“মেডিক্যাল স্নাতক ডিপ্লোমা”(ডিএইচএমএস কোর্স) কে ৫ বৎসর একাডেমিক ও ১ বৎসর ইন্টার্ণী উন্নীত করা এবং”স্নাতক (পাস)”সমমান করা। 

প্রস্তাবিত আইন ও সংশোধনীঃ
“মেডিক্যাল স্নাতক ডিপ্লোমা”(ডিএইচএমএস কোর্স) কে ৫ বৎসর একাডেমিক ও ১ বৎসর ইন্টার্ণী উন্নীত করা এবং”স্নাতক (পাস)”সমমান করা।
-ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম (শিপলু)।
—————————————————————–

প্রারম্ভিকঃ
————
১৯৭২খ্রিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত দিয়ে আইনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পপরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় এবং চালু হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৪ বৎসর ৬ মাস মেয়াদী ডিএইচএমএস কোর্স।
সে সময় অন্যান্য ডিপ্লোমা ২ হতে ৩ বৎসর মেয়াদী হলেও ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স ১৯৭২খ্রিঃ হতে ৪ বৎসর ৬ মাস মেয়াদী। বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্স একাডেমিক ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণী ১ বৎসর করা।

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকে ৫ বৎসর একাডেমিক ও ১ বৎসর ইন্টার্নী উন্নীত করাঃ
——————————————————————-

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ও চারদশকের প্রাচীন ডিএইচএমএস কোর্সকে মানোন্নয়ন এবং যুগোপযোগী করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ৪ বৎসর একাডেমিক ও ৬ মাস ইন্টার্নী পরিবর্তে ডিএইচএমএস কোর্স প্রাতিষ্ঠানিক ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণীশিপ ১ বৎসর করা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন, ২০১৮ (প্রস্তাবিত) প্রণয়ন কমিটির বর্তমান অন্যতম সদস্য জনাব ডাঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড) সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বোর্ড মিটিং এ অালোচনা করা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার। আইন প্রণয়ন কমিটির সন্মানীত অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কারণঃ

নিকট অতীতেঃ এইচএসসি ২ বৎসর মেয়াদী ও স্নাতক (পাস) ২ বৎসর মেয়াদী । মোটঃ ৪ বৎসর।
সে হিসাবে ডিএইচএমএস কোর্স প্রাতিষ্ঠানিক ৪ বৎসর ও ইন্টার্ণীপঃ ৬মাস।

বর্তমানেঃ এইচএসসি ২ বৎসর মেয়াদী ও স্নাতক (পাস) ৩ বৎসর মেয়াদী। মোটঃ ৫ বৎসর।
সে হিসাবে ডিএইচএমএস প্রাতিষ্ঠানিক ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণীশিপঃ ১ বৎসর করা।

সাইকোলজি, আইসিটি, ইএনটি, আলট্রাস্নোগ্রাফী সহ নতুন বিষয় অন্তভুক্ত করা। এনাটমী, ফিজিসিয়ান, গাইনোলজি, প্যাথলজি বিষয় কয়েক পার্টে বিভক্ত করা ও থিউরিক্যাল এবং প্র্যাকটিক্যাল এর পূর্ণমান দ্বিগুণ বাড়ানো। ফলে আগে ডিএইচএমএস কোর্সের পূর্ণমান ২৩০০ এর স্থলে ন্যুনতম পূর্ণমান ৩০০০ বা উর্দ্ধে নম্বরের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

সংক্ষিপ্ত উপাধিঃ “মেডিক্যাল স্নাতক ডিপ্লোমা”
(ডিএইচএমএস কোর্স)
সমমানঃ “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি।

(ইতিপূর্বে যারা পাস করেছে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিএইচএমএস এর বি,এস-সি (পাস) ডিগ্রি সমমান এর “ডিএইচএমএস সমমান সার্টিফিকেট” এর সার্টিফিকেট প্রদান করা)।

