শাহরাস্তির বাবুলকে কুয়েতে গুমের অভিযোগ এক ভাগিনা কুয়েতে আরেকজন দেশে গ্রেপ্তার

প্রতিনিধি ঳

শাহরাস্তি উপজেলার আহম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী বাবুল (৫৫) প্রায় দশমাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর পরিবারের আশঙ্কা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে। বাবুলের সন্ধানের জন্যে তাঁর ছেলে শাহাদাত হোসেন কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো বাবুলের কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় বাবুলের এক ভাগিনাকে কুয়েত পুলিশ ও অপরজনকে দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে দুইজন জেলহাজতে রয়েছেন।

অবশেষে বাবুলের পরিবার আদালতের ধারস্থ হয়েছে। গত ১৪ মে বাবুলের ছেলে শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে জেলার শাহরাস্তি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হলেন আহম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত বাবুলের দুই ভাগিনা মোঃ ছোলেমান (৪০), মোঃ কুতুব উদ্দিন (৩০) ও বোন ফিরোজা বেগম (৬০)। কুতুব উদ্দিন কুয়েত প্রবাসী।

কুয়েত দূতাবাসে আবেদন, আদালতে দায়ের করা মামলা ও বাবুলের পরিবার সূত্র জানায়, বাবুল, ছোলেমান ও কুতুবউদ্দিন কুয়েতে হাসাবিয়া শহরে একত্রে কাজ করতেন। তারা একসাথে থাকতেন। তিনজন সেখানে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। ছোলেমান ও কুতুবউদ্দিনের আপন মামা বাবুল। ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে ব্যবসায়িক কাজে বাবুলের কাছ থেকে ছোলেমান সাত হাজার তিনশ’ কুয়েতি দিনার (বাংলাদেশি টাকায় বিশ লাখ চুয়ালি্লশ হাজার) টাকা ধার নেয়। ওই টাকা ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করার লিখিত অঙ্গীকারনামা দেয় ছোলেমান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বাবুল ও তার দুই ভাগিনার মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একদিন রাতে দুই ভাগিনা বাবুলকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। বাবুল বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখেন।

বাবুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ আগস্ট ভিসার মেয়াদ বাড়ানো জন্যে দুই ভাগিনার কাছে বাবুল পাসপোর্ট দেয়। এরপর থেকে বাবুল নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের তিনমাস পর ছোলেমান কুয়েত থেকে দেশে চলে আসেন। এদিকে বাবুলের কোনো সন্ধান না পেয়ে ছেলে শাহাদাত হোসেন ১৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি কুয়েত দূতাবাসে পাঠানো হয়। কুয়েত পুলিশ আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নেয়। তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ছোলেমানের ছোট ভাই কুতুবউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কুতুবউদ্দিন জানান, তার মামা কোথায় কী অবস্থানে আছে, এ বিষয়ে দেশে চলে যাওয়া তার বড়ভাই ছোলেমান সব জানেন।

গত ৮ মে কুয়েত দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) আব্দুল লতিফ খান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কুয়েত প্রবাসী বাবুলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক ও রহস্যাবৃত। কুয়েতের সিআইডি পুলিশের ধারণা নিখোঁজ বাবুল হত্যাকা-ের শিকার হতে পারেন। এ বিষয়ে তারা অনুসন্ধ্যান অব্যাহত রেখেছেন। তবে ছোলেমান বাংলাদেশে অবস্থান করার কারণে প্রকৃত ঘটনা জানা যাচ্ছে না। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্যে উপযুক্ত সংস্থা কর্তৃক ছোলেমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে বাবুলের নিখোঁজের বিষয়ে তথ্য/সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

মূলত আদালতে মামলা দায়ের ও দূতাবাসের নির্দেশনার পর শাহরাস্তি থানার পুলিশ সম্প্রতি ছোলেমানকে গ্রেপ্তার করে। ৯ জুন শাহরাস্তি থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়। ১২ জুন ছোলেমানকে আদালতে নেয়া হলে ম্যাজিস্ট্রেট ছোলেমানের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়। বর্তমানে ছোলেমান জেলহাজতে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার জজকোর্টে ছোলেমানের জামিন শুনানি রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহরাস্তি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে এসব তথ্য এখন প্রকাশযোগ্য নয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যাবলি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কুয়েত দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। আর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে এসব তথ্য পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে পাঠানো হয়েছে। বাবুল কী অবস্থায় আছে এ প্রসঙ্গে শহীদুল ইসলাম জানান, উনি জীবিত না মৃত ছোলেমান এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেন নি।

বাবুলের ছেলে শাহাদাত হোসেন জানান, কুয়েতে পুলিশ কুতুবউদ্দিনকে আটক করার পর ছোলেমান ঘটনাটি আপোসরফা করার জন্যে তাদেরকে চাপ প্রয়োগ করছে। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার বাবার সন্ধানের জন্যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।