ফরিদগঞ্জে শাশুড়ি খুন ও পুত্রবধূকে ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে!

আটক দু’জনের একজনকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

ফরিদগঞ্জে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা ও পুত্রবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় ডিবি পুলিশ কাউছার হোসেন (২৩) নামে একজনকে গতকাল রোববার দুপুরে আটক করেছে। কাউছার স্থানীয় সিএনজি স্কুটারচালক খোকন মিয়ার ছেলে। এর আগে পুলিশ শুক্রবার মাহবুব আলম শামীম (১৯) নামে একজনকে আটক করে। এদিকে শাশুড়ি খুন ও পুত্রবধূকে ধর্ষণের ঘটনার নেপথ্য রহস্য প্রায় উন্মোচনের পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। দু’ দিনের মধ্যে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার কারণে এ খুনের ঘটনাটি উন্মোচন হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজনের মাঝে স্বস্তির ভাব দেখা গেছে। ঘটনার রহস্য পুরোপুরি উন্মোচন হলে পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এ খুনের ঘটনা কি নিছক কোনো চুরি-ডাকাতি বা ধর্ষণকে কেন্দ্র করেই, নাকি এখানে পরকীয়া বা অন্য কিছু রয়েছে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে অধিকতর তদন্তে এটি পরিষ্কার হবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ সার্কেল) আফজাল হোসেন জানান, পুত্রবধূ রোকসানা ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। আমরা মামলা তদন্তপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সে অনুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউছার হোসেনকে আটক করা হয়। এছাড়া ইতঃপূর্বে আটক মাহবুব আলম শামীমকে বিশদভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রহস্য চূড়ান্তভাবে উন্মোচন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

ধারণা করা হচ্ছে, পুত্রবধূ রোকসানার সাথে যৌন মিলনের ঘটনা শাশুড়ি দেখে ফেলায় অভিযুক্ত দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে শামীম পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুত্রবধূ রোকসানা এখনো পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে তার ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিপোর্টের অপেক্ষা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের দেইচর গ্রামে প্রবাসী ইউনুছ মিয়ার বসতঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫)কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে ইউনুছ মিয়ার বড় ছেলে প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী রোকসানাকে ধর্ষণের বিষয়টি বের হয়ে আসে।

পুলিশকে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রোকসানা বেগম জানান, রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন লোক তার ঘরে ঢুকে এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তার শাশুড়িকে হত্যা করে। শুক্রবার রাতে নিহত জাহানারা বেগমের মেয়ে মরিয়ম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে পুলিশ সন্দেহবশত ঘটনাস্থলের পাশ থেকে মাহবুব আলম শামীম (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে। শামীম রোকসানার চাচাতো দেবর। তাকে শনিবার সকালে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে ঘটনার পর খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যে ঘরে খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সে ঘরের অবস্থান দেখে বলেছে, দুর্বৃত্তদের ওই ঘরে জোর করে প্রবেশ করার কোনো আলামত তারা খুঁজে পাননি। এখানেই সন্দেহ ঘণীভূত হয় যে, দুর্বৃত্তরা তাহলে কীভাবে ঘরের ভেতর ঢুুকলো?