আজ সোমবার, জানুয়ারী ২২, ২০১৮ ইং, ৯ মাঘ ১৪২৪

হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  থেকে  সাবধান !

Thursday, December 28, 2017

      প্রভাষক.ডাঃ এস.জামান পলাশ   

     ইদানীং  আমাদের  দেশের  শহরবাসী  “অতি  মাত্রায়  স্বাস্থ্য  সচেতন” (!)  লোকদের  মধ্যে  হেপাটাইটিস  রোগের  ভ্যাকসিন (vaccine)  নেওয়ার  একটি  হুজুগের সৃষ্টি  হয়েছে।  হ্যাঁ,  সাধারণ  মানুষ  হুজুগে  চলে ;  তাদের  দোষ  দিয়ে  লাভ  নেই।  তাদেরকে  ভয়  দেখালে  সহজেই  ভীত  হয়ে  পড়ে  আবার  লোভ  দেখালে  তারা  প্রলুব্ধ হয়ে  দৌঁড়ে  আসে।  আর  বহুজাতিক  কোম্পানীগুলো  সাধারণ  মানুষের  এই  দুর্বলতাগুলোকে  কাজে  লাগিয়ে  পয়সা  বানাতে  থাকে।  তারা  মানুষকে  অকাল  মৃত্যুর  ভয় দেখিয়ে  এবং  সুস্থ-সবল  দীর্ঘ  জীবনের  লোভ  দেখিয়ে  নানা  রকমের  আজেবাজে  ঔষধ-ভ্যাকসিন  দেদারছে  বিক্রি  করে  টাকার  পাহাড়  গড়ে  তোলছে।  হেপাটাইটিস নামক  একটি  রোগের  ভ্যাকসিন  বিক্রির  উদ্দেশ্যে  ভ্যাকসিন  কোম্পানীর  লোকেরা  এবং  তাদের  এজেন্টরা  ইদানীং  আমাদের  দেশের  মানুষকে  নানানভাবে  ভীতি  প্রদর্শনে নিয়োজিত  আছে।  ভয়  দেখিয়ে  মাল  কামানোর  জন্য  হেপাটাইটিসকে  আবার  এ. বি. সি. ডি.  প্রভৃতি  ভাগে  ভাগ  করার  কৌশল  অবলম্বন  করা  হয়েছে।  আসলে  দুনিয়াটা চলছে  ব্যবসায়ের  ওপর  ভিত্তি  করে  আর  চিকিৎসা  বিজ্ঞান  হলো  তাদের  মধ্যে  সবচেয়ে  লাভজনক  ব্যবসা।  আর  একজন  ব্যবসায়ীর  কাছে  তার  মুনাফাই  হলো  আসল টার্গেট ;  অন্যের  কল্যাণ-অকল্যাণ  সেখানে  তুচ্ছ।  হেপাটাইটিস  একটি  ভাইরাস  ঘটিত  রোগ  এবং  বাস্তব  সত্য  হলো,  ভাইরাসঘটিত  রোগের  কাযর্কর  কোন  চিকিৎসা বহুল  প্রচলিত  এলোপ্যাথিক  চিকিৎসা  পদ্ধতিতে  নেই।  ফলে  সে-সব  পন্থী  চিকিৎসকেরা  হেপাটাইটিস  হওয়ার  হাত  থেকে  বাঁচার  জন্য  আগেভাগেই  হেপাটাইটিসের ভ্যাকসিন  নেওয়ার  পরামর্শ  দিয়ে  থাকেন।

 

