ধর্ষণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় -মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বখাটে যুবক

images
শাহরাস্তি প্রতিনিধি-
শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী (১৫)-কে ধর্ষণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে বখাটে যুবকসহ তার সহপাঠিরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর পিতা সেলিম মিয়া বাদি হয়ে গত ৬ অক্টোবর শাহরাস্তি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সেলিম মিয়া তার পরিবার নিয়ে শাহরাস্তি পৌর এলাকার মেহার কালীবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করে আসছে। তার পাশাপাশি বসবাস করেন নিজমেহার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রুহুল আমিন। তার ছেলে বাহাউদ্দিন বাবু (১৬) দীর্ঘদিন যাবত সেলিম মিয়ার ৯ম শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছে। বাবু নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। অভিযোগে সেলিম মিয়া জানান, গত ১ অক্টোবর বিকেলে তার মেয়ে বাসার ছাদ থেকে নামার সময় বাবু তাকে দাঁড় করিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেয় তাতে তার মেয়ে রাজি না হওয়ায় বাবু তাকে থাপ্পড় মারে। বিষয়টি তার মেয়ে তাকে জানালে তিনি নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেন। এ সংবাদ জানতে পেরে বাবু আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারপর গত ৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় বাবু ও তার সহপাঠি ২জনসহ বোরখা পড়ে তার ঘরে প্রবেশ করে। তখন তার মেয়ে পড়া অবস্থায় ছিলো। আসামীরা তার মেয়ের হাত বেধে পরিধেয় বস্ত্র খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ঘরে থাকা তার ছোট মেয়ে ও কাজের মেয়ে ঘটনাটি দেখে চিৎকার করে উঠে। তখন তারা তাদের অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে বখাটেরা সেভিং মেশিন দিয়ে তার মাথা ন্যাড়া করে পালিয়ে যায় এবং এ ঘটনা জানাজানি করলে মোবাইলে ধারণকৃত চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনায় বাহাউদ্দিন বাবু (১৬) ও তার পিতা মাস্টার রুহুল আমিনকে আসামী করে ছাত্রীর পিতা সেলিম মিয়া বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-০২, তাং-০৬/১০/১৩। এতে আরো দু’জন অজ্ঞাত আসামী রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হক মামুন জানান, বিষয়টি নেক্কারজনক ঘটনা। মামলাটি তদন্তাধীন, আসামীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।