হিন্দুদের ‘শহীদ’ লেখায় ওলামা লীগ সভাপতির মামলা

images
কোর্ট রিপোর্টার
মুক্তিযুদ্ধে নিহত হিন্দু শহীদদের উদ্দেশে আগামী ৪ অক্টোবর রমনা কালী মন্দিরে আয়োজিত গণশ্রাদ্ধ ও শহীদদের জন্য সর্বধর্মীয় গণপ্রার্থনা অনুষ্ঠান নিয়ে ঢাকার আদালতে মামলা করেছে জাতীয় ওলামা লীগ। এর ফলে দেশে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে যা দাঙ্গা-হাঙ্গামায় রূপ নিতে পারে।
গতকাল সোমবার জাতীয় ওলামা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা মজিবুর রহমান চিশতী ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির হয়ে এ মামলা করেন।
গণশ্রাদ্ধ ’৭১-এর সমন্বয়ক ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের প্রধান উপদেষ্টা ্ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জয়ন্ত সেনসহ ৬ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হলেন, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম সম্পাদক অরুণ মজুমদার, দফতর সম্পাদক রিপন দে, রমনা কালীমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দয়াময় বিশ্বাস ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী।
মামলায় বলা হয়, শহীদ শব্দটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত। হিন্দু ধর্মে শহীদ শব্দের কোনো স্থান নেই। হিন্দু মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ বলা যাবে না। আগামী ৪ অক্টোবর রমনার কালীমন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিলিকৃত লিফলেটে হিন্দু মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ বলে উল্লেখ করার মাধ্যমে শব্দটিকে বিকৃত করা হয়েছে।
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধে নিহত হিন্দু শদীদদের উদ্দেশে গণশ্রাদ্ধ ও শহীদদের জন্য সর্বধর্মীয় গণপ্রার্থনা’য় ২ লাখ হিন্দু সমাগম করে ধর্মের নামে অধর্ম পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ অনুষ্ঠান হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে যা দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করতে পারে। এ নিয়ে হিন্দুদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে তারা নেই বলেও জানিয়েছেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।