ইউপি মেম্বারদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ ॥ টাকা নিয়ে কার্ড বিতরন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩নং হানারচর

শাহরিয়ার খাঁন ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩নং হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেম্বাররা টাকার বিনিময়ে বিজিডি,বিজিএফ,বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্তকালিন ভাতা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে।
হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাদের বিরুদ্ধে এক এক করে থলের বিড়ালের মত সকল দূর্নীতির অভিযোগ বেড়য়ে আসতে শুরু করেছে।
জানা যায়, ১৩নং হানারচর ইউনিয়নে বিজিডি,বিজিএফ,বয়স্ক ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা সহ সকল ধরনের কার্ড ও অনুদান আসার পরেই চেয়ারম্যান ছত্তার রাড়ী গরীভদের মাঝে বিতরনের জন্য সব মেম্বাদের সমান হারে ভাগ করে দেয়। দূর্নীতিবাজ কয়েকজন মেম্বার তাদের কার্ড গুলো গরীভদের কাছে টাকার বিনিমনে বিক্রি করে দেয়।
৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার হালিম বেপারী , ৩নং ওয়ার্ডের হারুনুর রসিদ খাঁন, ৭ নং ওয়ার্ডের আবুল কালাম কালু মেম্বার বিজিডি,বিজিএফ,বয়স্ক ভাতা, গর্ভবতী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে ইউনিয়নের সাধারন মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা উত্তলন করে। উপজেলা উন্নয়ন খাতের গভীর নলকুপ দেওয়ার নামে ও নতুন ঘর করে দেওয়ার নামে কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার হালিম বেপারী তার নিজের নামে বয়স্ক ভাতা তার ঘরে সরকারি সোলার তার মেয়ে সালমা বেগম ও তার স্বামীর নামে বিজিডি কার্ড করে দেয়। যার কার্ড নাম্বার ৩০। গরিভের হক বঞ্চিত করে মেম্বার হালিম বেপারী নিজেই সরকারি সকল অনুদান নিজেই ভোগ করে।
এই সকল অভিযোগ পাওয়ার পরে চেয়ারম্যান ছত্তার রাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে সকল মেম্বাদের নিয়ে মতবিনিময় করে এবং এই দূর্নীতি যেন আর না করে সে জন্য তাদের হুশিয়ার করে দেয়।
তারপর থেকেই সকল দূর্নীতিবাজ মেম্বাররা চেয়ারম্যান ছত্তার রাড়ীর বিরুদ্ধে সরযন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। পরে তারা উদুর পিন্টু বুদর ঘারে দিয়ে নিজেদের অপরাদ ঢাকতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ নিতে শুরু করে।
ঘটনা অনুসন্ধানে শনিবার ১৩নং হানারচর ইউনিয়নে গিয়ে জানা যায়, সরকারের যত উন্নয়ন বরাদ্ধ, হত দরিদ্রদের জন্য টিআর, কাবিখা,কাবিটা,বিজিডি,বিজিএফ,বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্তকালীন ভাতা এই ইউনিয়নে দেওয়ার হয়েছে তা সব কিছু ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে কয়েকজন মেম্বার টাকা নিয়ে অসহায় গরিবদের দিয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ড গোবিন্দা গ্রামের মৃত আনাজউদ্দিন বেপারির স্ত্রী ছালেহা খাতুন(৬৫),ওহাব হাওলাদারের স্ত্রী আফুরেন্নাছা(৭০),নান্নু মোছতানের স্ত্রী সাজুদা বেগম জানায়, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার হালিম বেপারির কাছে বিজিডি কার্ড চাইলে তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড়া কার্ড নিবে না বলে জানায়। তাকে ৩ হাজার টাকা দিলে তিনি এক কার্ড ২জনকে ভাগ করে দিয়েছে। টাকা ছাড়া তারা কাউকে কার্ড দেয়না। বিজিডি কার্ড তার নিজের পরিবারের লোকজনকে দিয়েছে। তাদের মাধ্যমে চাল উত্তলন করে দোকানে বিক্রী করেছে।

এই ব্যাপারে ১৩নং হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছত্তর রাড়ি জানায়, এলাকার অসহায় গরিভ লোকরা আমার কাছে মেম্বারদের বিরুদ্ধে দূরর্নীতির অভিযোগ করলে আমি সকল মেম্বাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করি। এই দূর্নীতি যেন আর না করে সে জন্য তাদের হুশিয়ার করে দেয়।
তার পর থেকেই মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে সরযন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।
এই এলাকায় সঠিক ভাবে তদন্ত করলে সব মেম্বরদের দূরর্নীতির ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। এই এলাকার গরীভ অসহায় মানুষ তাদের মুখুশ উন্মচন করে দিবে।