পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে঳প্রতি কেজি ইলিশ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি

প্রতিনিধি ঳ চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, টাস্কফোর্সের অভিযানের পরও অবাধে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে জাটকা ও ইলিশ নিধন করছে অসাধু জেলেরা। এতে করে জাটকা সংরক্ষণের সফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে জেলেরা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কারেন্ট জাল নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠায় ধরা পড়ছে ওই সমস্ত পোনা ইলিশ ও বড় আকারের ইলিশ মাছ। পদ্মা-মেঘনার তীরবর্তী হাট-বাজার, হরিণা ফেরিঘাট, আখনেরহাট, দোকানঘর নদীপাড়ে, আনন্দ বাজার, কোড়ালিয়ার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে জাটকা, টেম্পু ইলিশ ও বড় আকারের ইলিশ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যেসব এলাকায় জাটকা ও ইলিশ ধরছে এবং বিক্রি করছে সেসব এলাকার সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করেছেন, হানারচর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জেলেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে সুযোগ করে দেয়। অভিযানে যে জেলেদের আটক করা হয়, তাদের সামান্য পরিমাণ জরিমানা দিয়ে টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ের জেলেরা। এ ছাড়া অসাধু জেলেরা এখন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নদীতে জাটকা ও ইলিশ নিধনে ক্ষান্ত হচ্ছে না। জেলেরা অনেকেই এখন নিজেরা নদীতে নামছে না। তারা তাদের ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নদীতে নৌকা ও কারেন্ট জাল দিয়ে নামিয়ে ইলিশ ও জাটকা প্রকাশ্যে নিধন করাচ্ছে। এরা ধরা পড়লে এদেরকে শিশু আইনে জরিমানা অথবা মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এদিকে পদ্মা-মেঘনায় দুমাস মাছ ধারা নিষিদ্ধ এমন কথা না মেনে অনেক জেলেই নদীতে নামছে। ফলে নদী জুড়ে জাটকা ও ইলিশ নিধন চলছে।

চর এলাকার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চাঁদপুর নৌ-সীমানায় অবাধে এখন জাটকা, টেমপু ইলিশ ধরা পড়ছে। এসব মাছ দিনের বেলা ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন না করে, দিনের বেলা গোপনে বরফ নিয়ে বরফজাত করে রাতের বেলা ইঞ্জিনচালিত টেম্পু ও ট্রলারযোগে বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে অসাধু জেলেরা। এছাড়া চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে নিধন করা জাটকা ও টেম্পু ইলিশ এক শ্রেণীর ফেরিওয়ালা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে ১শ’ ২০ টাকা থেকে ১শ’ ৪০ টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের চাহিদা বেশি বেড়ে গেছে এবং অনেক চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অনেক দাদনদার জেলেদের দিয়ে ইলিশ আহরণ করে সে ইলিশ ফ্রিজিং করে রাখছে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে। এ উপলক্ষে জেলেরাও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে অনায়েসে নেমে পড়ে। বৈশাখ ছাড়া যে ইলিশ মাছ বিক্রি হয় ১ হাজার টাকায়, সেই ইলিশ বৈশাখ উপলক্ষে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে জেলেরা। বেশি লোভের অপেক্ষায় অনেক অসাধু জেলে নদীতে নেমে মাছ শিকার করছে।

একাধিক সূত্র জানা যায়, দেশে মাছের চাহিদা পূরণে বিশেষ করে ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা ধরা, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। কিন্তু হানারচর, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, পুরাণবাজার রনাগোয়াল এলাকাসহ পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অভিযান না থাকায় এসব জায়গাজুড়ে চলছে জাটকা নিধনের মহোৎসব। মাছ ধরা জালগুলোর ফাঁসগুলো ছোট হওয়ায় ৫ ইঞ্চি থেকে ১০ ইঞ্চির সকল জাটকাই ধরা পড়ছে।