চিকিৎসকের হাতে ধর্ষণের শিকার হলেন কিশোরী

isহাজীগঞ্জে এক পল্লী চিকিৎসকের হাতে ধর্ষণের শিকার হলো কিশোরী। বর্তমানে ওই কিশোরী দেড় মাসের অন্তসত্ত্বা হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এটি ধামাচাপা দিতে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছেন। এ জন্য ধর্ষিতার পরিবার থানা অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছে না। এতে সহযোগিতা করেছেন ধর্ষিতার আপন চাচী খাদিজা বেগম।
ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের সন্না গ্রামের শেখ বাড়ির মৃত শামছল শেখের মেয়েকে একই ইউনিয়নের ফুলচোঁয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও দু’ সন্তানের জনক শফিকুর রহমান মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, চাচী খাদিজা বেগম ও মেয়েটির পরিবারের সাথে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। খাদিজা বেগম পল্লী চিকিৎসক শফিকের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ঔষধ ক্রয় করায় তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক হয়ে উঠে। এ সুবাদে চিকিৎসক শফিকের কাছে মেয়েটিকে পরিচয় করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে খাদিজা বেগম মেয়েটির পরিবারের মোবাইল নাম্বারটি চিকিৎসক সফিককে দিয়ে থাকেন। যা পল্লী চিকিৎসক সফিক ওই মোবাইল নাম্বারে মেয়েটিকে ফোন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা ও হাজীগঞ্জ বাজারের সিনেমা হলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকতেন। এ বিষয়টি দীর্ঘ এক বছর পর্যন্ত উভয়ের মধ্যে গড়ায়। যখন মেয়েটি শুনতে পারলো সফিক তাকে বিয়ে করবে না; তখন সে তার মাকে পূর্ণ ঘটনাটি জানান। তাৎক্ষণিক তার মা এলাকার কয়েকজন মাতাব্বরকে অবহিত করেন। কিন্তু মাতাব্বররা অর্থের বিনিময়ে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি আর সুরাহ করেননি। এ ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মে রোববার সন্ধ্যা ৭টা সফিক মেয়েটিকে ফোন করে বাড়ির পার্শ¦বর্তী মোল্লার বাগানে নিয়ে মুখে চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার আর্ত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে চিকিৎসক শফিককে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে থাকে।
ধর্ষিত মেয়েটি এ প্রতিবেদককে বলেন, শফিক আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে অসামাজিক কাজ করতেন। আর এ সকল কাজে সহযোগিতা করেছেন চাচী খাদিজা বেগম। চাচী কারণে-অকারণে ডাক্তার শফিকের কাছে তাঁকে নিয়ে যেতেন। শেষ ঘটনায় আমাকে এ ধরনের কথা বলেছেন চিকিৎসক সফিক। সে নাকি চাচীর কথামত আমার সাথে অনৈতিক কাজ করেছে। এখন আমি দেড় মাসের অন্তসত্ত্বা। ভিক্টিমের মা বলেন, প্রায় সময় সফিক আমার ঘরে এসে মেয়েকে মোল্লার বাগানে নিয়ে যেতো। এতে আমি বাঁধা প্রদান করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতেন। তার পরও এলাকার লোকদের অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এখন আমার সর্বনাশ। চিকিৎসক শফিকের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেলেও তার স্ত্রী বলেন, তার স্বামী এ ধরনের কাজ করতে পারেনা। তারা স্বামী শফিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।