কিন্তু  দুঃখজনক  ব্যাপার  হলো  এই  যে,  অন্যান্য  বহুল  প্রচলিত  টিকাগুলোর  ওপর  চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের  শত  বছরের  দীর্ঘ  গবেষণায়  যেমন  প্রমাণিত  হয়েছে যে,  সেগুলো  মানবদেহে  ক্যান্সার,  ব্রেন  টিউমার,  অটিজম / বুদ্ধিপ্রতিবন্দ্বি (autism),  ব্রেন  ড্যামেজ (brain  damage),  মৃগীরোগ (epilepsy),  গুলেন-বেরি সিনড্রোম (Guillain  barré  syndrome),  এলাজি (allergy),  হাঁপানি (asthma),  ডায়াবেটিস (diabetes),  ব্লাড  ক্যান্সার (Leukemia),  বাতের  সমস্যা (rheumatism),  ইমিউন  সিস্টেমের  ধ্বংস  প্রাপ্তি (immune  system  damage),  এমনকি  মৃত্যু  পযর্ন্ত  ঘটাতে  পারে।  কাজেই  বলা  যায়  যে,  একই  ধরনের ক্ষতিকর  ক্রিয়া  হেপাটাইটিসের  ভ্যাকসিনেরও  আছে।  অনেকে  ভাবতে  পারেন  যে,  ভ্যাকসিনগুলো  মানুষের  এতো  ক্ষতি  করে  কেন ?  কারণ  একটাই  আর  তা  হলো এসব  ভ্যাকসিন  মানবদেহের  জন্য  ভয়ঙ্কর  ক্ষতিকর  জীবিত  ভাইরাস  দিয়ে  তৈরী  করা  হয়ে  থাকে।  যুক্তরাষ্ট্রের  বেইলর  কলেজের  ভ্যাকসিন  গবেষক  ডাঃ  বনি  ডানবার হেপাটাইটিস  বি  ভ্যাকসিন  নেওয়ার  ফলে  বয়ষ্ক  লোকদের  নার্ভাস  সিষ্টেম  ধ্বংস  হওয়ার  অসংখ্য  ঘটনার  উল্লেখ  করেছেন  যার  মধ্যে  ছিল  মাল্টিপল  স্ক্লেরোসিস (multiple  sclerosis),  মৃগীরোগ (epilepsy) এবং  অন্ধ (blindness)  হয়ে  যাওয়া।  পক্ষানতরে  যুক্তরাষ্ট্রের  খাদ্য  ও  ঔষধ  প্রশাসন (FDA)  জানিয়েছে  যে,  ১৯৯১  সাল  থেকে  এ  পর্যনত  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিয়ে  ১৯  টি  শিশুর  মৃত্যু  হয়েছে।  অথচ  একজন  গবেষক  গোপনে  এফডিএ’র  নথিপত্র  সংগ্রহ  করে  দেখলেন যে,  কেবল  ১৯৯৬  সালের  জানুয়ারী  থেকে  ১৯৯৭  সালের  মে  মাসের  মধ্যেই  ৫৪টি  শিশুর  মৃত্যুর  ঘটনা  লিপিবদ্ধ  করা  আছে।  আবার  এই  একই  সময়ের  মধ্যে হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিয়ে  বিভিন্ন  মারাত্মক  রোগে  আক্রানত  হয়ে  ক্ষতিগ্রস’  হওয়া (fatal  injury)  শিশুর  সংখ্যা  ১৭,০০০ (সতের  হাজার)।

 

