অভিনব কায়দায় বিকাশ থেকে লাখ লাখ টাকা হ্যাকিং করছে ১২ বছরের কিশোরসহ দু’ ভাই

নাজমুল হাসান বাঁধন ॥ গত ৬ মাস ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কায়দায় বিকাশ থেকে লাখ লাখ টাকা হ্যাকিং করছে ১২ বছরের কিশোর আবরার হোসেন সীমান্ত ও তার বড় ভাই সাগর হোসেন (২০)। গতকাল ১৫ জুলাই দুপুর আড়াইটায় এই দু’ প্রতারককে বেলভিউ হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করে ভুক্তভোগী দু’ বিকাশ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। ঘটনাসূত্রে জানা যায়, বেশকিছু দিন ধরে আবরার হোসেন সীমান্ত ও সাগর বিভিন্ন বিকাশের দোকানে গিয়ে প্রথমে দোকানদারকে বিকাশের কথা বলে একটি ভুয়া নাম্বারে টাকা পাঠানোর কথা বলে। দোকানদার কয়েকবার চেষ্টা করেও যখন বিফল হয়, ঠিক সেই সময় আবরার হোসেন সীমান্তের নজর থাকে দোকানের বিকাশের পাসওয়ার্ডের দিকে। দোকানদার বিকাশ করতে ব্যার্থ হলে সঠিক মোবাইল নাম্বারের জন্য পরিচিত অপর ব্যক্তিকে কল দেয়ার কথা বলে সে দোকানদার থেকে মোবাইলটি নেয় এবং কল দেয়ার বাহানা করে। ঠিক তখনই পিছন থেকে তার ভাই সাগর দোকানে ঢুকে দোকানদারের কাছ থেকে বিভিন্ন পন্য নেয়ার কথা বলে দোকানদারকে অন্যকাজে ব্যস্ত রাখে। আর এই সুযোগে তার নির্ধারিত বিকাশ নাম্বারগুলোতে টাকা সম্পূর্ণ টাকাই ক্যাশ আউট করে মোবাইলের বার্তা মুছে ফেলে। তারপর কৌশলে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে দোকানদার যখন অন্য কাউকে টাকা বিকাশ করতে যায় তখনই টের পাওয়া যায়। তখন দোকানদারের কপালে হাত দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এ দু’ ভাই দীর্ঘ ৬/৭ মাস চাঁদপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় এভাবে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারণার শিকার এরকম এক ব্যবসায়ী অটো দিয়ে যাওয়ার সময় বেলভিউ হাসপাতালের সামনে এ দু’ প্রতারককে দেখতে পেয়ে অটো থেকে নেমে তাদের ধরার জন্য গেলে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী ও বিকাশ প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদেও সহযোগিতায় তাদের আটক করে তাদের মুখ থেকেই এ ধরনের অভিনব পদ্ধতির কথা জানা যায়। ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কিশোর প্রতারক আবরার হোসেন সীমান্ত জানায়, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর (নোয়াখালী বর্ডার) উপজেলার নতুন বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম মুকবুল আহমেদ। ৩ ভাই ও এক বোন। এ অভিনব পদ্ধতি তার ভাই সাগর তাকে শিখিয়েছে। এভাবেই গত ৭ মাস ধরে তারা বিভিন্ন বিকাশ ব্যবসায়ীদের টাকা আত্মসাৎ করেছে। ভুক্তভোগী বিকাশ ব্যবসায়ী ও এ দু’ প্রতারকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, এ পর্যন্ত তারা রায়হান টেলিকম থেকে ৫০ হাজার, জিলন চৌরাস্তা থেকে ১৫ হাজার, রুবেল টেলিকম থেকে ৯ হাজার, ফারুক স্টোর থেকে ১৩ হাজার, জাহানারা এন্টারপ্রাইজ থেকে ২৭ হাজার, তোয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ হাজার, আনন্দ টেলিকম থেকে ১০ হাজার, রংধনু টেলিকম থেকে ১৫ হাজার, খান টেলিকম থেকে ১৫ হাজার, বিছমিল্লাহ টেলিকম থেকে ১০ হাজার, কার কালার ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার ও কথা টেলিকম থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা এলাকাবাসীর হেফাজতে আছে এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।