ভোগান্তির আরেক নাম বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার

স্টাফ রিপোর্টার:

বিদ্যুতের ৩০০ টাকার প্রি-পেইড কার্ড কিনলে ব্যবহার করা যায় ২০৫ টাকার বিদ্যুৎ আর ৫০০ টাকার কার্ড কিনলে মিলবে ৩৯৬ টাকার বিদ্যুৎ। ৩০০০ হাজার টাকার কার্ড কিনলে বিদ্যুৎ মিলে ২৭০০ টাকার। এভাবে হিসেব করলে দেখা যায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে চালু করা বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহক ভোগান্তির আরেক নাম। অফিস চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রি-পেইড কার্ড কিনে আনতে হয় গ্রাহককে। আবার সেই গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয় সার্ভিস চার্জ।
প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ নামে একটা এমাউন্ট গ্রাহক পরিশোধ করতে হচ্ছে। পোস্ট পেইড বিলে এটিছিল নির্ধারিত। এখন প্রতি কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ পরিশোধ করতে হয়।
মিটার হলো বাড়ির মালিকের নামে। মিটারের খরচ বহন করার কথা বাড়িওয়ালা, কিন্তু প্রতিমাসে বিলের সাথে ৪০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে ভাড়াটিয়াকে।
ভ্যাটতো আছেই। সাথে আছে ই-মিটারিং চার্জও।
এই অসংগতিগুলো নিয়ে  গ্রাহক আবদুর রহিম জানালেন- “নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে বিদ্যুৎ কিনতে আসি, তারপরও দেয়া লাগে সার্ভিস চার্জ। সার্ভিস চার্জ দিলাম ভালো কথা, কিন্তু আগেতো ব্যাংক বা মোবাইল দোকান থেকে বিল পরিশোধ করতাম। সময় কম লাগতো, টাইম সেভ হতো। এখন সময় খরচ করে ভাড়া দিয়ে এসেও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হয়। যদি মোবাইলের কার্ডের মতো সিস্টেম হতো, তাহলে আমাদের ভোগান্তি হতো না। টাকার প্যারোতো ভাই আছেই। ৩ হাজার টাকার বিদ্যুৎ কিনলে পাই ২৭শ ২ টাকার বিদ্যুৎ। ”
গ্রাহক তসলিম উদ্দিন জানালেন- “দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যায় কই? অগ্রিম টাকা দিয়েও ঠিকঠাক বিদ্যুৎ পাই না। প্রিপেইড বিল দিলে বিদ্যুৎ কিনতে আসলেও দীর্ঘ লাইন থাকে। প্রচুর সময় নষ্ট হয়। সিস্টেমটা আরো সহজ করা উচিত। যাতে গ্রাহকরা ভোগান্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ কিনতে পারে।”
তিনি বিদ্যুৎ ক্রয় করতে আসলেন  দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলেন- ডিমান্ড চার্জও নিচ্ছেন, সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন। কোনটা কী জন্য নিচ্ছেন? দায়িত্বরত কর্মকর্তা কোন সঠিক উত্তর দিতে পারলেন না।গ্রাহক দিপালী দাশ  বলেন- “ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, মিটার চার্জ, সার্ভিস চার্জ এসব কাটার কারণে ৫০০ টাকার কার্ড কিনে ৪০০ টাকার বিদ্যুৎও ব্যবহার করতে পারিনা। শহরের নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের উপর এই মিটার এখন বোঝা ।”