অপরদিকে  ১৯৯০  সালের  শুরু  থেকে  ১৯৯৮  সালের  অক্টোবর  পযর্ন্ত  ১,২০৯ টি  শিশু  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিয়ে  মারাত্মকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত  এবং  ৭৩  টি শিশুর  মৃত্যুর  ঘটনা  লিপিবদ্ধ  করা  হয়েছে।  (তাই  বলা  যায়  মৃত্যুবরণকারী  এই  নিষ্পাপ  শিশুদের  প্রকৃত  সংখ্যা  হবে  তার  চাইতে  অন্তত  একশ  গুণ  বেশী।  কেননা ভ্যাকসিন  কোম্পানীর  কাছ  থেকে  মিলিয়ন  ডলার  ঘুষ  খেয়ে  এসব  স্বাস্থ্য  বিভাগের  সরকারী  আমলারা  যে  তথ্য  গোপন  করে,  তা  একটি  ঐতিহাসিক  সত্য।) মারাত্মকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়ার  মানে  হলো  এমনভাবে  অসুস্থ  হওয়া  যাতে  হাসপাতালে  ভর্তি  হতে  হয়,  কোন  একটি  অঙ্গ  স্থায়ীভাবে  অকেজো  হওয়া,  প্যারালাইসিস,  অটিজম,  ব্রেন  ড্যামেজ,  ক্যান্সার,  লিভার  নষ্ট  হওয়া (Liver  damage),  হাঁপানি,  অন্ধত্ব,  টাক  পড়া (baldness)  ইত্যাদি  ইত্যাদি।  যুক্তরাষ্ট্রের  একজন  বিখ্যাত অর্থনীতিবিদের  শিশু  সনতান  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নেওয়ার  ১৫  ঘণ্টার  মধ্যে  মৃত্যুবরণ  করে।  শিশুটির  পোষ্ট-মরটেমের (autopsy)  সময়  ডাক্তাররা  লক্ষ্য  করেন  যে,  তার  ব্রেন/ মগজ (brain  swelling)  ফুলে  গেছে  এবং  নির্ঘাত  এই  কারণেই  শিশুটি  মারা  গেছে।  কিন্তু  ডাক্তাররা  ডেথ  রিপোর্টে  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিনের  কারণে কিংবা  ব্রেন  ফোলে  যাওয়ার  কারণে  শিশুটির  মৃত্যু  হয়েছে,  লিখতে  অস্বীকার  করেন।  বরং  লিখে  দেন  যে,  শ্বাসকষ্টের (severe  acute  respiratory  syndrome-SARS)  কারণে  শিশুটির  মৃত্যু  হয়েছে।  আসলে  প্রচলিত  মেডিক্যাল  সিষ্টেমটি  হলো  একটি  অশুভ  চক্র ;  ইহার  সাথে  জড়িত  কেহই  এমন  কাজ  করবে না  যাতে  সিষ্টেমের  ঘাড়ে  কোন  দোষ  চেপে  যায়।  আগে  নিজেদেরকে  বাচাঁতে  হবে ;  পাবলিক  জাহান্নামে  যাক,  কুচ্‌  পরোয়া  নেহি !

 

