আজ সোমবার, জানুয়ারী ২২, ২০১৮ ইং, ৯ মাঘ ১৪২৪

পুলিশ কনস্টেবল, স্ত্রীর সাথেও করছেন পুলিশি আচরণ

Friday, December 15, 2017

মতলব উত্তর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের তৃণা বেগম নামে এক গৃহবধূ পুলিশে কর্মরত স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার স্বামী হুমায়ুন কবির (৩১) বার বার যৌতুক চেয়ে তৃণা বেগমকে বিয়ের পর থেকেই শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। হুমায়ুন কবির পুলিশ কনস্টেবল হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই তিনি মারধর করেন। শেষ পর্যন্ত উপায়ন্তর না পেয়ে গত ৯ অক্টোবর চাঁদপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নওদোনা গ্রামের তার স্বামী হুমায়ুন কবির, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম (৪৮), শ্বশুর আঃ ওহাব প্রধান, ননদ তানজিলা বেগম, লাইলী বেগম, লাকী বেগম ও হাবিব উল্লার ছেলে সালাউদ্দিনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৃণা। মামলা নং ৩৬৬/১৭ খ্রিঃ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮/০৭/১৬ তারিখে পারিবারিকভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে তৃণাকে জজিয়তে উঠিয়ে দেন তার পিতা-মাতা। কয়েক মাস ঘর সংসার করার পর তৃণাকে ফুসলিয়ে তার সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান স্বামী হুমায়ুন। পরে তৃণা জানতে পারেন যে, তার স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকাকে ওই অলঙ্কারগুলো দিয়েছেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তৃণাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এমতাবস্থায় তাদের সংসারে ‘তাসকিন আহমেদ’ নামে একজন ছেলে সন্তান জন্ম লাভ করে। ওই শিশুটির দিকে তাকিয়ে নির্যাতনের মধ্যেও সংসার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তৃণা। কিন্তু তার স্বামী হুমায়ুনের যৌতুকের দাবি ও নির্যাতন বেড়েই চলছিলো। তৃণার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার চায় হুমায়ুন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তৃণার পিতা হান্নান প্রধান ৭০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু হুমায়ুন ওই টাকা কাজে না লাগিয়ে প্রেমিকার পেছনে ব্যয় করেন। এ নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর ও নির্যাতন করে তৃণাকে শিশু সন্তানসহ বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এর কিছুদিন পরই হুমায়ুন বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে বুঝিয়ে তৃণাকে নিয়ে যান এবং তার কাছ থেকে আবার ৫ লাখ টাকা যৌতুক চান। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার আসামী সালাউদ্দিন তৃণাকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেন। অন্যান্য আসামী তৃণাকে মারধর, কিল, লাথি, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে এক কাপড়ে শিশু সন্তানসহ পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন। এমতাবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন তৃণা।

তৃণা বেগম বলেন, হুমায়ুন পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হওয়ায় কিছু বলতে না বলতেই আমাকে মারধর করেন। যৌতুক চাইলে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আরো বেশি করে মারধর করতেন। গত ৭ ডিসেম্বর হুমায়ুন ও তার মামাতো ভাই অলিউল্যাহ আমার বাবার বাড়িতে এসে আমার ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে যেতে টানাটানি করতে থাকে। আমি এতে বাধা দিলে সে আমাকে অনেক মারধর করে এবং ঘরের শোকেস ও আলমিরা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। সে আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছে, কিন্তু আমি রিসিভ করিনি। কারণ আদালতে মামলা চলছে। তালাকনামা পাঠানোর পরও সে এসে আমাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাইনি। আমি এ বর্বর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিন তদন্ত করি। কিন্তু ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বলেন, মূলত পারিবারিক বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে দ্বন্দ্ব। আমার শাশুড়ি চায় আমার পিতা-মাতা ও সকল আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে তাদের কথা মত চলি। এটা আমার কাছে সম্ভব নয় বলে জানাই। এসব বিষয় নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিস বৈঠক করে সমাধাও করেছেন। আমার বিরুদ্ধে এসব বিষয় নিয়েই মামলা করেছে। আসলে মামলার এজাহারে উল্লেখিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমিও থানায় জিডি করেছি।

No comments পুলিশ কনস্টেবল, স্ত্রীর সাথেও করছেন পুলিশি আচরণ

মন্তব্য করুণ

Chandpur News On Facebook
দিন পঞ্জিকা
January 2018
S M T W T F S
« Dec    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
বিশেষ ঘোষণা

চাঁদপুর জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য,জ্ঞানী ব্যাক্তিত্ব,সাহিত্য নিয়ে আপনার মুল্যবান লেখা জমা দিয়ে আমাদের জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে তুলুন ।আপনাদের মূল্যবান লেখা দিয়ে আমরা গড়ে তুলব আমাদের প্রিয় চাঁদপুরকে নিয়ে একটি ব্লগ ।আপনার মূল্যবান লেখাটি আমাদের ই-মেইল করুন,নিম্নোক্ত ঠিকানায় ।
E-mail: chandpurnews99@gmail.com