সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে আয় কর মামলা ও সাজা ওয়ারেন্ডে রাজু চৌধুরী জেল হাজতে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আয় কর মামলা ও চেক জালিয়াতির মামলার সাজা ওয়ারেন্ডের আসামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর ছেলে আমানউল্লা মিজান রাজু চৌধুরীকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে আদালত।
গুলশান থানা পুলিশ রাজু চৌধুরীকে ৩ মামলার আটক দেখিয়ে ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রেরন করেন। রাববার দুপুরে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কেরানীগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরন করেন। শনিবার সকাল ১১ টায় গুলশান থানার এসআই শামিম গুলশানে রাজু চৌধুরীর ফ্লাট বাসা থেকে তাকে গ্রেপতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজু চৌধুরী জমি বিক্রীর নামে গুলশানের ব্যবসায়ী মিজানের কাছ থেকে ৫২ লক্ষ টাকা নেয়। মিজান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করে। সেই ৩টি মামলার মধ্যে ২ টি মামলায় ৬ মাষ করে ১ বছরের সাজা প্রধান করে আদালত। টাংগাইলের হানিফ উদ্দিন আহাম্মেদের ছেলে মামুনুর রশিদ পিন্টুর কাছ থেকে ৪২ লক্ষ টাকা প্রতারনা করে নেওয়ায় সাবেক আমানউল্লা মিজান রাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়তি মামলার ওয়ারেন্ট জারি করেছে আদালত। এছাড়া রাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা ওয়ারেন্ট হয়। সে তার প্রতিষ্টানের কর ফাঁকি দিয়ে সরকারের কয়েক কোটি টাকার কর থেকে বঞ্চিত করেছে।
এছাড়া ৮৪ লক্ষ টাকা আয় কর ফাঁকি মামলায় তার সাজা হয়। সাজা পাপ্ত আসামী হয়ে রাজু চৌধুরী বেশ কয়েক মাষ পালিয়ে থাকার পর পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
রাজু চৌধুরী পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে ও জায়গা বিক্রীর নামে বহু লোকের কাছ থেকে প্রতারনা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
গুলশান থানার এস আই ফেরদৌস আলম জানায়, আমানউল্লা মিজান রাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে আয় কর ফাঁকি ও চেক জালিয়তি সহ বেশ কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো। ঢাকা জজ কোট ও টাংগাইল জজ কোট থেকে এই পর্যন্ত ৫ মামলার ওয়ারেন্টের কপি গুলশান থানায় এসেছে। তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে চাঁদপুরে পালিয়ে ছিলো। অবশেষে তিনি ঢাকায় আসার পর তার বাসা থেকে শনিবার সকাল ১১ টায় আটক করে থানায় নিয়ে আশা হয়। পরে ৮৪ লক্ষ টাকা আয় কর মামলা ও চেক জালিয়াতির ২টি মামলার সাজা ওয়ারেন্ড দেখিয়ে রাজু চৌধুরীকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কেরানীগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরন করেন।
এদিকে রাজু চৌধুরী আটকের ঘটনাটি তার স্ত্রী বেনজীর চৌধুরী আইভী মানুষের কাছে গুজব বলে জানায়। এই প্রতিবেদক বেনজীর চৌধুরীর মুঠোফোনে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলে রাজু চৌধুরী বাসায় বেড রুমে ঘুমিয়ে রয়েছে। রাতে ঘুম থেকে উঠে কথা বলবে।
শনিবার রাতে তিনি গুলশান থানায় গিয়ে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ও পাওনাদারদের ম্যেনেজ করে থানা তাকে থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর ছেলে আমানউল্লা মিজান রাজু চৌধুরীকে জেল হাজতে প্রেরন করার খবর শুনে তাকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।