দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে মার্কা হোক নৌকা

অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান

আবারও আসছে জাতীয় নির্বাচন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বুদ্ধিমত্তা, আদর্শ, সাহসিকতা ও অগ্রযাত্রার রেকর্ড এ যাবৎকালের সকল সরকারের চেয়ে ঈর্ষনীয় এবং উল্লেখযোগ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল সরকার প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সমুদ্র জয় করেছি, ছিটমহল সমস্যার সমধান হয়েছে, সকল বির্তকের অবসান ঘটিয়ে আমাদের নিজের খরচে পদ্মা সেতু নির্মান হচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, উল্লেখযোগ্য হারে ফ্লাই ওভার নির্মানের ফলে এখন যানজট নিয়ন্ত্রনে। এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে খুব সহজে পণ্য নিয়ে যাতায়াত করা যায়। ফলে ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকা, চার লেন রাস্তা নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। পোশাক ও ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশে তৈরী ঔষধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বিশে^র ৩ নম্বর ঔষধ রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমাদের দেশের তৈরী পোষাক বিদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। বিশে^র বিভিন্ন দেশ এখন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এ যেন হেনরি কিসিঞ্জারের কটুক্তি ‘স্বাধীন বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি’-এর বিরুদ্ধে একটি জ¦লন্ত প্রতিবাদ। আজ আর কেউ এদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতে পারবে না। এ সফলতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সফলতা, আওয়ামী লীগ এর সফলতা।
কৃষিতে বাংলাদেশ ব্যাপক ভাবে সফল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন বাংলাদেশ। মৌসুমী ফসল, ফল ও শাকসব্জি এখন সারা বছর পাওয়া যায়। কৃষকদের প্রশিক্ষনের ফলে এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন আর বাংলার মানুষ না খেয়ে মরে না। এমন কি চাল এবং মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ। বাংলাদেশের আম এখন ইউরোপে রপ্তানী হচ্ছে। কৃষক ভাইদের জন্য সহজ কিস্তিতে কৃষিঋণ দেয়া হচ্ছে। পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানী করে বাংলাদেশ ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। বাংলাদেশের চা বিশে^ জনপ্রিয় এবং চা উৎপাদনে বিশে^ চতুর্থ।
মহাকাশ জয় করেছি আমরা। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। ৫,০০০ এর বেশী ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার ৮,২০০ ই-পোস্ট অফিস থেকে জনগন ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে। সব শ্রেনীর মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সহজলভ্য। তার ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিমান বন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মানের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ঋন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত। দারিদ্র বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প এবং ১২১ জন ভিক্ষুককে ঘর নির্মান করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা যেন স্কুলে যায় তার জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই বিনা মূল্যে ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়। সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষকদের বেতন শতভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে ৩১,১৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সেই সাথে ২৬,১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে জাতীয় করণের সকল ব্যবস্থা শেষ পর্যায়ে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনীতি কে বেসামরিকীকরণ করা তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান। কূটনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ সফল। প্রতিবেশী ভারতসহ পশ্চিমা বিশে^র সাথেও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী নিজেদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ব্যেও রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন এবং তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরন করছেন। এই মহান কাজের জন্য রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ^মানবতার মা উপাধি পেয়েছেন এবং তাদেরকে যেন পূনরায় মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া হয় সে জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ^ভারতীতে বাংলাদেশ ভবন উদ্ভোদন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি নজরুল বিশ^বিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং এই সন্মান সূচক ডি.লিট ডিগ্রি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে জনগনের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।
এছাড়াও আছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজের বাস্তবায়ন। জঙ্গিবাদ নির্মূল, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় জিরো টলারেন্স পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সহজ চিকিৎসা সেবা জনগনের কাছে পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যূর হার কমেছে এবং গড় আয়ু বেড়েছে। রাজনীতি উন্নয়নের এ ধারা কে অব্যাহত রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার, বারবার দরকার। তাই আমাদের মার্কা হোক নৌকা।
আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজ পতাকা। স্বাধীনতার চেতনা ধরে রাখতে হলে, দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ দেখতে হলে নৌকার বিকল্প নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে, অকুতোভয় সংগ্রামে বাঙালি শত শত বছরের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিল। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অপরাজনীতির হাত থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। আর কোন যুদ্ধাপরাধী ও ইতিহাস বিকৃতকারীদের বাংলার মানুষ ক্ষমতায় দেখবে না। আসুন আমরা শপথ নেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।
নির্বাচনে জয়লাভের জন্য কোন অপশক্তির কাছে লবিং করার প্রয়োজন বাংলাদেশের আর নেই। ক্ষমতার উৎস বাংলার জনগন। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি বিরাট অর্জন। এটি সমুন্নত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। নৌকার বিকল্প কিছু নাই ।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীবৃন্দের দায়িত্ব অনেক বেশি। সবার ঐক্য খুব প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মানুষের কাছে ঘরে ঘরে সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো সঠিকভাবে দেশের অগ্রযাত্রার কথা জানে না। আবার অনেকেই জানে না, বর্তমান সরকারের অর্জন কি কি? সরকারের অর্জন সম্পর্কে তাই ভালো ভাবে সবাইকে জানাতে হবে। এই দায়িত্বটিই গুরুত্বের সাথে নেতৃ বৃন্দকে পালন করতে হবে। চাঁদপুর জেলায় এ সরকারের আমলে যত উন্নয়ন হয়েছে বিগত দিনে কখনো এত উন্নয়ন হয়নি। চাঁদপুরবাসীর জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে এবং গ্রামে গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ডিজিটাল দেশ গড়ার কার্যক্রম গ্রামে গ্রামে পৌছে গেছে। আগামী নির্বাচনে চাঁদপুরবাসীকে এই উন্নতির উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। কদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে এসে ছিলেন। আমরা কথা দিয়েছি এ জেলার সবগুলো আসন নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেব। সেই কথা আমাদের রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যেতে হবে। চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ একত্রে কাজ করলে নৌকার বিজয় আসবে সুনিশ্চিত। চাঁদপুরবাসীর কাছে অনুরোধ কোন অবস্থাতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কে কখনও ভোট দেবেন না। তাই আমাদের স্লোগান হলো ‘এগিয়ে যাওয়ার মার্কা নৌকা, সফলতার মার্কা নৌকা, স্বাধীনতার মার্কা নৌকা।

লেখক : অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান, সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।