সড়ক বিভাগের গাফলতিতে রাস্তার দু’পাশ গর্তে পরিণত ঳যানজটে নাকাল জেলাবাসী কর্মকর্তাদের অবহেলায় বন্ধ দু’টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন

 নাজমুল হাসান বাঁধন ॥ চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। চাঁদপুর থেকে বিভিন্ন জেলায় যেতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে এই কুমিল্লা সড়ক। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থান দিয়ে যানবাহন যাওয়ার সময় সৃষ্ট যানজটে চাঁদপুর জেলাবাসীসহ বিভিন্ন জেলার লোকজন। যার দু’টি কারণের একটি হলো দু’টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় জেলার সকল সিএনজি গ্যাস নিতে আসে ওয়াপদা গেইট সংলগ্ন সেকটো সিএনজি ফিলিং স্টেশন। আর অপরটি হচ্ছে সড়ক বিভাগের গাফলতিতে রাস্তার দু’পাশ সংস্কারের কাজ অর্ধেক বাকী রাখার কারণে। সরেজমিনে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় ৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। বকেয়া বিল ও অনিয়মের কারণে দু’টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার সিএনজি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিরিয়ালে থেকে শহরের ওয়াবগেইট সংলগ্ন সেটকো সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নেয়। আর এই কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবদি যানজটে মানুষের দুর্ভোগ এখন আকাশচুম্বী। নিয়ম অনুযায়ী সড়ক বিভাগের অধীন রাস্তার দু’পাশ প্রশস্ত করার কাজ চলছে। কিন্তু কাজ অনেকটা ধীর গতিতে চলার কারণে রাস্তার দু’পাশের মাটি বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে আছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বড় বড় বাসসহ ট্রাক, মিনি বাস, মিনি ট্রাক, লরি, সিএনজি ও অটো রিক্সা চলাচলের কারণে রাস্তার দু’পাশের অবস্থা এতটাই বেহাল যে, এখন এই রাস্তার পাশ দিয়ে হেটেও যাওয়া দুস্কর। রাস্তার দু’পাশে পীচ ঢালাই হয়ে গেলে যানজটের অধিকাংশ সমস্যাই সমাধান হতো। সে সকল মানুষ জেলার বাইরে যাতায়াত বিশেষ করে চাকুরীজীবি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘন্টা পর কাক্সিক্ষত স্থানে পৌছে। এ নিয়ে তাদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অনেকের চাকুরী নিয়েও টানাটানি শুরু হয়েছে। সড়ক বিভাগের অধীনে সকল সড়কের কাজই একই ভাবে এগুচ্ছে। কিন্তু সড়ক বিভাগ যদি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের এই অংশ অর্থাৎ ওয়ারলেছ থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত সড়কের কাজ সম্পূর্ণ করেন তাহলে যানজট থাকবেনা বলে অনেকেই জানিয়েছেন। চাঁদপুরের দু’টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট অসুবিধার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আর সিএনজি ড্রাইভারগন। হাজীগঞ্জে থাকা মান্নান সিএনজি স্টেশন মিটারিং টেম্পারিংয়ের কারণে কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানী কার্যালয় কর্তৃক সীল গালা করা হয়। বর্তমানে মিটারিং টেম্পারিং টেস্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ ঠিক হবে কিংবা আবার চালু হবে এই নিয়ে কেউই কিছু বলতে পারছেন না। এদিকে শহরের বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত আমির হোসেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন কয়েকমাসের বকেয়া বিলের কারণে মিটার খুলে নিয়ে আসে বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানী চাঁদপুর কার্যালয়। কিন্তু আমির হোসেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের একাউন্টস ম্যানেজার এসএম বরকত উল্যা জানান, মিটারে সমস্যা থাকার কারণে তা আপাতত বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা কোন যানবাহনকে গ্যাস দিতে পারছি না। কবে নাগাদ ঠিক হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবের কোন উত্তরই দিতে পারেনি এই কর্মকর্তা। বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানী চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জের মান্নান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মিটার টেম্পারিং টেস্টের জন্য খুলে নিয়েছে কুমিল্লা কার্যালয়। আর চাঁদপুর শহরের আমির হোসেন খান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কয়েক মাসের বিল বকেয়া থাকার কারণে মিটার খুলে নেয়া হয়েছে। দু’ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে ওয়াবদা গেইট এলাকার সেটকো ফিলিং সিএনজি স্টেশনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টির মূল কারণ। শহরের ওয়ারলেছ থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ২৪ ঘন্টাই এই যানজট লেগে থাকে। এর কারণে অনেক সময় রোগীবাহি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে। কারণ রোগীর অবস্থা আরো বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। সেটকো সিএনজি ফিলিং স্টেশনও নিচ্ছে না কোন তদারকির ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে এখানকার অবস্থা জগাখিচুড়ি। সাধারণ জনগনের ভোগান্তি লাঘবে এগিয়ে আসার জন্য চাঁদপুর সড়ক বিভাগ ও বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানী এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তাদের প্রতি জেলাবাসীর অনুরোধ জানিয়েছেন চাঁদপুরের আপামর সাধারণ জনগন।