চাঁদপুর হরিনা নতুন ফেরীঘাট নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

                                                         # মাটির বদলে নদীর পাড় থেকে বালু কেটে রিং বাঁধ দেওয়া
                                                         # পুরাতন ভবন ভাঙ্গার ইট এনে রাস্তার কাজে ব্যবহার
                                                         # লাকড়ী পুরানো বাংলা ইট ভাটার দ্ইু নাম্বার ইট দিয়ে মেকাডম করা
                                                         # সিডিউল মোতাবেক কাজ না অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজস্বে নিন্ম মানের কাজ করানো

শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিনা নতুন ফেরীঘাট ও রাস্তা নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম করার খবর পাওয়া গেছে। অসাধু কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে ম্যেনেজ করে তাদের যোগসাজস্বে নিন্ম মানের কাজ করানোর গুরুত্তর অভিযোগ করেছে এলাকার স্থানীয় লোকজন। সিডিউল মোতাবেক কাজ না করার কারনে এই নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে ঠিকাদারের লোকজনের বাকবিন্ডার সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকবার হরিনা ফেরীঘাটের কাজ বন্ধ করে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনুন্ধানে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, বি.আই.ডব্লিও.টিএর হরিনা নতুন ফেরীঘাট করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যেমে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকায় মতলব ও শরিয়তপুরের যৌথ ঠিকাদার সহিদ এন্ড ব্রাদাস এর নামে কাজটি পায়। কাজের শুরুতেই তারা নতুন ফেরীঘাট করার জন্য পুরান ফেরীঘাটের পাশে খালটি ও তাদের নির্ধারিত জায়গায় নদীর পাড় থেকে ভেকু মিশিন(এসকেবেটর) দিয়ে বালু কেটে রিং বাঁধ দেয়। সিডিউল অনুযায়ী যেখানে মাটি দিয়ে রিং বাঁধ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা নদীর পাড়ের নরম বালু দিয়ে কাজটি করেছে। যা সম্পূর্ন অনিয়ম। বর্ষায় ও নদী উত্তাল থাকার সময়েই এই রিং বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। রিং বাঁধ দেওয়ার পরে ঠিকাদারের এক পাটনার শরিয়তপুরের মামুন বালু দিয়ে জায়গা ভরাটের কাজটি ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মোকাতার গাজীকে দেওয়ার কারনে স্থানীয় যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে তাদের বেশ কয়েকবার বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়েছে।
নদীর পাড় পাইলিং এর জন্য ২৫ ফুট লম্বা গর্জন গাছের বলির জায়গায় ৮/১০ ফুট গাব গাছের চিকুন ছোট বলি দিয়ে পাড় পাইলিং কারনো হয়েছে। বালু ভরাট শেষে হরিনা ফেরী ঘাটেন নতুন রাস্তার কাজের জন্য ঠিকাদার শরিয়তপুর থেকে পুরানো বিল্ডি ভাঙ্গার ইট কম দামে এনে সে কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়া চর থেকে লাকড়ী পুরানো বাংলা ইট ভাটার দ্ইু নাম্বার ইট এনে রাস্তার মেকাডম করাছে যা সম্পূর্ন অনিয়ম হচ্ছে।
সিডিউল মোতাবেক কাজ না অসাধু কর্মকর্তাদের টাকার বিনিময়ে ম্যেনেজ করে তাদের যোগসাজস্বে নিন্ম মানের কাজ করানো হচ্ছে বলে এলাকার স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছে।
তারা আরো জানায়, ঠিকাদারের এক পাটনার শরিয়তপুরের মামুন নিজে সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিএনপির লোকজনদের বালুর কাজটি দিয়ে তাদের পাহাড়ার রেখে ফেরীঘাটের কাজে অনেক অনিয়ম করেছে। ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহীনি বেশি থাকায় ও তাদের প্রভাব বেশি হওয়ায় শরিয়তপুরের ঠিকাদার মামুন তাদের এ কাজে ব্যবহার করেছে।
সরকারী রাস্তার পাশে গাছ কাঁটতে বাঁধা দেওয়ায় বিএনপির লোকজদের সাথে স্থানীয়দের সাথে সোমবার বিকেলে মারা মারি হওয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সেই ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পরে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মোকতার গাজীকে আটক করেছে।
বি.আই.ডব্লিও.টিএর হরিনা নতুন ফেরীঘাট ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকায় কাজে অনেক অনিয়ম করার ও নিন্মমানের কাজের কারনে এর স্থায়ীত্ব অনেকটা কমবে বলে অনেকে ধারনা করছে।
এছাড়া বর্ষার মৌসুমে যে ভাবে নদীর পাড় ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে সেভাবে কাজের মান নিন্ম হওয়ার কারনে আবারো ভেঙ্গে যাওয়ার আশংঙ্খা দেখা দিতে পারে।
এখনি এই নতুন ফেরী ঘাটের কাজটি সঠিক ভাবে তত্তাবোধন করে না করলে এর স্থায়ীত্ব অনেকটা কমবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি হাবু ছৈয়াল জানায়, ঠিকাদার মামুন নিজে এমপি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গীয়ে এই ফেরি ঘাটের কাজে অনেক অনিয়ম করেছে। কেউ এর অনিয়মের পতিবাদ করলে তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করবে বলে হুমকী দেয়।
তারা সিডিউল মোতাবেক কাজ না করে নদীর পাড় পাইলিং ২৫ ফুট লম্বা গর্জন গাছের বলি না দিয়ে সেখানে ৮/১০ ফুট লম্ভা গাব গাছের চিকুন বলি দিয়ে পাড় পাইলিং কারনো হয়েছে। এছাড়া পুরানো ইট এই কাজে ব্যবহার হরেছে। যা সম্পূর্ন অনিয়ম করেছে। এই অনিয়ম করার ঘটনা বেশ কয়েকবার বি.আই.ডব্লিও.টির নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলার পরেও কাজ হয়নি।
এই ব্যাপারে ঠিকাদার এক পাটনার শরিয়তপুরের মামুনের মোবাইলে ফোন করলে তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেনি।
সেখানে দায়ীত্বে থাকা ঠিকাদারের লোকজন জানায়, ঠিকাদারের নিজের ইট ভাটা থেকে এই ইট আনা হয়েছে। এছাড়া পুরানো ইট ভালো থাকার কারনে সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
বি.আই.ডব্লিও.টি এর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউলের কাছে এই অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিডিউল মোতাবেক নতুন ইট দিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে, কিন্তু সেখানে তারা যে পুরানো ইট ব্যবহার করছে তার মান মোটামুটি ভালো ছিলো। ২ নাম্বার ইট দিয়ে কাজ করছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি এই ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।