আরেকটি  গবেষণায়  দেখানো  হয়েছে  যে,  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিয়ে  ছেলে  শিশু  এবং  কিশোরদের  চাইতে  মেয়ে  শিশু  এবং  কিশোরীরা  তিন  গুণ  বেশী ক্ষতিগ্রস্ত  হয়ে  থাকে।  কিন্তু  ইহার  কারণ  কি  তা  বিজ্ঞানীরা  জানেন  না।  আর  টিকার  ক্ষতিকর  দিক  সম্পর্কে  গত  একশ  বছরের  সকল  গবেষণার  প্রতি  যদি  আপনি লক্ষ্য  করেন,  তবে  দেখতে  পাবেন  এদের  সবচেয়ে  বড়  অংশটি  দখল  করে  আছে  ব্রেনের (brain)  রোগসমূহ।  অর্থাৎ  ভ্যাকসিন  থেকে  সবচেয়ে  বেশী  ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়া  অঙ্গটি  হলো  ব্রেন / মস্তিষ্ক  বা  সেন্ট্রাল  নার্ভাস  সিস্টেম (central  nervous  system)।  আর  ব্রেন  ক্ষতিগ্রস্ত  হলে  আপনি  যে-সব  রোগে  আক্রান্ত  হতে পারেন,  সেগুলো  হলো  ব্রেন  টিউমার,  অটিজম (বুদ্ধিপ্রতিবন্দ্বি),  ব্রেন  ড্যামেজ,  মৃগীরোগ (epilepsy),  মাইগ্রেন (migraine),  বিষন্নতা (depression),  খুন করার  প্রবনতা (killing  instinct),  গুলেন-বেরি  সিনড্রোম (Guillain  barré  syndrome),  যৌন  ক্ষমতা  বিনষ্ট  হওয়া (impotancy),  ভাইরাস এনসেফালাইটিস (viral  encephalities),  অন্ধত্ব,  বিভিন্ন  ধরনের  মানসিক  রোগ,  স্মরণশক্তি  নষ্ট  হওয়া (memory  loss)  ইত্যাদি  ইত্যাদি।  যদিও  ভ্যাকসিন কোম্পানীর  মতে  “টিকা  নেওয়ার  স্থানে  বিভিন্ন  রোগের  আক্রমণের  সম্ভাবনা  ১৭%”  কিন্তু  বাস্তবে  এই  হার  আরো  অনেক  বেশী  দেখা  যায়।  ভ্যাকসিন  ইনজেকশানের স্থানে  যে-সব  সমস্যা  হতে  পারে,  তাদের  মধ্যে  আছে  ব্যথা,  ফোলে  যাওয়া (swelling),  দীর্ঘস্থায়ী  ক্ষত/ঘা,  মারাত্মক  চর্মরোগ (herpes),  টিউমার,  ভয়ঙ্কর স্মায়বিক  ব্যথা (neuralgia),  অবশতা (numbness),  পেশীর  কর্মক্ষমতা  নষ্ট  হওয়া  ইত্যাদি।

 

এলাইভ  ম্যাগাজিনে (Alive  magazine)  প্রকাশিত  একটি  গবেষণা  রিপোর্টে  দাবী  করা  হয়েছে  যে,  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নেওয়ার  কারণে  ডায়াবেটিস(Diabetes  mellitus)  রোগটি  মহামারী  আকারে  দেখা  দিয়েছে।  অনেকে  ভ্যাকসিনের  প্রথম  মাত্রা (shot)  পুশ  করার  পরে  উল্লেখযোগ্য  কোন  ক্ষতি  না  হওয়ায় (অথবা  হালকা  সাইড  ইফেক্ট  দেখে)  ভাবেন  যে,  দ্বিতীয়  এবং  তৃতীয়  মাত্রায়ও  বুঝি  বড়  রকমের  কোন  ক্ষতি  হবে  না।  কিন’  ভ্যাকসিনের  দ্বিতীয়  বা  তৃতীয়  মাত্রা পুশ  করার  পরে  দেখা  যায়  এমন  মারাত্মক  ক্ষতি (fatal  injury)  হয়ে  গেলো  যার  কোন  চিকিৎসাই  নাই  দুনিয়াতে।  যে-কোন  ভ্যাকসিন  নিলে  আপনার  বা  আপনার শিশুর  কোন  না  কোন  ক্ষতি  হবেই;  হতে  পারে  তা  ছোট  কিংবা  বড়।  তবে  টিকা  নেওয়ার  ক্ষতিটা  প্রকাশ  পেতে  পারে  কয়েক  মিনিট,  কয়েক  ঘণ্টা,  কয়েক  দিন,  কয়েক  মাস,  কয়েক  বছর  এমনকি  কয়েক  যুগ  পরে।  ইন্টারনেটে  খোঁজলে  এমন  অনেক  শিশুর  ঘটনা  জানতে  পারবেন,  যারা  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নেওয়ার  কারণে ব্লাড  ক্যান্সারে (blood  cancer)  আক্রান্ত  হয়েছে।  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিয়ে  শত  শত  লোক  বিভিন্ন  অটো-ইমিউন  ডিজিজ (auto  immune  diseases),  নিউরোলজিক্যাল  ডিজিজ (neurological  diseases),  মাল্টিপল  স্ক্লেরোসিস (multiple  sclerosis)  ইত্যাদি  মারাত্মক  মারাত্মক  রোগে  আক্রান্ত  হওয়ার  খবর পত্রিকায়  বেরুলে  ১৯৯৮  সালে  পনের  হাজার  ফরাসী  নাগরিক  সরকারের  বিরুদ্ধে  উচ্চ  আদালতে  মামলা  দায়ের  করেন।  ফলে  সরকার  বাধ্য  হয়েই  ফ্রান্সে  হেপাটাইটিস ভ্যাকসিনের  ব্যবহার  নিষিদ্ধ  ঘোষণা  করেন।