বর্তমানে যারা পাস করবে সরাসরি তাদের কে ১ম ও ২য় বর্ষ বাংলাদেশ বোর্ড সার্টিফিকেট দিবে এবং ৩য় বর্ষ, ৪র্থ বর্ষ, ৫ম বর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট প্রদান করবে। অথবা বোর্ড/কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় সব কোর্স মিলে পরীক্ষা ও স্নাতক (পাস) সমমানের সার্টিফিকেট দিবে।

বিশ্বব্যাপি স্নাতক কোর্সের ডিগ্রির প্রথম অক্ষর কেহ “ডি” বা “বি” দিয়ে শুরু। অনেক কোর্স আছে কোর্সের প্রথম অক্ষর “বি” নয় “ডি” দিয়ে শুরু হয়েছে। মূলকথা হলো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সরকার সেই কোর্সের সমমান কি দিয়েছে। সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ০২/০১/২০১৭খ্রিঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরিত পত্রে বিস্তারিত লেখা হয়েছে।

উদাহরণঃ 
বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পাসকৃতদের ৫ বৎসর মেয়াদি বি,এফ,এ (চারুকলা) (প্রফেশনাল ডিগ্রি) কোর্স যা “স্নাতক (পাস)” সমমানের আছে। পাসকৃতদের স্নাতক (পাস) সমমান সার্টিফিকেট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান করে আসছে। তেমনি ভাবে মাধ্যমিক পাসকৃতদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে সরাসরি ৫ বৎসর মেয়াদী (প্রস্তাবিত) “মেডিক্যাল স্নাতক ডিপ্লোমা” এর ডিএইচএমএস কোর্স করা ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (প্রস্তাবিত) এর নিয়ন্ত্রণে ১ বৎসর মেয়াদী ইন্টার্ণীশিপ করা। কাউন্সিল ইন্টার্ণীশিপের সার্টিফিকেট প্রদান করবে।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে নতুন কোর্স চালু করা। যেমনঃ

ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসী (হোমিওপ্যাথি),
ডিপ্লোমা ইন আলট্রাস্নোগ্রাফি,
ডিপ্লোমা ইন নার্সিং,
ডিপ্লোমা ইন প্যাথলজি বিষয় চালু করা।

বাংলাদেশে বর্তমান “জাতীয় শিক্ষা নীতি”র আলোকে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় কোর্সের সরকারী পর্যায়ে স্তর বিন্যাস ও সমমান নির্ধারণঃ
——————————————————————–
(জাতীয় শিক্ষার ৩ টি স্তর)

১। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরঃ

শিক্ষা জীবনের ১ম স্তর হতে ৮ম স্তর = প্রাথমিক শিক্ষা।
(তবে অবকাঠামো গত সমস্যায় ৬ষ্ট হতে ৮ম প্রক্রিয়াধীন)
(মোট ৮ বৎসর) (পিএসসি ও জিএসসি)

২। মাধ্যমিক স্তরঃ

শিক্ষা জীবনের ৯ম হতে ১০ম স্তর (মোট ২ বৎসর) = মাধ্যমিক শিক্ষা (এসএসসি সমমান)
শিক্ষা জীবনের ১১তম হতে ১২তম স্তর (মোট ২ বৎসর)= উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি সমমান)

৩। উচ্চশিক্ষাঃ

স্নাতক (পাস):
শিক্ষা জীবনের ১৩তম স্তর হতে ১৫তম স্তর (মোট ৩ বৎসর) = স্নাতক (পাস) ডিগ্রি সমমান।

স্নাতক (অর্নাস/সন্মান):
শিক্ষা জীবনের ১৩তম স্তর হতে ১৬তম স্তর (মোট ৪ বৎসর) = স্নাতক (অর্নাস/সন্মান) ডিগ্রি সমমান।
শিক্ষা জীবনে

