হাইমচরের যৌনাচার শিক্ষক ইমাম বিএসসি স্কুল থেকে বহিস্কার

2222

মিজান লিটন-

চাঁদপুর নিউজের অনুসন্ধানী রিপোর্টে বেরিয়ে আসে।
ঢাকার পরিমল জয়ধরের কায়দায় স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর ছবি তুলে ইন্টারনেটসহ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে হাইমচর চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যায়ের শিক্ষক লম্পট ইমাম হোসেন বিএসসিকে সাময়িক বহিস্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। গতকাল ৬ অক্টোবর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ইমাম বিএসসিকে বহিস্কার করার বিষয়টি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতিতা শিক্ষার্থীর বাবার লিখিত অভিযোগে হাইমচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩)-এর ১০, অবৈধ যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন পীড়ন করার অপরাধে বিএসসি শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-২, তারিখ ০১/১০/২০১৩। মামলা দায়েরের পর থেকে লম্পট ইমাম বিএসসি পলাতক রয়েছেন।
হাইমচর থানায় রুজু হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন বিএসসি একই স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী (নামপরিচয় দেয়া হলো না)-কে স্কুলের দ্বিতীয় তলায় কম্পিউটার ল্যাবে প্রাইভেট পড়াতেন। বিভিন্ন সময় তার রুমে ডেকে নিয়ে ঐ শিক্ষার্থীকে অশ্লীল কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গী করতেন। ১৪/০২/২০১৩ খ্রিঃ তারিখে স্কুল ছুটির পূর্বে তার রুমে দেখা করতে বললে বিকেল সোয়া ৪টায় উক্ত শিক্ষক ছাত্রীকে জোড়পূর্বক জড়িয়ে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে যৌন কামনার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকার দিতে চাইলে ইমাম বিএসসি তাকে ছেড়ে দেয়। এ সকল অশ্লীল ছবি তার ল্যাপটপের মাধ্যমে তুলে রাখে। লম্পট শিক্ষক শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়ে বলে একথা বাহিরে কারো নিকট যদি বলে দাও এবং তুমি আমার কথায় রাজি না হও, তা হলে আমি এসকল ছবি ইন্টারনেটসহ মোবাইলে ছড়িয়ে দেব। শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে বিস্তারিত ঘটনা জানালে শিক্ষার্থীর পিতা স্কুলের সহকারী শিক্ষক বিমল চক্রবর্তীর মাধমে প্রধান শিক্ষককে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শক্রমে সমাজিক মান মর্যাদা চিন্তা করে কোথাও অভিযোগ করিনি। গত২৯/৯/২০১৩ তারিখে এঘটনা ছবিসহ পত্রিকায় প্রকাশ হয়, প্রকাশিত সংবাদটি সত্য। লম্পট শিক্ষক ইমাম বিএসসি ঐ শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টাসহ তাকে ফাঁদে ফেলে কম্পিউটারে ছবি তোলে বিভিন্ন মহলে প্রচার করে ঐ পরিবারের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করে। তাই লম্পট ইমাম বিএসসি’র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দাখিল করে।
চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যস্থাপনা কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান জানান, অভিযোগকে কেন্দ্রকরে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি সহকারী শিক্ষক ও কমিটির সদস্য আবুল কাশেম মাস্টারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বিএসসি শিক্ষক ইমাম দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সাময়িক বহিস্কারসহ স্থায়ী বহিস্কারের জন্য প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক প্রণব কুমার সরকার বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারী অভিযোগ প্রাথমিক প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটি সাময়িক বহিস্কারের কথা জানান।
হাইমচর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, প্রমাণাদী থাকায় মামলা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে, লম্পটকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, এঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং ধামাচাপাকারী কেউ রেহাই পাবেনা।