মতলবে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন মার বিরুদ্ধে ছেলের মামলা ঘাতক আটক

মতলব প্রতিনিধিঃ-
মতলব পৌর এলাকার উত্তর নলুয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে স্ত্রী ফুলমতি বেগমের লাঠির আঘাতে খুন হয়েছেন স্বামী রিঙ্াচালক মোহাম্মদ মল্লিক (৭৫)। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত indexরাতে নলুয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্ত্রী ফুলমতি বেগম (৫৫)কে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে আব্দুল হাকিম গর্ভধারিণী মার বিরুদ্ধে মতলব দৰিণ থানায় মামলা দায়ের করেছে। পারিবারিক কলহ এবং স্বামীর সম্পত্তির লোভে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নিহত রিঙ্াচালক মোহাম্মদ মল্লিক দুই বিয়ে করেন। প্রথমে হাজেরা বেগম নামে ওই এলাকার এক নারীকে বিয়ে করে বেশ কয়েক বছর পর তাকে তালাক দেন। ওই ঘরে দুই ছেলে রয়েছে। পরে তিনি ফুলমতি বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের ছয় সনত্দানের কেহই বাড়িতে থাকে না। দুই মেয়ে থাকে শ্বশুর বাড়িতে। বাড়িতে শুধু স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। স্বামীর বাড়িটুকু নিজের নামে লিখে নেয়ার জন্য প্রায়ই স্বামীকে চাপ দিত ফুলমতি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সারা বছর ঝগড়া চলতো। শুক্রবার দিবাগত রাতেও এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে রাখা ভারী লাঠি দিয়ে স্বামীর মাথায় জোরে আঘাত করে ফুলমতি। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে গিয়ে সেখানেই তিনি (স্বামী) মারা যান। সকালে ফুলমতির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন এবং থানায় খবর দেন। গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল দশটায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফুলমতিকে গ্রেফতার করে এবং নিহতের লাশ ময়না তদনত্দের জন্যে চাঁদপুর মর্গে পাঠায় ।

নিহতের ছেলে আব্দুল হাকিম মল্লিক জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি। বাড়িতে আসার পর আমার মা আমাকে দা নিয়ে দৌড়িয়ে আসলে আমি প্রাণভয়ে সে স্থান ত্যাগ করি। ঐ দিন বিকেল ৪টায় আমার পিতার সাথে প্রথম সংসারের আমার বড় ভাই আঃ কাদিরসহ বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে কথা বলি। আমার বাবাকে প্রায় সময় আমার মা মারধর করতো এবং পূর্বেও একবার হত্যার চেষ্টা করে।

মতলব দৰিণ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল হাকিম মল্লিক বাদী হয়ে তার জন্মদাত্রী মা ফুলমতিকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তির লোভে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ডান পাশের চোখটি উপড়ে ফেলেছে এবং ডান হাতটি ভাঙ্গা রয়েছে।