সৌদিতে সাত লাখ বাংলাদেশী বৈধ হওয়ার সুযোগ পেলেন ।

মফিজুল ইসলাম চৌধুরী সাগর সৌদি আরব থেকে :: সৌদি সরকারের সাধারন ক্ষমার আওতায় প্রায় তিন লাখ দশ হাজার অবৈধ বাংলাদেশীকে সেবা দিয়েছে রিয়াদস্হ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেদ্দাস্হ বালাদেশ কন্সুলেট । দূতাবাসের সেবার মধ্যে ছিল, আউটপাস ইস্যু, নতুন পাসপোট ইস্যু, পুরাতন পাসপোট নবায়ন ইত্যাদি । প্রায় তের হাজার হুরুবকৃত পুরাতন পাসপোটও বিতরন করা হয়েছে । সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান লেবার কাউন্সিলর ডঃ এমদাদুল হক । মিশন প্রধান আইউব এর সঞ্চালনায় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন, কাউন্সিলর খায়রুল আলম, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন প্রমূখ ।

লেবার কাউন্সিলর সুর্নিদিষ্ট ভাবে জানাতে পারেননি কতজন অবৈধ বাংলাদেশী তাদের কপিল পরির্বতন (নাকাল কপালা বা তানাজ্জল) করতে পেরেছেন কিংবা কতজন অবৈধ বাংলাদেশী আউটপাস নিয়ে দেশে প্রর্ত্যার্বতন করেছেন । তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রিন্টকৃত লিপলেটে বলা হয়, সাধারন ক্ষমা ঘোষনার পর হতে এখন পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশী স্পন্সর (কপিল) ও পেশা পরির্বতনে বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন । বাংলাদেশ বিমানের তথ্য মতে ষোল হাজার অবৈধ বাংলাদেশী আউটপাসের মাধ্যমে দেশে প্রর্ত্যাবর্তন করতে পেরেছেন ।

প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন, পূর্বাঞ্চল বি.এন.পি‘র সভাপতি অধ্যাপক আ ক ম রফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, গোলাম মহিউদ্দীন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সভাপতি ডাঃ মাসুদুর রহমান, কবি ও সাংবাদিক শাহজাহান চঞ্চল, বি.এন.পি নেতা শেখ রুহুল আমীন বাবুল, পূর্বাঞ্চল বি. এন. পি‘র সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন বেপারী, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, ডাঃ শাহ আলম, কবি ফিরোজ খান, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ইংলিশ শাখার চেয়ারম্যান ডাঃ কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলা শাখার চেয়ারম্যান ডাঃ জাকিউল হাসান প্রমূখ । উপস্হিত ছিলেন কমিউনিটির বিশিষ্টজন ।