স্নাতকোত্তরঃ
শিক্ষা জীবনের ১৬ তম স্তর ও ১৭তম স্তর (মোট ২ বৎসর) = স্নাতকোত্তর সমমান।
(স্নাতক পাস ডিগ্রি পাস শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য)

শিক্ষা জীবনে ১৭তম স্তর (মোট ১ বৎসর) = স্নাতকোত্তর সমমান।
(স্নাতক অর্নাস/সন্মান ডিগ্রি পাস শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য)

(সূত্রঃ জাতীয় শিক্ষানীতি, বাংলাদেশ)

[ জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে বর্তমানে সময় উপযোগীঃ
“মাধ্যমিক পাস (শিক্ষার স্তর ৯ম স্তর ও ১০ম স্তর)” ও

“ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকে একাডেমিক ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণশীপ ১ বৎসরে উন্নীত করা”।
(৫+১)সর্বমোট ৬ বৎসর করার প্রস্তাব করছি। ডিএইচএমএস শিক্ষার স্তর হবে (১১তম স্তর হতে ১৫তম স্তর)। মোট=৫ স্তর।
মোট=৫ বৎসর ডিএইচএমএস কোর্সের একাডেমিক শিক্ষা। সমমান হবে স্নাতক (পাস) সমমান ]

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন, ২০১৮ (প্রস্তাবিত) ও বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং সংশোধনীঃ
—————————————————————-

জনস্বার্থে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ওয়েব সাইডে না দিয়ে যথাযথ ভাবে বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি সকল পেশাজীবী সমিতি ও দেশের সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের মতামত না নিয়ে কয়েকজন অতি গোপনীয়তার সহিত গোপনে কুচক্রী মহল মনগড়া লিখে দিয়ে ১৪/০৫/২০১৮খ্রিঃ খসড়া পাস করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। আইনে ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান সর্বজন গ্রহণযোগ্য “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি সমমান প্রদান না করে আইনের সংশ্লিষ্ট ১৫পাতা “কোর্সের স্থায়ীত্ব” প্যাড়ায় ২০নং ধারা এর “(খ)” উপধারা ডিএইচএমএস কৃতদের “উচ্চমাধ্যমিক” সমমান শব্দ ব্যবহার করে অপমানজনক ও অমর্যাদাকর এবং স্বার্থবিরোধি।

সেখানে “উচ্চমাধ্যমিক” শব্দ সংশোধন করে “স্নাতক (পাস)” শব্দ প্রতিস্থাপিত করা।
সে সঙ্গে “ডিপ্লোমা” শব্দটি অগ্রভাগে বা পূর্বে মেডিকেল স্নাতক সংযোজন করে “মেডিকেল স্নাতক ডিপ্লোমা” শব্দ প্রতিস্থাপিত করা।
সময়ের প্রয়োজনে স্নাতক (পাস) সমমান/সমতুল্য নিয়ে অন্যান্য সাধারণ ডিপ্লোমা কোর্সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন সমস্যা না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক (পাস) সমমান/সমতুল্য সার্টিফিকেট পেতে সমস্যা না হয় বা জাতীয় সংসদ বা উচ্চ অাদালতে রীট করে স্নাতক (পাস) সমমান/সার্টিফিকেট গ্রহণে বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে এজন্য বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে ও বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে পাসকৃত “জাতীয় শিক্ষানীতি”র আলোকে “৪ (চার) বছর এবং ইন্টার্ণশীপ ৬ (ছয়) মাস সহ মোট ৪ বছর ৬ মাস” তা সংশোধন করে সেখানে “৫ (বছর) এবং ইন্টার্ণশীপ ১ (এক) বছর সহ মোট ৬ বছর” শব্দ প্রতিস্থাপিত করা।

