধর দীর্ঘদিন আমার ও আমার ২য় স্ত্রী স্মৃতি সূত্রধরকে মারধর করছে।গত শুক্রবারও তারা আমার বাড়িতে হুট করে ঢুকে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারার জন্য গলা টিপে ধরে।পরে এ ঘটনায় ডাক-চিৎকার হলে পারাপ্রতিবেশি ছুটে আসলে গলা টিপে মারতে না পেরে লাঠি দিয়ে তারা আমাদের এলোপাথারি মারতে থাকে।সেই সাথে আমার ঘরে ভাংচুরও চালায়।এ সময় সুযোগ পেয়ে আমার মেয়ের গলার ২০ হাজার টাকা দামের স্বর্ণের চেইন ওই সন্ত্রাসী নেপাল সূত্রধর ছিনতাই করে নিয়ে যায়।ওরা স্থানীয় কোন গণ্য-মান্য ব্যক্তিকে না মানায় আমি থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।এ ঘটনায় ওই দিলিপ সূত্রধরের সেই ছেলে নেপাল সূত্রধরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমারা কোন মতে অসহায় অবস্থায় আমার মা ও স্ত্রী কে নিয়ে সংসার করছি।তবুও আমার বাবা আমাদের বিরুদ্ধে বার বার মিথ্যা অভিযোগ করছেন।যার কোন প্রমাণ নেই সব ভিত্তিহীন।বরং আমার বাবার চরিত্র এতোটাই খারপ যে তিনি আমার স্ত্রীকে প্রায়ই ইভটিজিং করেন।আর ওনার ২য় স্ত্রী ওই স্মৃতি ওনি সূত্রধর কিভাবে হয়?ওনি ত স্মৃতি বিশ্বাস।ওনার এর আগেও একটা বিয়ে হয়েছে।এ বিষয়ে নেপাল সূত্রধরের স্ত্রী রিতা সূত্রধর জানায়,আমার শ্বশুরের সাথে আমাদের পারিবারিক বিষয়ে কোর্টে মামলা চলমান থাকায় প্রায়ই তিনি দলবল নিয়ে আমাদের মারতে আসেন।গত শুক্রবার সকালেও আমাকে মারতে শুরু করেন।তখন আমার স্বামী নেপাল ও শ্বাশুরি মধুমালা আমার ডাক-চিৎকারে এগিয়ে আসলে ওদেরকেও মারতে শুরু করে।এ সময় তারা আমার রান্নাঘর সহ ঘরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।তাদের থেকে আমরা বাঁচতে আমি তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে পুলিশের সরনাপন্ন হয়েছি।এ ঘটনায় পুরাণ বাজার ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম জানান,পুরানবাজারের ঘোষপারার দীলিপ আর তার ছেলে নেপালের দ্বন্দ দীর্ঘ দিনের পুরোনো।এলাকাবাসীও এদের রোজকার ঝগরার ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।ওদের এই দ্বন্দ থামাতে চাঁদপুরের সাবেক এসপি শামসুন্নাহার স্যারও কয়েকবার চেষ্টা করেছেন।এ ব্যাপরে স্থানীয়দের সাথে আলাপ হলে জানা যায়,দিলীপ সূত্রধর দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকতো।সেখানে তার ১ম স্ত্রী মধুমালা তাকে ছেড়ে চলে যায়।পরে তিনি তার ২য় স্ত্রী স্মৃতিকে বিয়ে করেন।পরে তার এই ২য় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি পুরানবাজারে চলে আসেন।এবং সেখানে তিনি জায়গা কিনে ঘোষপারায় ১টি ২ তলা বিল্ডিং তৈরি করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।যেখানে তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।কিন্তু এমন অবস্থায় তার ১ম স্ত্রী মধুমালা তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসেন।তখন তাকেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কথায় তিনি তার বাসার নিচ তলায় থাকতে দেন।আর তখন থেকেই ওই ২ তলা বিল্ডিংয়ে থাকা নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ।কিন্তু ছোট বউকে নিয়ে ২য় তলায় থাকবেন আর ১ম বউ হয়ে নীচতলায় থাকবে?এমন চিন্তা নিয়েও দ্বন্দ থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।চাঁদপুর পৌর প্যাণেল মেয়র মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ঢালী জানান,ওদের ব্যপারে অনেকবার বিচার সালিশ করেছি।তবে বাবার চেয়ে ছেলেটা অনেক খারাপ।এই ছেলেকে ওর বাবার বাসায় অনেকের অনুরোধে আমিই রাখতে বলেছিলাম।তখন ওর বাবা সবার কথায় ওই নেপাল আর তার স্ত্রী ও মা কে বিল্ডিংয়ের নীচ তলায় থাকতে দেয়।আর এখন বাসায় থেকে নেপাল এই দ্বন্দ পাকাচ্ছে।এদের বিষয়ে একটা সমাধান হওয়া দরকার।এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাসীম উদ্দিন জানান,পুরানবাজারের পিতা-পুত্রের দ্বন্দের কথা শুনেছি।ওরা থানায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে তাদের দ্বন্দের সমস্যার কথা সার্কেল স্যারও জানতে পারেন।এ ব্যপারে ১২ মার্চ মঙ্গলবার চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁদপুর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,কারো দ্বন্দের ব্যপারে আমি কিছু জানি না।এটা থানায় এসে খোজ নেন।এদিকে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান চেয়ে ঘোষপারার এই অশান্তি চিরদমন করতে চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সুধীমহল ও জনপ্রতিনিধিরা।