 

ডাক্তারদের  মতে-  মাদকাসক্ত,  পতিতা,  সমকামী,  চরিত্রহীন,  লম্পট  ইত্যাদি  শ্রেণীর  মানুষের  হেপাটাইটিসে  আক্রান্ত  হওয়ার  ঝুঁকি  বেশী।  কাজেই হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  নিলে  যদি  কোন  উপকার  হয়,  তবে  এই  শ্রেণীর  লোকেরা  নিতে  পারে।  কিন্তু  আপনার  শিশুকে  হেপাটাইটিসের  ভ্যাকসিন  দিবেন  কি  কারণে ?  সে  তো  এসব  অপরাধের  কোনটির  সাথেই  জড়িত  নহে।  অভিভাবকদের  বুঝতে  হবে  যে,  আপনার  শিশুকে  হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  দিলে  তাতে  আপনার  বা  আপনার শিশুর  কোন  লাভ  হবে  না;  বরং  এতে  লাভবান  হবে  ভ্যাকসিন  উৎপাদনকারী  কোম্পানী  থেকে  শুরু  করে  আপনার  শিশুকে  ভ্যাকসিন  পুশ  করা  পযর্ন্ত  যত  লোক জড়িত  তারা  সবাই।  আপনাকে  বুঝতে  হবে  যে,  কেবল  সাধারণ  মানুষই  নয়,  এমনকি  শতকরা  নিরানব্বইজন  ডাক্তারও  হুজুগে  চলে।  ঔষধ  কোম্পানী  এবং  ভ্যাকসিন কোম্পানীগুলো  হাজার  হাজার  কোটি  টাকা  খরচ  করে  পাবলিসিটির  মাধ্যমে  সাধারণ  মানুষের  মধ্যে  এমন  হুজুগের  সৃষ্টি  করে  যে,  অধিকাংশ  ডাক্তার  ঝামেলার  ভয়ে সাধারণত  এসব  হুজুগের  বিরুদ্ধে  কথা  বলার  সাহস  করেন  না।  তাছাড়া  ডাক্তারীটা  এমনই  ভয়ঙ্কর  পেশা  যে,  কেবল  বেশী  দরকারী  বিষয়গুলো  পড়তে  পড়তেই ডাক্তারদের  জান  বেরিয়ে  যায়।  তার  মধ্যে  বাজারে  নতুন  নতুন  চালু  হওয়া  ঔষধ-ভ্যাকসিন-প্যাথলজিক্যাল টেস্ট-অপারেশন  ইত্যাদির  ক্ষতিকর  দিক  নিয়ে  গবেষণা  করার সময়ই  বা  কয়জন  ডাক্তারের  আছে ?

 

