পায়ে ধরে প্লিজ পাপা মাকে আর মেরো না, মাকে নিয়ে চলে যাব

imagesimages
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-
ডাঃ মোঃ আহসান উল্যাহ। তিনি চাঁদপুর শহরের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে নম্র-ভদ্র ও শ্রুতি মধুর ভাষায় কথা বলেন। কোন মানুষ তাকে দেখলে মনে হবে না, তিনি ঘরের বউকে মারেন। বড়দের সামনে আসলে কথাই বলতে চাননা। তার এ ভালো আচরণে চাঁদপুর শহরে বন্ধু বান্ধবের অভাব নেই। শিল্পকলা একাডেমীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সকল সামাজিক কাজে যার অংশগ্রহণ। সে তো কোনোভাবেই নারী নির্যাতনের মতো কাজ করার কথা নয়। এমনি মনে করেন imagesসকলে। কিন্তু তা নয়; তিনি এসব আচরণের আড়ালে আরেক জগতের নারী পিপাসূ আহসান। যিনি একই সাথে ৩জন মহিলার সাথে প্রেম করেছেন। এসব কথাগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাঃ আহসান উল্যার স্ত্রী ডাঃ মাকছুদা আক্তার সীমার এক নিকটাত্মীয় আক্ষেপের সাথে বলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ডাঃ সীমা রান্না ঘরে কাজ করছিলো। এ সময় তার কাছ থেকে স্বামী মোঃ আহসান উল্যা পূর্বে দাবিকৃত যৌতুকের ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে কোন কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই রান্না ঘরে থাকা নারিকেলের কোরানি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত জখম হয়।
এতেও আহসান উল্যা খ্যান্ত হয়নি। তার চুলে ধরে দেয়ালের সাথে ও ফ্লোরে চেপে ধরে লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে গলায় ওড়না পেছিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুঁলানোর চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে। ডাঃ আহসান এসব কথা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ধমকি দেয়। আইনের আশ্রয় নিলে সন্তান ও তাকে জীবনে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।
ডাঃ সীমা জানায়, এ অবস্থা দেখে আমার সন্তান ওয়েসিস (১০), নোভা (৬) ও সাবা (৫) কান্নাকাটি করতে থাকে।
আত্মীয়দের কাছে ডাঃ সীমার ছেলে ওয়েসিস এভাবেই বর্ণনা দেয় পিতার পা ধরে বার বার বলছিলো, ‘প্লিজ পাপা মাকে আর মেরো না, তুমি মায়ের প্রাণ ভিক্ষা দাও। আমরা মাকে নিয়ে চলে যাব।’ মায়ের উপর ডাক্তার পিতার অমানবিক নির্যাতন দেখে ওয়েসিস বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে তার নানু বাসায় গেলে ওয়েসিস মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছিলো না। শুধু ইঙ্গিতে বুঝাচ্ছিলো আর কাঁদছিলো।
এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর ডাঃ মাকছুদা আক্তার সীমা নিজে বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার পীর কাশিমপুর গ্রামের মৃত মোঃ আমির হোসেনের ছেলে ও তার স্বামী মোঃ আহসান উল্যাহকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৮। মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক খালেকুজ্জামান তালতলাস্থ ডাঃ সীমা হাসপাতালে চেম্বার থেকে ডাঃ আহসান উল্যাকে আটক করে। বর্তমানে সে জেল হাজতে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ্য করা হয়, বিগত ১৫ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ডাঃ সীমা ও ডাঃ আহসান উল্যার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের একজন পুত্র ও ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ৬ বছর যাবৎ শহরের তালতলা রোডস্থ ‘নোভাপ্যালেস’-এর ৪র্থ তলায় বসবাস করে আসছে। বিবাহের পর থেকেই আহসান পারিবারিক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সে সীমাকে মারধর করতো। বিগত ছয় মাস পূর্বে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সংসার আর সন্তানের কথা চিন্তা করে পিতার প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে ১৫ লাখ টাকা দেয়। এরপরও আবার সে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং এ উল্লেখিত ঘটনা ঘটায়।
ডাঃ সীমার মা জানায়, বিয়ের পর থেকে সীমা ও তার সন্তানের কথা চিন্তা করে আমি সকল যন্ত্রণা সহ্য করে এসেছি। ছেলের চেয়ে বেশী আদর স্নেহ করেছি জামাইকে। তার যত ধরনের অপরাধ ছিলো, তা ক্ষমা করেছি। কিন্তু আমার মেয়ে সীমা তার অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জীবনে বাঁচার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছে।
তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতি-নাতনীদের সামনে একজন চিকিৎসক পিতা যে ধরনের অমানবিক কাজ করেছে, তা পৃথিবীর কোন মা কিংবা স্ত্রী আশা করে না। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার দাম্পত্য জীবনের অনেক অপরাধ আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনের কথামত মেয়েকে বুঝিয়েছি। তবে সে ঘটনার দিন যে অপরাধ করেছে, তা ক্ষমা করার মত নয়। আইনের লোকজন সঠিক তদন্তে এর বিচার করবেন।