ভুয়া আইনজীবী শাহনাজ আক্তার ও তার স্বামী পরিচয়দানকারী জাহেদ তাদের বিয়ের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেনি

চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় ভুয়া আইনজীবী শাহনাজ আক্তার রোজি ও তার স্বামী পরিচয় দানকারী ব্যক্তি আবু জাহেদ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের বিয়ের প্রমাণপত্র দেখানোর জন্য ৭ দিন সময় নিয়ে ১৪ দিনেও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরকে তা দেখাতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় জনমনে আটক হওয়ার ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলো। চেয়ারম্যান ঘাট এলাকাবাসী তাদেরকে গত ৭ মে আটক করে অবৈধ সম্পর্ক ও অনৈতিক কার্যকলাপ করার সন্দেহ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল।

ভুয়া আইনজীবী শাহনাজ আক্তার রোজি ও তার স্বামী পরিচয়দানকারী জনৈক আবু জাহেদ আটক হওয়ার পর চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে তাদেরকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে জেল হাজতে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আক্কাস তাদেরকে ৭ মে বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাটস্থ মাওলানা মুজিবুর রহমানের বহুতল ভবনের নিচ তলা থেকে আটক করেছিল। পরে স্থানীয় আইনজীবী নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শাহনাজ আক্তার রোজি ও আবু জাহিদকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেন। এক পর্যায়ে আটকের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুর মডেল থানার দুইজন পুলিশ অফিসার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে। তারা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরে পুলিশ কর্মকর্তা ত্রিনাথ ও অনুপ চক্রবর্তী বাড়ির মালিকের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের নিকট থেকে জানতে পারেন শাহনাজ আক্তার রোজি ও অ্যাডঃ নজরুল ইসলাম এ বাসায় এসে অগ্রিম বাসা ভাড়ার টাকা জমা দিয়ে শাহনাজ আক্তার অবিবাহিত ও ব্যাচেলর বলে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় কাউন্সিলর আঃ মালেক বেপারী। পুলিশ কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার রোজি ও আবু জাহেদকে স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় দেন এবং কাউন্সিলরের নিকট ৭ দিনের মধ্যে তাদের বিবাহের প্রমাণ হিসেবে কাবিননামা দাখিল করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বাড়ির মালিক জানতে পারেন, শাহনাজ ভুয়া আইনজীবী। তার আইনজীবীর কোনো সনদপত্র নেই। সে চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় বহু বাসায় আইনজীবী ও ব্যাচেলর পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিলেও পরবর্তীতে বাসার মালিক দেখতে পায়, তার বাসায় বহু বহিরাগত লোকজন আসা যাওয়া করছে। এসব কারণে বহু বাসা পাল্টাপাল্টি করতে হয়েছে। ৭ মে’র পর অদ্যাবধি শাহনাজ আক্তার রোজি কাবিননামা দাখিল করতে পারেননি। বর্তমান বাসায় এসে শাহনাজ আক্তার রোজি ৭ মে পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রমাণিত হলো, তিনি কোনো আইনজীবী নন, অবিবাহিত এবং অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত।

যেহেতু শাহনাজ আক্তার রোজির কোনো বিয়ে হয়নি। তাই তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারবেন না। সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অপরদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল জেগেছে, কে এই শাহনাজ আক্তার রোজি? যিনি পুলিশের হাতে অপর পুরুষসহ আটক হওয়ার পর অ্যাডঃ নজরুল ইসলামের সহকারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আদালত এলাকায় মামলার তদবির ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে প্রতারণা ও অপকর্ম করে যাচ্ছেন। তার এ প্রতারণার বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। শহরবাসীর দাবি, এ প্রতারক ও অপকর্মকারী নারীর খুঁটির জোর কোথায়? কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে? এ ব্যাপারে শাহনাজের বাসায় আটক হওয়া ব্যক্তি আবু জাহেদের সাথে তার বিয়ের প্রমাণপত্রের ব্যাপারে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আঃ মালেক বেপারীর সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তাদের বিয়ের কোনো প্রমাণপত্র আমার কাছে এসে পেঁৗছে নি। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার আগেতো আমি যোগাযোগ করতে পারি না।

শাহনাজ আক্তার রোজির মুঠোফোনে (০১৮১৮৫২৫৪৬১) ফোন করা হলে বহুবার রিং বাজলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে অ্যাডঃ নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ০১৭১৫০৪৬৯৪০ নাম্বারে ফোন করলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নি।

বাড়ির মালিক তাছলিমা বেগমের সাথে তার নাম্বারে (০১৮১৭৩৮১১৯১) যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি পুলিশের কাছে সব কথা বলেছি। পুলিশ জানতে পেরেছে, সে অবিবাহিত ও ব্যাচেলর না। সে প্রতারণা করে বাসা ভাড়া নিয়েছে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত তার সময় আছে। ৩০ তারিখ বাসা না ছাড়লে পরে ব্যবস্থা নেব। ৩০ তারিখে বাসা না ছাড়লে তাকে বাসায় রাখবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সে ডিসিশন আপনাদের পরে জানাবো।