স্বামীই ফেন্সির খুনি- সাংবাদ সম্মেলনে বলে সন্তান ও স্বজনরা

 মোঃনাজমুল হাসান বাঁধন।।

চাঁদপুরে অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ নেত্রী শাহীন সুলতানা ফেন্সি হত্যায় বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ করেছেন তার সন্তান ও স্বজনরা। খুনি বাবার বিচার চেয়ে রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের সন্তান ও স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত ফেন্সির ছোট মেয়ে ফাতেমা শাহীন পুষ্প । পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার মা ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি চাঁদপুর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন। বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বাবা-মায়ের সংসারে আমরা তিন বোন। বড় বোন ফারজানা পদ্ম বিবাহিত। এক কন্যা সন্তান ও স্বামী আরিফকে নিয়ে ইতালি আছেন। আরেক বোন ডা. ফারহানা পাপড়ি বিবাহিত এবং স্বামী নিয়ে জার্মানিতে বসবাস করছেন। আমি ডা. ফাতেমা শাহীন পুষ্প । কুমিল্লা ময়নামতি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস পাস করার পর মেডিসিন বিভাগের ইনডোর অফিসার। ফাতেমা শাহীন পুষ্প বলেন, গত ৪ জুন সোমবার সন্ধ্যায় আমার মা শাহীন সুলতানা ফেন্সিকে খুন করেন বাবা অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগম। আমার বাবা প্রায় ৪ বছর আগে নামে এম বিবাহিতা এবং স্বামী পরিত্যক্ত দুই সন্তানের জননী জুলেখা বেগমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত সবার অগোচরে ওই মহিলাকে বিয়ে করেন। শুনেছি ওই মহিলার গর্ভে তখন একটি কন্যা সন্তান ছিল। আমার বাবার এই অনৈতিক সম্পর্ক ও পরবর্তীতে বিয়ে করা আমার বোনেরা এবং আমার মা কখনোই মেনে নেয়নি। যা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাবার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বাবা আমার মাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আমার বাবা প্রকাশ্যেই আমার মাকে জীবননাশের হুমকি দিতেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোবাইলে আমার মাকে হত্যার হুমকি দিতেন। যা আমার বোনেরা শুনেছি ও দেখেছি। পুষ্প আরো বলেন, গত ৪ জুন সন্ধ্যায় আমার বাবা পূর্ব পরিকল্পনা মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচণায় আমার মাকে খুন করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীর সহযোগিতায় খুনের আলামত নষ্ট করেন। তারা এই খুনকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। খুনের আলামত নষ্ট এবং আগে-পরের নানা ঘটনাই প্রমাণ করে আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামই আমার মায়ের খুনি। আমরা মায়ের খুনির দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্ম, বড় ভাই মো. নঈমুদ্দিন খান, মো. নাছির উদ্দিন খান, ছোট ভাই মো. ফোরকান উদ্দিন খান, বড় জামাতা আরিফুর খান।