নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

image_10133.pic-26
পুড়ে যাওয়া লাবণীর বোনের অসহায়ত্ব।

ভালোবেসে মানিক চাঁন বেপারীকে বিয়ে করেছিলেন লাবণী আক্তার। সেটা ১২ বছর আগের ঘটনা। সুখেই কাটে দাম্পত্য জীবনের আট বছর। এর মধ্যে আসে দুই সন্তান তাফসির (৬) ও উদয় (২)। কিন্তু পরের চার বছর লাবণীকে লড়াই করতে হয়েছে স্বামীকে মাদক থেকে দূরে রাখতে। কিন্তু হেরে গেছেন লবণী। গত রবিবার রাতে মাদক কেনার টাকা না পেয়ে ভালোবাসার সেই মানিকই রাজধানীর জুরাইনের নিজ বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন লাবণীর গায়ে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন লাবণী (২৭) গতকাল সোমবার রাতে মৃত্যুর কাছে হার মানেন, হার মানেন স্বামীকে মাদক থেকে ফেরানোর সংগ্রামে।

এ ঘটনায় লাবণীর বাবা হেলাল খান জুরাইন থানায় জামাতা মানিককে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। গত রবিবার রাতে ঘটনার পর থেকেই মানিক পলাতক।

লাবণীর ছোট বোন সাথী আক্তার জানান, আট বছর ভালোভাবে সংসার করলেও গত চার বছর ধরে তাঁর দুলাভাই মাদকাসক্ত। প্রায় প্রতিদিনই লাবণীকে মারধর করতেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে লাবণী মাঝেমধ্যে বাবার বাড়িতে চলে যেতেন।

সাথী আরো জানান, মানিক গত রবিবার রাতে মাদক কেনার জন্য লাবণীর কাছে টাকা চান। লাবণী টাকা নেই জানিয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত দেড়টার দিকে লাবণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন মানিক। লাবণীর চিৎকারে বাড়ির লোকজন গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে লাবণীর বাবা হেলাল খান ও শ্বশুর আলেক চাঁন ব্যাপারী গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। সেখানে গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে লাবণী মারা যান।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান চাঁদপুর নিউজকে জানান, লাবণীর নাক, কান, গলা, বুক, হাতসহ শরীরের প্রায় ৫৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লাবণীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মানিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।