দ্বিতীয় বিয়ের খবর শুনে ১ম স্ত্রীর আগমনে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলবগঞ্জ জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন (৩৭) গতকাল ১২ আগস্ট দুপুরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাঁকে মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ নুসরাত জাহান মিথেন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

শিক্ষক ইমাম হোসেনের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩৯) জানান, বিগত কয়েক বছর পূর্বে ইমাম হোসেন তাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসার জীবনে রনক জাহান নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে তার (প্রথম স্ত্রীর) অনুমতি না নিয়ে ইমাম হোসেন বিগত প্রায় ২ মাস পূর্বে নোয়াখালী নিজ এলাকায় ডলি নামে একজনকে বিয়ে করেন। এ খবর শুনে তিনি (প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার) তার স্বামীর কর্মস্থল মতলবগঞ্জ জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন। দুপুরে তার সাথে ইমাম হোসেনের কথা হয়। এক পর্যায়ে ইমাম হোসেন তাকে বিদ্যালয়ে বসিয়ে রেখে কোথায় যেনো চলে যান। পরে বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষককে সাথে নিয়ে তিনি স্বামীর ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখতে পান তার স্বামী মাটিতে পড়ে আছে। তখন তিনি মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশকে খবর দিলে থানার এসআই মোঃ আওলাদ হোসেন ঘটনাস্থলে যান এবং তাকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে আসেন। বর্তমানে ইমাম হোসেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অপরদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বোরহান উদ্দিন জানান, ইমাম হোসেন এ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। তার প্রথম স্ত্রী স্বামীর ২য় বিয়ের খবর শুনে বিদ্যালয়ে আসেন এবং তাকে না পেয়ে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন তিনি ঘুমের ঔষধ খেয়েছেন। পরে থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মতলব দক্ষিণ থানার এসআই মোঃ আওলাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঐ শিক্ষকের ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইমাম হোসেন গত ০১/১১/২০১৩খ্রিঃ তারিখে অত্র বিদ্যালয়ে সৃষ্ট পদে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলিপুর গ্রামে। প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নিজ এলাকায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ২য় স্ত্রী ডলিও নিজ এলাকা নোয়াখালিতে বসবাস করেন।