★ ডিএইচএমএস কোর্সকে বর্তমান বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আইন, ২০১৮ (প্রস্তাবিত) আইন ১৫ পাতা “কোর্সের স্থায়ীত্ব” প্যাড়ায় ২০ নং ধারা এর “(খ)” উপ-ধারায় কোর্সের সমমান “উচ্চমাধ্যমিক” শব্দটি সংশোধন করে “স্নাতক (পাস) ডিগ্রি” শব্দ সংযুক্ত না করলে ডিএইচএমএস’দের যে কোন সময় যেগুলো সমস্যা হবেঃ
—————————————————————-

ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান বিএস-সি (পাস) ডিগ্রি না করলে হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ গুলোর ডিএইচএমএস পাস প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ কিভাবে পদবী প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ লিখবে। বেতন স্কেল কিভাবে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষের অনুরুপ পাবে।
অবস্থা হবে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর ডিপ্লোমা পাসকৃতরা জুনিয়র ইন্সট্রাকটর এর মত। এক সময় হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ না হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট হতে পারে। কারণ ডিপ্লোমা আবার উচ্চমাধ্যমিক পাস সমমান দিবে কিভাবে মেডিক্যাল কলেজ লিখবে। আবার ডিপ্লোমা পাসকৃতরা কিভাবে প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ হবে। প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক না জুনিয়র ইন্সট্রাকটর বা সহকারী শিক্ষক বা জুনিয়র শিক্ষক হতে পারে।

এজন্য ডিএইচএমএস কোর্সকে পাকিস্থান রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশে স্নাতক (পাস) সমমান দিতে হবে। বিএইচএমএস কোর্সকৃতদের বিএস-সি (অর্নাস) বা স্নাতক (সন্মান) মান দিলে তারা অধ্যক্ষ, প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক হবে। ভাল বেতন স্কেল ও সুযোগসুবিধা পাবে। বিএইচএমএসকৃতরা হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ এর প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ হবে। ডিএইচএমএসরা নয়। ডিএইচএমএস কোর্সকে স্নাতক (পাস) ডিগ্রি সমমান দিলে মর্যাদা ও সুবিধা পাবে, না হলে নয়।
ইতিপূর্বে ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান ছিলনা অধ্যক্ষ, প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক প্রভৃতি হয়েছে, এখন ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান স্নাতক (পাস) না দিলে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক আর হতে পারবেনা। ফলে যে কেহ ডিএইচএমএসদের বিরুদ্ধে রীট করলে বর্তমান ডিএইচএমএসদের সুযোগসুবিধা বন্ধ হবে।
পাসকৃত শিক্ষার্থীরা সন্মানজনক ভালমানের কর্মসংস্থান হবে না। কারণ কুচক্রী মহল ডিএইচএমএস কোর্সকে “স্নাতক (পাস)” সমমান না দিয়ে “উচ্চমাধ্যমিক” সমমান মান দিলে সে মানের ও বেতন স্কেলের চাকুরি হবে।

এজন্য প্রয়োজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আইন ২০১৮ (প্রস্তাবিত) এর ১৫ পাতা এর “কোর্সের স্থায়ীত্ব” প্যাড়ায় ২০নং ধারা এর (খ) উপ-ধারা সংশোধন করে ডিএইচএমএস কোর্সকে “স্নাতক (পাস)” সমমান করতে হবে।

