হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলে ধার করা ডাক্তার দিয়ে

হাইমচর: হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সৃষ্টির পর থেকেই ডাক্তার সঙ্কট থাকলেও বর্তমানে চলছে মহাচিকিৎসা সঙ্কট। ৩ লাখ হাইমচরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় চলছে চরম বিপর্যয়। খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল হক বললেন, ২জন ধার করা ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম; আর যাই হোক এভাবে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালানো যায় না।
হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার ১০টি পদের বিপরীতে একই পরিবারে তিন ভাগ্যবান ভাইবোন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একইদিন নিয়োগ পান যাথাক্রমে আতাইস সামাদ প্রিন্স, সানজিদা সিকদার ও অশুরা সিকদার। এদের মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রায় ১বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি সংস্থা ব্রাক-এর ঢাকা অফিসে কর্মরত আশুরা সিকদার এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায়, গোটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎস্যা সঙ্কটের ভয়াবহ চিত্র। হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কোন বিভাগেই নিজস্ব কোন ডাক্তার পোস্টিং নেই, ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আনকোড়া এডহকে নিয়োগ পাওয়া দু’জন ডাক্তার আঞ্জুম আরা ফেন্সী ও  ডাক্তার নাদিমুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ধার এনে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রিয় পাঠক, তাহলে বুঝতে বাকী নেই যে কিভাবে চলছে নদীভাঙ্গন কবলিত হাইমচর উপজেলার প্রায় ৩ লাখ লোকের চিকিৎস্যা সেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল হক জানান, কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার আশুরা সিকদার কোন কারন ছাড়াই ২০১২-এর নভেম্বর মাস হতে অনুপস্থিত থাকায় তার কার্যালয় থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রথমে ১২/১২/১২-এর দ্বিতীয় দফায় ২/৫/১৩ তারিখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান, এ বিষয়ে (আরসিএইচসিআইবি) প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মাখদুমা নার্গিস আশুরা সিকদারকে প্রথমে ২২/১/১৩ এবং দ্বিতীয় দফায় ১৫/৫/১৩ তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানতম চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদে ৬ বছর পূর্ব থেকে কোন নিয়োগ নেই। ডেন্টাল বিভাগের ডাক্তার তৌফিক এলাহী চৌধুরী অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তার কোন খোঁজ নেই। তিনি জীবিত কি মৃত কেউ জানেনা। অনুপস্থিতির ফলে কোন ডাক্তার নিয়োগ পাওয়া যাচ্ছেনা। টেকনিক্যাল সহকারী কবির হোসেন পাটওয়ারী ডেন্টাল ডাক্তারের দায়িত্ব পালন করছে, কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দূরের কথা হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কোন ডাক্তার না থাকায় উপ-স¦াস্থ্য কেন্দ্রের ধার করা ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে একটি হাসপাতাল চলে? হাইমচরে ডাক্তার পোস্টিং দেয়ার জন্য একাধিক আবেদন চিঠি দেয়া স্বত্বেও ডাক্তার দেয়া হচ্ছেনা।