চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠ সারা বছর অরক্ষিত থাকে

7_8810
মিজান লিটন–
চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠ সারাবছর অরক্ষিত থাকে। এই পবিত্র মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণ করা অতি জরুরী হয়ে পরেছে।
চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে বাউন্ডারি দেয়াল নেই। এখানে কাটা তারের বেড়া আছে। কাটা তারের বেড়া কেটে কয়েকটি যাতায়াতের পথ তৈরি করা হয়েছে। এসব পথ দিয়ে মুলি-বাঁশ কেনার জন্য আসা লোকজন ও বেদে পল্লীর লোকজন যাতায়াত করে। মূল সড়কের পাশে দু’টি গেইট সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। এ কারণে সব সময় ঈদগাহ মাঠটি অরক্ষিত থাকে। গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাণী এখানে অবাধে বিচরণ করে মলমূত্র ত্যাগ করে নোংরা করে রাখে। অপরদিকে অনেক জ্ঞানহীন ব্যক্তি বাউন্ডারির ভেতরে প্রবেশ করে গম্বুজ লাগোয়া ব্রিজের ঢাল দেয়ালের পাশে বসে মলমুত্র ত্যাগ করে। সন্ধ্যার পর ঈদগাহ মাঠে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা বসে মাদক (গাঁজা, ইয়াবা, মদ) সেবন করে। বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড চলায় মাঠটি তার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুর শহরের পালবাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের প্রায় অর্ধ শতাধিক রিক্সাভ্যান ঈদগাহ মাঠের গম্বুজের উত্তর পাশে রাখে। পূর্ব পাশে দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় ব্যক্তি গাছের চারা রেখে বিক্রি করে আসছে। গাছের চারার লতাপাতা ঝড়ে পরে পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
১৯৮১ সালের ২৬ অক্টোবর, ১৪০১ হিজরী ২৪ জেলহজ শুক্রবার তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তখন থেকেই এই ঈদগাহ মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চাঁদপুরের পৌরসভাকে দেয়া হয়। বর্তমানে ঈদগাহ মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। চাঁদপুর পৌরসভা ঈদ উপলক্ষে বছরে ২ বার এই ঈদগাহ মাঠটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে। এরপর সারা বছর মাঠটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে করা হয় না।
চাঁদপুর শহরের মুসল্লিরা বছরে ২টি বৃহৎ ঈদের জামাতে এইখানে নামাজ আদায় করে থাকে। চাঁদপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে। চাঁদপুরের প্রধান ঈদগাহ মাঠের পবিত্রতা বজায় রাখতে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চাঁদপুরবাসী পৌর কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।