নতুন প্রস্তাবিত আইনে বোর্ড ও কাউন্সিলের উচ্চপদে সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিএইচএমএস পাসকৃতদের যা থাক না কেন তাদের নয়, তাদের বাদ দিয়ে অবশ্যই বিএইচএমএস’রা পাবে। সেভাবে বিএইচএমএসদের স্বার্থ বিবেচনা করে অাইন সাজানো হয়েছে। আর কখনও অভিজ্ঞতার আলোকে বা সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিএইচএমএসদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর যা থাকনা কেন ডিএইচএমএস’রা আসতে পারবেনা। কারণ দেশে প্রস্তাবিত আইনে চিকিৎসা শিক্ষা বিষয়ক ডিগ্রি ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান অবমূল্যায়ন করে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএইচএমএস কোর্সের সমমান শুধু বিএস-সি নয় বিএস-সি (সন্মান/অর্নাস) করা হয়েছে।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন, ২০১৮ (প্রস্তাবিত) খসড়া কমিটির সম্মানীত সদস্যদেরকে কি নিজ উদ্যোগে এ অমর্যাদাকর ১৫ পাতা “কোর্সের স্থায়ীত্ব” প্যাড়ায় ২০নং ধারা এর “(খ)” উপ-ধারাটি করেছে না তাদেরকে জোড় করে করানো হয়েছে? অাইনের খসড়া কমিটির মধ্যে অন্যতম একজন সন্মানীত সদস্যতো সূত্র মারফতে বলেছেন, তিনি ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি করেছে ও সে হিসাবে তিনি ১৪/০৫/২০১৮খ্রিঃ হোমিওপ্যাথি খসড়া আইনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড মিটিংয়ে স্বাক্ষর করেছে। তাহলে কি পরবর্তিতে তাদের অগোচরে অদৃশ্য হাতে আইন পরিবর্তন করে সাধারণ শিক্ষা “উচ্চমাধ্যমিক” সমমান দেওয়া হয়েছে।

ফিরে দেখাঃ
—————-
১৯৭২খ্রিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত দিয়ে আইনের মাধ্যমে ডিএইচএমএস কোর্স চালু হয়। সে সময় হতে “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি যা বিএস-সি (পাস) সমতুল্য সমমানের জন্য ডিএইচএমএস কৃতরা আন্দোলন ও সংগ্রাম করে আসছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের সময় সরকার ডিএইচএমএস কোর্সকে অমর্যাদাকর উচ্চমাধ্যমিক/এইচএসসি সমতুল্য সমমান দিতে চাইলেও ডিএইচএমএস’রা তা চার দশকে গ্রহণ করেনি। সম্ভবত বিশ্বে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় সামরিক সরকার ও সরকারী আমলাতন্ত্রের প্রভাবে দীর্ঘ চারদশকে রাষ্ট্র কোন সন্মানজনক সমমান নির্ধারণ করতে পারেনি। ফলে রাষ্ট্র পারেনি সন্মানজনক কোন সরকারী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। জাতির বিবেক লজ্জিত ও বিব্রত।

বাংলাদেশে ডিএইচএমএস কোর্সকে সমমান “স্নাতক (পাস) ডিগ্রি” করা সহ প্রধান ৩দফা দাবি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম (শিপলু) কর্তৃক ০৪/০২/২০১৬খ্রিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, চেয়ারম্যান ও রেজিষ্ট্রার বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে লিখিত পত্র প্রদান করা হয়।(সূত্রঃ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, রশিদ নং ১০৫, ১০৬, ১০৬, ১০৭, ১০৮, ১০৯)। পরবর্তিতে ০২/০১/২০১৭খ্রিঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পীকার, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে লিখিত পত্র প্রেরন করা হয়েছিল। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, রশিদ নং ৭৭৮, ৭৭৯, ৭৮০, ৭৮১, ৭৮২, ৭৮৩)। পত্র পেলেও পত্র প্রেরককে অবগত করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভুমিকা পালন করে।

ডিএইচএমএস’রা ঐক্যবদ্ধতার অভাবে ও একাধিক/অসংখ্য হোমিওপ্যাথি পেশাজীবী সংগঠনের মতোভেদে সহ অন্যান্য কারণে ডিএইচএমএস কৃতরা হয়েছে রাজনীতির নোংড়া শিকার ও ব্যবহার। একটি কুচক্রী মহল চায় না ডিএইচএমএস’রা ঐক্যবদ্ধ হোক ও কোর্সের সন্মানজনক সমমান যাতে না পায়। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ওয়েব সাইডে জনস্বার্থে আইনের খসড়ার সকলের মতামত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা দরকার থাকলেও কুচক্রী মহল তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রকাশ করার কোন সুয়োগ রাখেনি। বরং গোপনে তা ১৪/০৫/২০১৮খ্রিঃ ফাইনাল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। যা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সুপষ্ট লংঘন। যদি সকলে গোমড় জেনে যায়। ফলে কুচক্রী মহলের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা হয়েছে ও পেয়ে আসছে। কুচক্রী মহলকে চেনার সময় এসেছে। এসবের শেষ কোথায়?