বক্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লেবার কাউন্সিলর ডঃ এমদাদুল হক বলেন, অনিয়ম কিংবা হয়রানীর সুর্নিদিষ্ট তথ্য প্রমান দিতে পারলে স্হানীয় প্রশাসন বা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করা যাবে । ৩ নভেম্বর ২০১৩ এর মধ্যে অবৈধদের বৈধ অথবা দেশে প্রর্ত্যাবর্তন করতে হবে । বৈধ হতে যাদের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নেই, তাদের স্হানীয় থানায় সাধারন ডায়রি করতে হবে । আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারন ক্ষমার মেয়াদ বর্ধিত হবে না ।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ইংলিশ শাখার চেয়ারম্যান ডাঃ কামরুল ইসলামের উপস্হিতে তার পদত্যাগ এবং বিচার দাবী করেন, অধ্যাপক আ ক ম রফিকুল ইসলাম, ডাঃ মাসুদুর রহমান, ডাঃ শাহ আলম প্রমূখ । তারা বলেন, স্পন্সরশীপ পরিবর্তনের জন্য বাইশ জন ষ্টাফের টাকা এবং পাসপোট নিয়ে, তাদের হয়রানী করা হচ্ছে । স্কুলের কেন্টিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে । অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ অনিশ্চিত । অসংখ্য শিক্ষার্থী ভর্তীর অপেক্ষায় থাকলেও তাদের ভর্তি করছে না । ভিনদেশী প্রিন্সিপলের চাকুরীর বয়স অতিক্রান্ত হলেও বহাল তবিয়তে থাকার রহস্য কোথায় । বাড়ী ভাড়ার দেড় লাখ রিয়াল দুর্নিতী হাতেনাতে ধরা পড়লেও তারা প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত কিভাবে ? জেনারেল মিটিং ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সমস্ত কার্য্যক্রম চলছে । এত বছরেও স্কুলের একটা নিজস্ব ভবন নেই কেন ? কমিউনিটিতে এমনও ব্যক্তি আছেন যারা এই রকম স্কুল করে দিতে পারেন । প্রয়োজন শুধু যথাযথ ভাবে প্রস্তাব নিয়ে আসা ।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলা শাখার চেয়ারম্যান ডাঃ জাকিউল হাসানের উপস্হিতিতে অনিয়মের কথা তুলে ধরেন বিওডি‘র সাবেক চেয়ারম্যান কবি ফিরোজ খান । তিনি বলেন, ষাট জন শিক্ষকের বেতন ষাট রকম স্কেলে কেন? জেনারেল মিটিং এ অভিভাবকদের মতামত নেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বর্তমান কমিটি এখন পর্যন্ত জেনারেল মিটিং ডাকতে পারেনি । ক্ষুদ্র বেতনে কাজ করা প্রবাসীরা অতি কষ্টে জীবন যাপন করে তাদের বাচ্ছাদের স্কুলে পড়ান । তাদের সেই কষ্টের টাকায় অনিয়ম, দুর্নিতী সহ্য করা হবে না ।

জবাবে দুইজন চেয়ারম্যানই তাদের নিরপরাদ প্রমানের চেষ্টা করেন । তারা বলেন, সব কিছুই স্হানীয় প্রসাশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করছেন । তবে তারা স্কুলের নিজস্ব ভবন নির্মান কিংবা স্হান নির্বাচনের জন্য কোন মন্তব্য করেননি ।

তবে ডাঃ জাকিউল হাসান বক্তব্যের শুরুতে দুইটি প্রস্তাব রাখেন দূতাবাসের প্রতি, প্রস্তাব দুইটি হলো, সৌদি নাগরিকত্ব প্রাপ্ত বাংলাদেশীদের দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া এবং দূতাবাসে বাংলাদেশী সাংবাদিকদের তথ্য সহায়তার জন্য প্রেস উইং গঠন করা । এতে বৃহত এই শ্রম বাজারে প্রতিদ্বন্ধি দেশগুলোর অপপ্রচারের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে ।

অবশ্য গত ২৩ অক্টোবর ২০১১ আল খৈয়াম রেস্টুরেন্ট এ, লেবার কাউন্সিলর হারুন অর রশীদ এর সন্মানে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস উইং গঠন করতে মন্ত্রনালয় নির্দেশনা দিয়েছে এবং দুইজন কর্মকর্তাও নিয়োগ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে । কিন্তু বর্তমান দূতাবাস ভবনে আরেকটি নতুন উইং এর জন্য জায়গা না থাকায় তা করা সম্ভব হচ্ছেনা । তবে ডিপ্লোমেটিক জোনে নির্মিতব্য নতুন দূতাবাস ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে তা সম্ভব হবে ।

উল্লেখ্য, স্হানীয় সংবাদ মাধ্যমের সূত্রমতে, দুই লাখ বাইশ হাজার দূইশত নিরান্নব্বইজন ওভারস্টেয়ার সাধারন ক্ষমার সময়ে সৌদি আরব থেকে চুড়ান্ত প্রর্ত্যার্বতন করেছেন (যারা ভিজিট ভিসা এবং ননওর্য়াক ভিসায় এদেশে এসে নিদিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও প্রস্হান করেননি) । আর উক্ত সময়ের মধ্যে আট লাখ উনষাট হাজার সাতাশ জন বিদেশী শ্রমিক সৌদি আরব প্রস্হান করেছেন এক্সিট এবং রির্টান ভিসায় ।