আজ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে ঈদুল আযহা পালিত হচ্ছে

সৌদি আরবকে অনুসরণ করে আজ মঙ্গলবার চাঁদপুরের প্রায় ৪০ গ্রামে ঈদুল আযহা উদযাপন করা হচ্ছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা দেশে একদিন আগেই ঈদ পালন করে। গত ৮৮ বছর ধরে সাদ্রাসহ ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়ে আসছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ওই পীরের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন। এছাড়াও চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরাও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক খান সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসী অসহযোগিতা করলে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। দেশের সরকারি নিয়মের বাইরে একদিন আগে ঈদ পালনের উদ্যোগ গ্রহণের কারনে সে সময় মাওলানা খানকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মাওলানা খান ওই বছরই চলে আসেন নিজ গ্রাম একই উপজেলা ফরিদগঞ্জের  সাদ্রায়। আরব দেশগুলোর রীতিনীতি অনুযায়ী ধর্ম-কর্ম পালনের জন্য প্রথমে নিজ গ্রামে শুরু করেন ব্যাপক গণসংযোগ। গ্রামের অসহায়, দুস্থ মুসলমানদের প্রচুর আর্থিক সাহায্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদসহ সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন প্রথা চালু করেন।সে অনুযায়ী সকাল ৮টা ৩০ মিঃ ঈদ এর জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।