বর্তমান পদক্ষেপঃ
———————–
স্বাধীনতার চারদশকে (১৯৭২খ্রিঃ হতে অদ্যবধি) প্রথম ২০১৮খ্রিঃ ডিএইচএমএস কৃতদের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ডিএইচএমএস কৃতদের জন্য অমর্যাদাকর খসড়া আইনে ২০নং ধারা এর “(খ)” উপ-ধারাটি সংশোধনের জন্য জেগে ঘুমিয়ে না থেকে আন্দোলনে নামুন। যেমন “শিশু ক্রন্দন (কান্না) না করলে মা সন্তানকে দুগ্ধ পান করায় না”। তেমনি “যথাযথ দাবি, আন্দোলন-সংগ্রাম, মানববন্ধন, স্বারকলিপি, সাক্ষাত প্রভৃতি প্রদান না করলে দাবি আদায় হয়না”।

প্রয়োজনে হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলোতে ছাত্র ধর্মঘট বা শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করুন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বারকলিপি দিন তা ডিএইচএমএস’দের সংবিধানিক অধিকার। হোমিওপ্যাথি পেশাজীবী সংগঠন গুলো বোর্ড চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব এর সঙ্গে সাক্ষাত করুন, লিখিত স্বারকলিপি প্রদান করুন। সঠিক ভাবে এগুলে উচ্চপর্যায়ে সংশোধনের সুয়োগ আছে। প্রয়োজনে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অবৈধ ঘোষণা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদানের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রীট করুন।

পরিশেষঃ
————
বাংলাদেশ এক সময় পাকিস্থানের অংশ ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ হৃদয়ে/অস্তিত্বে ধারণ করি। পাকিস্থানের বিরোধিতা সরকার রাজনৈতিক কারণে করলেও কুটনৈতিক যোগাযোগ সরকার রেখেছে। পাকিস্থানে বাংলাদেশ দ্রুতাবাস আছে। ব্যবসাবাণিজ্য বজায় রেখেছে। পাকিস্থান সময়কার উত্তরাধিক সুত্রে পাওয়া অনেক আইন এদেশে এখনও বলবৎ আছে। বার বার ভারতের উদাহরণ কেন? ভারতে কি বর্তমানে ডিএইচএমএস কোস আছে? কোর্স নেই। ভারত ডিএমএস তারপর ডিএইচএমএস তারপর বিএইচএমএস করা যেত ও সময় লাগত গড়ে মোট প্রায় ৫/৬ বৎসর। অনেক আগেই ভারত ডিএইচএমএস কৃতদের সকলকে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে বিএইচএমএস সার্টিফিকেট দিয়েছে। বর্তমানে ভারতে ডিএইচএমএস কোর্স নেই। বর্তমানে ভারতে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সরাসরি বিএইচএমএস কোর্সে ভর্তি হয়।
পাকিস্থানের মত বাংলাদেশেও বর্তমানে চালু থাকা ডিএইচএমএস কোর্সকে উচ্চমাধ্যমিক/এইচএসসি পাস না করে পাকিস্থানের মত “স্নাতক (পাস)” ডিগ্রি সমতুল্য করুন। কারণ দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশে একমাত্র পাকিস্থান ও বাংলাদেশে ডিএইচএমএস করতে ২/৩ বৎসর নয়, ৪ বৎসর ৬ মাস মেয়াদী কোর্স।

