চাঁদপুরে ডাকাতের হাতে বৃদ্ধা নিহত, নগদ অর্থ স্বর্ণালংকার লুট

                                                           হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুত্র বধু আটক

শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপিলা গ্রামে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্যরা হাত পা বেঁধে শ^াসরোধ করে সালেহা বেগম (৬০) নামে বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন। ডাকাতরা ওই ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এই হত্যও ঘটনায় সম্পর্কে তার পুত্র বধু তাহমিনা বেগম(২৭)কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
রোববার (১২ আগষ্ট) ভোর ৪টার দিকে ওই গ্রামের হাজী নেছার গাজীর বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। হত্যার শিকার সালেহা বেগম ওই বাড়ীর মাওলানা ফয়েজ উল্যাহ গাজীর স্ত্রী। তার ৪ ছেলে এবং ৩ কন্যা সন্তান আছেন।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার তদন্ত ওসি মাহাবুব মোল্লা ও এসআই বিপ্লব সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার কওে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
ঈুলিশ এই ঘটনায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য নিহতের পুত্র মানছুর আহাম্মদের স্ত্রী তাহমিনাকে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের দেবর হাফেজ ফোরকান গাজী জানান, নিহত সালেহা বেগম তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। ওই ঘরে ভাবী এবং ছোট ভাতিজা মানজুরের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও তার শিশু কন্যা তাহিয়া(৪) থাকেন। প্রতিদিনের মত তারা রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় পাশ^বর্তী ঘর অর্থাৎ নিহতের ঘর থেকে লোকজন আওয়াজ দিচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে গেলে জানতে পারেন সালেহা বেগম প্রকৃতি ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাহির হলে ৫জন ডাকাত সদস্য তার হাত পা বেঁধে শ^াসরোধ করে। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসে। এ অবস্থায় ডাকাতরা মানছুরের স্ত্রী তাহমিনারও হাত পা বেঁধে স্টীলের আলমিরার চাবি নিয়ে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও ২ ভড়ি স্বর্ণলাংকার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সাখাওয়াতকে আনা হলে তিনি সালেহা বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে ফোরকান বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে জানান।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম মিয়াজী জানান, ফজরের নামাজের পর তিনি জানতে পারেন ডাকাতি ও খুনের ঘটনা। তাৎক্ষনিক বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানাকে অবহিত করেন। পুলিশ আসলে সকাল ৯টায় তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং ঘরের ভিতরের একটি খাটে সালেহা বেগমকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের সকল জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখেছেন বলেও চেয়ারম্যান জানান।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালি উল্যাহ ওলি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত সালেহা বেগমের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের ছেলেরা সকলেই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে থাকেন। তারা আসলে চেয়ারম্যানসহ আলোচনা করে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।