দেনার দায়ে উধাও হয়েছিলেন বলাখালের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন

হাজীগঞ্জের বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন (৩৪) দেনার দায়ে উধাও হয়েছিলেন বলে পুলিশ ও গিয়াস উদ্দিন স্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকা থেকে হাজীগঞ্জ থানা-পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে গত ২৪ মার্চ গিয়াস উদ্দিন বলাখাল থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পরেই ওই শিক্ষকের সহোদর হাজীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের হায়দার আলী হাজী বাড়ির মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন বলাখাল জেএন হাই স্কুল এন্ড কলেজের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক, পাশাপাশি একটি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি গিয়াস উদ্দিন সুদের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তিনি নিজের এবং অন্যের কাছ থেকে টাকা এনে আরেকজনকে দেন। সেই ব্যক্তি সম্প্রতি পুরো টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে গিয়াস উদ্দিন বিপাকে পড়ে যান বিভিন্নজনের টাকার জন্যে। এ থেকেই গিয়াস উদ্দিন নিজ থেকে উধাও হয়েছিলেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে থানা হেফাজতে গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা হলে  জানান, দায়-দেনার কারণে নিজেই আত্মগোপন করেছেন। তিনি নিজের ও অন্যের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ৮ লাখ টাকা মাসিক মুনাফার আশায় হাজীগঞ্জ বাজারের একটি মসজিদের ইমাম মাওঃ মাহবুবর রহমানকে দেন। মাওঃ মাহবুবুর রহমানের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। গত ১৫ দিন আগে তিনি হাজীগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছেন।

গিয়াস উদ্দিনের ভাই মাওঃ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পাওনাদারদের চাপে গিয়াস উদ্দিন আত্মগোপনে গেছেন। তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাবেদুল ইসলাম  জানান, এ শিক্ষক আত্মগোপনে চলে গিয়ে তার বিদ্যালয়, পরিবার-সমাজ আর প্রশাসনকে বিপাকে ফেলেছে। এটা ওই শিক্ষকের নীতি বিবর্জিত কাজ। তিনি শিক্ষক আর ইমাম হিসেবে এমন নীতিবিবর্জিত কাজ করে ঠিক করেননি। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, তার ভাইয়ের মাধ্যমে গিয়াস উদ্দিনকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।