১৯৭২খ্রিঃ যখন অন্যান্য ডিপ্লোমা ২/৩ বৎসর ছিল তখন হতেই ডিএইচএমএস ৪ বৎসর ৬ মাস মেয়াদী। সময়ের প্রয়োজনে নতুন পাঠ্যপুস্তকরূপ অন্তভুক্ত করে ডিএইচএমএস কোর্স ৫ বৎসর ও ইন্টার্ণীশিপ ১ বৎসর করা যায়।
কারণ ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিক সমমান ডিপ্লোমাদের ডাক্তার লেখা বন্ধ করে দিতে পারে। কারণ এইচএসসি সমমান পাস কেন “ডাঃ” লিখবে একথা পরে তারা (বিএইচএমএস পাস কৃতরা) বলবে…। তা অস্বাভাবিক কিছু না।

১৯৯২খ্রিঃ বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ১৮/০৯/১৯৯১খ্রিঃ অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের মান “স্নাতক” সমমান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ১২/০৩/১৯৯২খ্রিঃ সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে পত্র প্রেরক করে। তারপর সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৭/০৮/১৯৯২খ্রিঃ সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রেজিষ্ট্রার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর পত্র প্রেরন করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে উপ-রেজিষ্ট্রার (শিক্ষা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ারম্যান বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড বরারব ডিএইচএমএস কোর্সের সিলেবাস চেয়ে ২১/০৯/১৯৯২খ্রিঃ পত্র প্রেরন করে। তারপর সে সময় বিএইচএমএস কোর্সের সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের কর্মকর্তা/শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং কুচক্রী মহলের সরকারী দপ্তরে অবৈধ্য লবিং করে ডিএইচএমএস কোর্সের “স্নাতক” সমমান প্রদানের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। ফলে ১৯৯২খ্রিঃ হতে ডিএইচএমএস কোর্সের কোন সমমান নির্ধারন হয়নি। এবার ২০১৮খ্রিঃ বাংলাদেশে ১৪/০৫/২০১৮খ্রিঃ বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর বিএইচএমএস’রা কর্মকতা-খসড়া কমিটির বিএইচএমএস বোর্ড সদস্য’রা এবং কুচক্রী মহলের ছত্রছায়ায় নতুন প্রস্তাবিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার আইন, ২০১৮ তা জনমত ও মতামতের জন্য বোর্ডের ওয়েবসাইডে, দেশের সকল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের ও সকল হোমিওপ্যাথি পেশাজীবন সংগঠনের মতামত না নিয়ে ডিএইচএমএস’দের স্বার্থবিরোধি ও অসন্মানজনক আইনে ২০নং ধারা এর “খ” উপ-ধারায় ডিএইচএমএস কোর্সের সমমান “উচ্চমাধ্যমিক” পাস সমমান অতিগোপনে লিখে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অতিগোপনে প্রেরন করেছে।

অবিলম্বে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন, ২০১৮খ্রিঃ (প্রস্তাবিত) বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড হতে ১৪/০৫/২০১৮খ্রিঃ প্রেরিত ডিএইচএমএসদের স্বার্থ বিরোধি গোপনে তৈরী খসড়া আইন অবিলম্বে জনস্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় জনমত যাচাই এর জন্য গোপনে নয়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ওয়েবসাইডে দিয়ে সকলের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ২০নং ধারা এর “খ” উপ-ধারায় ডিএইচএমএস কোর্সকে “স্নাতক (পাস)” সমমান লিখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ, জাতীয় সংসদ হতে প্রস্তাবিত আইন পাস করে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর হয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়ে কার্যকর করি।

আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের সঙ্গে হোমিওপ্যাথি উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য কাজ করি।
জয় হোক বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি’র।

(মতামত)
Language: Bangla.

—————————————————————

লেখক পরিচিতিঃ

ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম (শিপলু)
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)


প্রধান সমন্বয়ক
“বাংলাদেশ ডিএইচএমএস চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ”।
বাংলাদেশ।

(চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রাক্তন সাংবাদিক ও কলামিস্ট)