হাজীগঞ্জ অগ্রণীব্যাংক ভূয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে ।

সাখাওয়াত হোসেন মিথুনঃ
হাজীগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংক শাখায় তথ্য গোপন করে অস্থিত্ববিহীন মেসার্স ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভুয়া কম্পিউটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ১০লাখ টাকা দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে। এ ঘটনা জানা জানি হলে গ্রাহকদের মধ্যে হৈইচই শুরু হয়। ঘটনার বিবরণে ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলা ৩নং কালচো উত্তর ইউনিয়নের সিহিরচো গ্রামের মৃত আঃ রব এর ছোট ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম লিটন ঋনের জন্য হাজীগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংক শাখায় আবেদন করেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ঋণ নিতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হয়। জহিরুল ইসলাম লিটন হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে গত ১৭ জুলাই মেসার্স ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে বলে একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন করেন। ঐ লাইসেন্স উলেস্নখ করেন হাজীগঞ্জ বাজারের হোটেল পট্রির হাসেম পস্নাজার ৫তলায় কম্পিউটার ও ফটোকপি করা হয়। ভূয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে এবং হাজীগঞ্জ অগ্রনী ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ফরমের শর্তের মধ্যে যা আছে, তা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকে ম্যানাজারের সাথে প্রতারণা করে ১০ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করেন। এবং ঋণ অনুমোদনের পর ব্যাংক থেকে গত বৃস্পতিবার ২৬ সেপ্টম্বর ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালামাল ক্রয় করবে বলে সাড়ে সাত লাখ টাকা উত্তোলন করে। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাংক কর্মকর্তারা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির সন্ধান মেলেনি পায়নি। পরে জহিরম্নল ইসলামকে খোঁজ করলে সে জানায় ঢাকায় আছি। এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকে হাজীগঞ্জ শাখার ম্যানাজার লোকমান হাজরা জানান, জহিরম্নল ইসলাম লিটন ব্যাংকের একজন গ্রাহক। ঐ সুবাধে সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে বলে ঋণের জন্য প্রস্ত্মাব করে। আমি ও আমার লোন অফিসার রাশেদুল ইসলাম তার ফাইল ঠিক করে কুমিলস্না আঞ্চলিক শাখা থেকে ১০ লÿ টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়। এর মধ্যে সে ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহম্পতিবার সাড়ে সাত লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। কিন্তু ঋণ দেয়ার ৩/৪ দিনের মধ্যে খবর পেলাম মেসার্স ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ নামে হাজীগঞ্জ বাজারে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। তাÿণিক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপÿকে অবহিত করি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমি ঋনের টাকা আদায়ের জন্য জহিরুল ইসলাম লিটনকে বহুবার বলেছি ব্যাংকে আসার জন্য। কিন্তু সে এখন পর্যন্ত্ম আসেনি। তিনি আরোও বলেন, আমি জহিরুল ইসলাম আমার সাথে এ ধরণের প্রতারণা করবে তা আমি ভাবতে পারি না। প্রতারণার ফাঁদে ভুয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়ে বিপাকে আছি। জহিরুল ইসলাম লিটন টাকা ফেরত না দিলে ব্যাংকের পÿ থেকে তার বিরম্নদ্ধ মামলা করবে। এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের কুমিলস্না অঞ্চলের ডিজিএম শরীফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসার সাথে সাথে আমি ম্যানাজারের কাছে জানতে চেয়েছি মেসার্স ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজের নামে যে ঋণ দিয়েছেন সে প্রতিষ্ঠান বাস্ত্মবে আছে কিনা। কিন্তু ম্যানাজার উত্তর দিতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান ভুয়া প্রমাণিত হলে ঋণ বাতিল হবে এবং ব্যাংকে ম্যানাজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না।