শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন঳চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাধিক, বিএনপি নিরব

শাহরাস্তি প্রতিনিধি

-শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। হঠাৎ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে বসেন। গত ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করে। এরপর থেকেই শুরু হয় নির্বাচনের তোড়জোড়। উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ দলীয় মনোনয়ন পেতে নিরবে তদবির শুরু করেন। ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র সবাই যার যার মতো করে নেতা-কর্মীদের সমর্থন আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘর গুছিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে তা দেখার বিষয়। উপ-নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামীলীগ থেকে জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহি কমিটির অন্যতম সদস্য মোঃ হুমায়ূন কবির মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উল্ল্যাহ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর সাবেক মেয়র মোঃ মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী মুশু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মকবুল আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শহীদ ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান বিজয়, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু, কুমিল্লা জেলার ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ তাজুল ইসলাম। এছাড়াও বিএনপির থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জহিরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, সাবেক ছাত্র নেতা তরুন সমাজ সেবক উপজেলা যুব দলের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল। এদিকে এ উপ-নির্বাচন নিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির মধ্যে নানা ভেদাভেদ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি। তবে সময় বুঝে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত নেবে দলের নেতারা। সম্ভাব্য প্রার্থীগণ দলীয় প্রতীক পেতে নিরবে তদবির শুরু করেছেন। অনেকেই প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্ততি নিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মনোনীত হুমায়ূন কবির মজুমদার একক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু দলীয় কোনদোল থাকায় তাকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী জয়লাভ করেন। ঐ বছর ২৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী শপথ গ্রহণ করেন। আগামী ২০ মে ২০১৯ সালে এ পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হবে বলে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়। এরই মধ্যে গত ৮ মে দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী চেয়ারম্যান পদ থেকে হঠাৎ পদত্যাগ করেন। ঈদের পরই শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাই ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচনের বিধান থাকায় ঈদের পর তফসিল ঘোষণা হতে পারে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরও জানান, তফসিল ঘোষাণা হলে আমরা আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবো। শাহরাস্তি উপজেলায় এবার নতুন ভোটারসহ সম্ভাব্য মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬শ’ ৪৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৮৩ হাজার ৬শ’ ৯১ জন ও মহিলা ৮৪ হাজার ৯শ’ ৫৩ জন।