যুক্তরাষ্ট্রের  ন্যাচারোপ্যাথিক  চিকিৎসা  পদ্ধতির  প্রবর্তক  বেনেডিক্ট  লাস্ট (Benedict  lust)  টিকা  প্রথার  তীব্র  বিরোধীতা  করে  বলেন  যে,  আগের  কালের এসব  ভুয়া  সিষ্টেমের  দ্বারা  রোগ  চিকিৎসায়  কোন  উপকার  তো  হয়ই  না  বরং  ইহার  দ্বারা  পবিত্র  মানব  শরীরে  মারাত্মক  পীড়াদায়ক  ক্ষত  বা  আঘাতের (trauma)  সৃষ্টি  হয়ে  থাকে।  ন্যাচারোপ্যাথিক  ডাক্তারদের  মধ্যে  পরিচালিত  একটি  জরিপে  দেখা  গেছে  যে,  অধিকাংশ  ন্যাচারোপ্যাথিক  চিকিৎসক  পাইকারী  টিকা  কর্মসূচীকে  মনে করেন  প্রাকৃতিক  নীতিবিরুদ্ধ,  অপ্রয়োজনীয়  এবং  বড়লোকী  কারবার।  ন্যাচারোপ্যাথিক  চিকিৎসকদের  এসোসিয়েশনের  এক  সাধারণ  সভায়  যে  প্রসতাব  পাশ  করা হয়েছে,  তাতে  সুপারিশ  করা  হয়েছে  যে,  টিকা  খুবই  ক্ষতিকর  এবং  অদরকারী  একটি  বিষয়।  সুতরাং  এসব  বর্জনের  জন্য  শিশুদের  পিতামাতাকে  উৎসাহ  দিতে  হবে। আজ  থেকে  অন্তত  একশ  বছরেরও  বেশী  সময়  পূবে  হোমিও  চিকিৎসা  বিজ্ঞানীরা  তাদের  গবেষণা  থেকে  ঘোষণা  করেছিলেন  যে,  ভ্যাকসিন  মানুষের  শরীরে  ক্যান্সার,  টিউমার (neoplasm),  হাঁপানি,  প্যারালাইসিস (paralysis)  ইত্যাদি  মারাত্মক  রোগ  সৃষ্টি  করে  থাকে।  আর  এই  কারণে  শত  বছর  পুর্ব  থেকেই  পৃথিবীর  সমস্ত হোমিও  ডাক্তাররা  এসব  ভ্যাকসিনের  ঘোর  বিরোধী।  শিশুদের  অস্বাভাবিক  সামাজিক  আচরণ  বা  বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিত্ব  অর্থাৎ  অটিজমের (autism) একটি  মূল  কারণ  যে  এই ভ্যাকসিন,  এ  বিষয়ে  বিস্তারিত  তথ্যপ্রমাণ  সম্বলিত  মোটামোটা  বই-পুস্তক  ইউরোপ-আমেরিকার  বইয়ের  দোকানগুলোতে  দেখতে  পাবেন।

 

