বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারনে জেলার একাধিক সড়কে কিংবা স্থানে গ্রাহকরা অবরোধ করতে পারে

মিজান লিটনঃ
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিক্ষুব্ধ চাঁদপুরের মফস্বলের হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। গত কয়েক সপ্তাহের imagesভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ইতিমধ্যে জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। অধিকাংশ গ্রাহকের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ সকল গ্রাহক যে কোনো সময় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ নিয়ে গত ক’ দিনে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মাঝে আলাপ আলোচনার ঝড় বইতে দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ মানে গ্রামের বিদ্যুৎ, আর সেই গ্রামগুলোতেই ভয়াবহ লোডশেডিং। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এ এক তামাশা আমাদের সাথে।

চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিকাংশ গ্রাহক গ্রামে অবস্থিত। আর গ্রামের গ্রাহকদের বিল আদায়ের পরিমাণ শতভাগ। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরগুলোতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে হলেও মফস্বলে একেবারে বেহাল অবস্থা। গত কয়েক সপ্তাহে এ লোডশেডিং অতিমাত্রায় বেড়েছে বলে মফস্বলের সকল ব্যবসায় ধস নেমেছে। আর এ থেকেই মফস্বলের গ্রাহকদের সকল ক্ষোভ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকদের উপরে।

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। যার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের দৈনন্দিন লেনদেন ও বিভিন্ন এনজিওর কিসত্দির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এ থেকে ব্যবসায়ীরা একবার ফুঁসে উঠলে জেলার সকল সড়কে অবরোধ সৃষ্টি হবে। আসছে দিনগুলোর যে কোনো দিন যে কোনো সড়কে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ দিকে পল্লী বিদ্যুতের মিটারে ভূতের আছর আছে বলে অনেক গ্রাহক মনে করেন। গত ক’ মাস ধরে পল্লী বিদ্যুৎ অসহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং দিয়ে আসছে। আর গত কয়েক সপ্তাহ তা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। অথচ মজার ব্যাপার হলো প্রতিমাসে যতই লোডশেডিং হোক না কেনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কম এসেছে তা কখনো শোনা যায়নি। এদের মিটারে ভূতের আছর রয়েছে বলে মন্তব্য গ্রাহকদের।

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভয়াবহ লোডশেডিং চলার পরে যখন বিদ্যুৎ আসে তখন তার স্থায়িত্ব দেখা যায় ৮-১০ মিনিট। এরপর আবার চলে যায়। তারও ক’ মিনিট পরে আবার আসে বিদ্যুৎ। এরপর বড় জোর আধা ঘণ্টা কিংবা পৌনে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কদাচিৎ তা ১ ঘণ্টা দেয়া হয়। এরপর যাবে আর ৪-৫ ঘণ্টায় বিদ্যুতের দেখা মিলবে না। ঘন ঘন এ যাওয়া-আসার খেলায় ইলেকট্রনিক্র সামগ্রী একবার চালু হচ্ছে আবার বন্ধ হচ্ছে। বন্ধ হওয়া আর চালু হওয়ার কারণে এসব সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের জন্য সাধারণ খেটে খাওয়া সহজ-সরল মানুষগুলো সরকারকে দায়ী করে কথা বলছে। গ্রামের হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা অথবা বাড়ির সামনে থাকা ছোট ছোট চায়ের দোকানগুলোতে লোডশেডিং নিয়ে কথা উঠামাত্র তা সরকারের কাঁধে চলে যাচ্ছে। এ সময় অনেককে বলতে শোনা যায়, সরকার কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও আমাদের বিদ্যুৎ কই। এ জন্য পল্লী বিদ্যুৎকে দায়ী করতে তেমন একটা দেখা যায় না।

এ সরকারের মাঝামাঝি সময়ে দেশে লোডশেডিং ছিলো না বলে অনেক গ্রাহক স্বীকার করে চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, সরকার আমাদের জন্য হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে। তা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে সেই বিদ্যুৎ এখন কোথায়। আবার অনেককে বলতে শোনা যায় সরকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দেখছে না কেনো? সরকার কি জানে না আমাদের সাথে কীভাবে প্রতারণা করে আসছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এভাবে কয়েক মাস চললে আসছে নির্বাচনে তা সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে বলে অনেককে বলতে শোনা যায়।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজার একেএম সামসুদ্দিন চৌধুরী লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানান, ভয়াবহ তো সারা দেশেই। আমরা জাতীয় গ্রীড থেকে যে বিদ্যুৎ পাই তা চালু হলেই আবার স্ক্যাডারের মাধ্যমে কেটে দেয়া হচ্ছে। আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, কচুয়া এলাকাটা তো মন্ত্রীর এলাকা, তাই স্ক্যাডা ঐ উপজেলায় কম দেয়া হয়।