হাজীগঞ্জে যুবক হত্যার ২ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন঳তিনজনকে গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় গলা কেটে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন(১৯)কে খুন করার দুই দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৮টায় খুনের সাথে জড়িত থাকা তিন যুবককে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরির্দশক শাহীদ হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি বড় বাড়ী শাজাহানের ঘর থেকে আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে শাওন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতরা হলো, দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই ফকির বাড়ীর রবি উল্যাহ’র ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৯), তিতাস উপজেলার শেলাকান্দি গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে মুসা (৩০) ও একই উপজেলার বড়বাড়ীর শাহজাহানের ছেলে আলাউদ্দিন (৩০)।

এ ঘটনায় নিহত আসাদের বাবা রফিকুল আলম বাদী হয়ে ২৪ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামাদের বিবাদী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৮।

রহস্য উদঘাটনের রহস্য জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসাদের সাথে আড্ডা দেয়া তিন যুবকের মধ্যে এক যুবক স্থানীয় খিলপাড়া জাহাঙ্গীরের শ্যালোক। ওই জাহাঙ্গীরের সাথে কথা বলে তার শ্যালোক সাদ্দাম সর্ম্পকে নিশ্চিত হয়।

থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী রহিমা খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কৌশলে সহযোগিতা নিয়েছি। ওই স্ত্রীর তথ্য মতে তিনজনকে একই ঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশকে দেয়া আটককৃত সাদ্দামের ভাষ্যমতে, ঢাকায় এক সাথে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে তারা চাকুরি করত। সেখান থেকে পরিচয়। সাদ্দামের স্ত্রী ও বোনের জামাই জাহাঙ্গীরের বাড়ীতে বেড়াতে এসে আসাদের সাথেও দেখা হয়ে যায়। রাতে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করার। স্থানীয় সাহেব বাজার দুইটি দোকানে চুরি করে পরে রাজাপুরা বাজারের আরো একটি দোকানে চুরি করে তারা। তবে মোটা অংকের টাকা না পাওয়ায় আসাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় তিন বন্ধু। পুনরায় এক প্রবাসীর বাড়ীতে চুরি করতে গিয়েও পারেনি। এনিয়ে সাদ্দাম আসাদের বাক-বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম বুকে চাপ দিয়ে বসে আসাদের শরীরে। আলাউদ্দিন দুই পা ধরে রাখে আর মুসা চুরি দিয়ে জবাই করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীদ আরো বলেন, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দিনের বেলায় প্রকাশ্যে দাউদকান্দি বাজারে চুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে একজনকে হত্যা করে সাদ্দাম। ওই ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং ৫০, তারিখ-২৬/০৪/২০১৭। ধারা-৩০২/৩৪। এ মামলায় সাদ্দাম ছাড়াও মুসা (২৮), আলাউদ্দিন (৩০) আসামী রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৪ ডিসেম্বর রবিবার সকালে আসাদুজ্জামান শাওনকে (১৯) হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া মিজি বাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে খিলাপাড়া গ্রামের বকাউল বাড়ীর মো. রফিকুল আলমের ছেলে। নিহত আসাদ ঢাকা সদরঘাট শাখার বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারের পিয়ন হিসেবে চাকুরী করতো।