বলা  হয়ে  থাকে  যে,  হেপাটাইটিস  ভাইরাস  একবার  যদি  কারো  শরীরে  ঢুকে,  তবে  সে  ধীরে  ধীরে  তার  যকৃতকে (Liver) ধ্বংস  করে  দেয়।  ফলে  এই ভাইরাস  শরীরে  আক্রমণ  করার  পর  দশ  থেকে  পনের  বছরের  মধ্যে  মানুষ  লিভার  নষ্ট  হয়ে (Liver  cirrhosis),  লিভার  ক্যান্সারে  আক্রান্ত  হয়ে  মৃত্যুর  কোলে  ঢলে পড়ে।  তবে  আমাদের  মনে  রাখা  উচিত  যে,  ৯৫  ভাগ  রোগের  মতো  হেপাটাইটিস  রোগটিও  অধিকাংশ  ক্ষেত্রে  বিনা  চিকিৎসায়  ভাল  হয়ে  যায়।  কিন্তু  যাদের  শরীর দুবর্ল  এবং  যাদের  শরীরে  বিভিন্ন  দোষ-ত্রুটি  আছে,  তাদের  ক্ষেত্রে  এটি  বিনা  চিকিৎসা  ভালো  হওয়ার  সম্ভাবনা  কম।  এজন্য  তাদের  চিকিৎসা  অবলম্বন  করা  উচিত। প্রচলিত  এলোপ্যাথিক  চিকিৎসা  পদ্ধতিতে  ভাইরাস  বিরোধী  ঔষধ  তেমন  একটা  নাই  এবং  যাও  আছে  তার  দাম  খুবই  বেশী।  শুনেছি  এই  কারণে  তথাকথিত  লিভার বিশেষজ্ঞরা  নাকি  হেপাটাইটিস  রোগের  চিকিৎসায়  দুই-তিন  লক্ষ  টাকার  বিল  করে  থাকেন।  তার  মধ্যে  আছে  কয়েক  মাস  ক্লিনিক  বাস,  পাঁচ  হাজার  টাকা  দামী ত্রিশটি  ইনজেকশান  ইত্যাদি  ইত্যাদি।  কিন্তু  হোমিও  চিকিৎসায়  অন্তত  একশ  গুণ  কম  খরচে  হেপাটাইটিস  নিরাময়  করা  যায়।  এজন্য  আপনাকে  ক্লিনিকেও  ভর্তি  হতে হবে  না  এবং  ইনজেকশানের  ব্যথাও  সহ্য  করতে  হবে  না।  কেবল  বাড়িতে  বসে  মিষ্টি  মিষ্টি  ঔষধ  মুখে  খেলেই  চলবে।  মহাত্ম  গান্ধী  প্রচলিত  (এলোপ্যাথিক) চিকিৎসা  পদ্ধতিকে  অভিসম্পাত  করতেন  এবং  নিজের  অসুখ-বিসুখে  হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা  অবলম্বন  করতেন।  এমনকি  ইংল্যাণ্ডের  রাজপরিবার  গত  দুইশ  বছরেও হোমিও  ঔষধ  ভিন্ন  অন্য  কোন  ঔষধ  সেবন  করেনি।  শেষকথা  হলো,  রোগমুক্ত  থাকার  জন্য  যে-সব  শর্ত  আমাদের  মেনে  চলা  উচিত  তা  হলো- পুষ্টিকর  খাবার  গ্রহন করা,  পর্যাপ্ত  শারীরিক  পরিশ্রম  বা  ব্যায়াম  করা,  যথেষ্ট  পরিমাণে  বিশ্রাম  নেওয়া  এবং  শরীরের  জন্য  ক্ষতিকর  বিষয়সমূহ (যেমন-ঔষধ, ভ্যাকসিন, মাদকদ্রব্য, লাম্পট্য ইত্যাদি)  থেকে  দূরে  থাকা।  অন্যথায়  আপনি  হাজার  বার  টিকা  নিয়েও  রোগের  হাত  থেকে  নিস্তার  পাবেন  না।  আসুন  আমরা  সবকিছু  সম্পর্কে  জানার  চেষ্টা  করি এবং  এভাবে  নিজেদেরকে  সর্বনাশের  হাত  থেকে  রক্ষা  করি।

 

   প্রভাষক.ডাঃ এস.জামান পলাশ
জামান হোমিও হল

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট,চাঁদপুর

01711-943435 ইমো 01919-943435
চাঁদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ইমেইল-dr.zaman.polash@gmail.com

ওয়েব সাইটwww.zamanhomeo.com

 

No comments হেপাটাইটিস  ভ্যাকসিন  থেকে  সাবধান !

মন্তব্য করুণ

Chandpur News On Facebook
দিন পঞ্জিকা
January 2018
S M T W T F S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
বিশেষ ঘোষণা

চাঁদপুর জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য,জ্ঞানী ব্যাক্তিত্ব,সাহিত্য নিয়ে আপনার মুল্যবান লেখা জমা দিয়ে আমাদের জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে তুলুন ।আপনাদের মূল্যবান লেখা দিয়ে আমরা গড়ে তুলব আমাদের প্রিয় চাঁদপুরকে নিয়ে একটি ব্লগ ।আপনার মূল্যবান লেখাটি আমাদের ই-মেইল করুন,নিম্নোক্ত ঠিকানায় ।
E-mail: chandpurnews99@gmail.com