সূর্যের হাসি ক্লিনিকে ভুয়া রিপোর্টের জের চাঁদপুরে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল নবজাতক শিশু ও মা

শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর পুরানবাজার দাস পারায় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্টের কারনে মৃত্যু থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল নবজাতক শিশু ও মা। রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে গর্ভবতী সুমী বেগমকে ’০’নেগেটিভ লিখে রিপোর্ট দেয়। কিন্তু সুমি বেগমের রক্তের গ্রুপ ছিলো ’০’পজেটিভ যা যমুনা ও আলআমিন হাসপাতালে সাত বার পরীক্ষা করে প্রমান পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার গর্ভবতী সুমী বেগম অসুস্থ হয়ে পরলে সন্তার প্রশবের জন্য আলআমিন হাপাতালে নিয়ে আসে তার পরিবারের লোকজন। ডাক্তার সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রশবের সিদ্ধান্ত নেয়। তার রক্ত শূন্নতার কারণে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের রক্তের গ্রুপ টেস্ট রিপোর্টের কাগজ দেখে হাসপাতালের ডাক্তার অপারেশন করার পূর্বেই এক ব্যেগ ’০’নেগেটিভ রক্ত আনতে বলে। অপারেশন করার পূর্বেই সুমি বেগমের স্বজনরা ’০’নেগেটিভ রক্ত সংগ্রহ করে। আলআমিন হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ও ল্যাব টেকনিশিয়ান রুগীর রক্তের গ্রুপ পূনরায় পরীক্ষা করে দেখতে পায় তার রক্তের গ্রুপ ’০’পজেটিভ। সুমির রক্তের গ্রুপ আবারো নিশ্চিত হবার জন্য যমুনা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করে ’০’পজেটিভ দেখতে পায়। একে একে সাতবার রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে রক্তের গ্রুপ টেস্ট রিপোর্ট তা যে ভুল তার প্রমান মিলে।
এদিকে তাৎক্ষনিক রক্ষ না পেয়ে গর্ভবতী সুমী বেগম মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটচট করতে থাকে। সুমির রক্তের গ্রুপ নিশ্চিত হয়ে হাসপাাতালে থাকা তার আত্বীয় বিল্লাল মুন্সী তার শরীর থেকে ’০’পজেটিভ রক্ত দিয়ে সুমীকে শেষ রক্ষা করে। অবশেষে সিজারের মাধ্যমে সুমী বেগমের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ভুল রিপোর্টের কারনে রুগী ও তার পরিবারের লোকজনদের চরম দূর্ভোগে পোহাতে হয়েছে।
জানা যায়, পুরানবাজার দাস পাড়া আমজাদ আলী রোডে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সূর্যের হাসি ক্লিনিক দেওয়া হয়। সূর্যের হাসি ক্লিনিকের কর্মকর্তা মাঠ প্রর্যায় কাজ করতে কয়েকজন পেরামেডিকেল মহিলা নিয়োগ দেয়। তারা পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন বাসায় গিয়ে গর্ভবতী মহীলাদের বিভিন্ন পরিক্ষা নিরীক্ষা করতে ও সেবা নিতে বলে। তেমনী গত কয়েকদিন পূর্বে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের মাঠ প্রর্যায়ে কর্মরত দিলরুবা বেগম পুরানবাজার মমিনবাগ রিনা ভিলার ভাড়াটিয় সুমী বেগমের বাসায় যায়। দিলরুবা বেগম পরিক্ষা করে বিভিন্ন টেস্টের নামে সুমী বেগমের কাছ থেকে ১৭৭০ টাকা নেয়। পরে দিলরুবা বেগম তাদের টেকনিশিয়ান রাজশাহীর মজিবুর রহমানের মাধ্যমে সুমীর রক্তের গ্রুপ ও বিভিন্ন পরিক্ষা করায়। অদক্ষ টেকনিশিয়ান মজিবুর রহমান সুমী বেগমকে ’০’নেগেটিভ লিখে রিপোর্ট দেয়। সেই ভুলের কারনে অপারেশন করার সময় রক্তের গ্রুপ নিয়ে ডাক্তারের হিমসীমে পরতে হয়েছে।
এদিকে পুরানবাজার সূর্যের হাসি ক্লিনির মাঠ প্রর্যায় কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ কনেক ভূক্তভূগীরা। তার তাদের নিদ্ধারীত তালিকা থেকে অনেক বেশী টাকা বিভিন্ন টেস্টের নামে হাতিয়ে নেয়। এছাড়া অদক্ষ ল্যেভ টেকনিশিয়ান মজিবুর রহমানকে দিয়ে পরিক্ষা করে রুগীদের ভুল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভূক্তভূগী সুমী বেগম জানায়, সূর্যের হাসি ক্লিনির মাঠ প্রর্যায় কর্মী দিলরুবা বেগম বিভিন্ন টেস্টের নামে ১৭৭০ টাকা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দেয়। টাকা নেওয়ার পরে তাকে অনেক ফোন করেও পাওয়া তার দেখা মিলেনি। এদের ভুল রিপোর্টের কারনে অপারেশন করার সময় রক্ত নিয়ে জটিলতায় অল্পের জন্য মৃত্যু দেখে রক্ষা পেলাম। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রযোজন আর যাতে করে কোন গর্ভবতী মহিলার ক্ষতিসাধন না হয়।
সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ল্যেভ টেকনিশিয়ান মজিবুর রহমান তার এই চরম ভুল শ্বিকার করে ও এই ধরনের ভুল আর হবে না বলে জানায়।
সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ম্যানেজার শাহেদ রিয়াজ জানায়, সুমী বেগমের রক্তের গ্রুপ পরিক্ষাটি ভুল হয়েছে। আমাদের টেকনিশিয়ান মজিবুর রহমান ভুল করেছে। আর বিভিন্ন পরিক্ষার নামে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে তা প্রমান করতে পেরামেডিকেল দিলরুবাকে নিয়ে সুমি বেগমের বাসায় যাবো।
এদিকে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ম্যানেজার শাহেদ রিয়াজ বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এই প্রতিবেদককে টাকার বিনিময়ে মেনেজ সংবাদ প্রকাশ না করতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।