চাঁদপুর থেকে অবশেষে রফরফ লঞ্চ -৭ চলাচল বন্ধ

রফিকুল ইসলাম বাবু ॥ ঢাকা-চাঁদপুর নৌ পথে চলাচলকারী রফরফ-৭ ঈদ স্পেশাল রাউন্ড ট্রিপ চলাচলের সাময়িক অনুমতি প্রদান করেছে বিআইডব্লিউটিএ নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ঈদ স্পেশাল হিসেবে ২০ জুন বুধবার পর্ষন্ত অনুমতি থাকলেও ১৮ জুন ঢাকা নদী বন্দর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। দুপুর দেড়টায় লঞ্চটি চলাচলের জন্য চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদপুর নৌ নেট কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম। বুধবার থেকে রফরফ-৭ চাঁদপুর থেকে সময়সীমা না পাওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। ১২ জুন এই আদেশ প্রদান করা হয়। জানা যায়, রাকিব ওয়াটার ওয়েজের যাত্রীবাহী লঞ্চ (এম ০১-১৪৭৮)। যাত্রীবাহী লঞ্চটি দুপুুর দেড়টায় চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এই সময়সীমার মধ্যে লঞ্চটি চলাচল করলে এর আগে ও পরের লঞ্চগুলো যাত্রী হারাতে হচ্ছে। এই জন্য আবে জমজম, মেঘনা রাণী সহ বেশ কয়েকটি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ রফরফ-৭ দুপুর দেড়টায় চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে যেন ছেড়ে না যায় সেজন্য উচ্চ আদালতে মামলা করে। আদালত ৮ সপ্তাহের জন্য লঞ্চটি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঢাকা নদী বন্দরকে ওই আদেশের কপি প্রদান করা হয়। যুগ্ম পরিচালক মোঃ আলমগীর কবির ১৮ জুন একটি আদেশ জারি করেন ঢাকা-চাঁদপুর নৌ পথে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরে বিপুল যাত্রীর সমাগম হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী ঝুঁকির হ্রাস করার এবং যাত্রী সাধারণের নির্বিঘেœ যাতায়াতের সুবিধার্থে কর্র্তৃপক্ষের দপ্তরাদেশ নং-১৯৪৭/১৭, ২২/১০/১৭ইং এর অনুচ্ছেদ-২ অনুযায়ী এম.ভি রফরফ-৭ যাত্রীবাহী নৌযানটির অনুকুলে ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে নির্ধারিত নৌযান ছেড়ে যাওয়ার পরে ঢাকা ছাড়ে রাত ১ ঘটিকায় এবং চাঁদপুর ছাড়ে দুপুর দেড় ঘটিকায়, স্পেশাল/ রাউন্ড ট্রিপ চলাচলের জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে আইনগত জটিলতা পরিহারের স্বার্থেৃ ঢাকা ছাড়ে রাত ১ ঘটিকায় বহাল রেখে চাঁদপুর ছাড়ে দুপুর দেড় ঘটিকায় স্থগিত করা হলো। চাঁদপুর ছেড়ে আসার সময় যাত্রী চাপ বিবেচনা করে বন্দর পরিবহন কর্মকর্তা এবং পরিবহন পরিদর্শক চাঁদপুর নির্ধারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু চাঁদপুরে এই আদেশটি সোমবার রাতে নৌ নেট কর্মকর্তা চাঁদপুুরের শহীদুল ইসলামকে অবগত করানো হয়। তিনি রফরফ-৭ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় লঞ্চটি ছাড়ার জন্য চাঁদপুুর লঞ্চ ঘাটে নিয়ে আসেন। এ সময় বিভিন্ন লঞ্চের সুপার ভাইজার ও ঘাটে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃৃষ্টি হয়। শহীদুল ইসলাম জানান, যাত্রীর চাপ থাকায় রফরফ-৭ লঞ্চটি ঘাটে আনা হয়েছে ্এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষ আগাম কেবিন ও ১ম শ্রেণির টিকেট বিক্রি করেছে। অন্যান্যরা জানান, রফরফ-৭ লঞ্চটি ঈদ স্পেশাল লঞ্চ হিসেবে চলাচল করছে সেহেতু অগ্রিম টিকেট বিক্রির প্রশ্ন আসে না। এসবই নৌ নেট কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের চালাকী। চাঁদপুর নৌ বন্দর কর্মকর্তা আঃ রাজ্জাক জানান, আজকে যেহেতু রফরফ-৭ লঞ্চটি ঘাটে আসার পর যাত্রী সাধারণ উঠেছে সেহেতু লঞ্চটি চলাচল করতে দেয়া হোক। বুধবার থেকে পরবর্তী নির্র্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত রফরফ-৭ চলাচল করতে পারবে না। চাঁদপুর নৌ নেট কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম ১৯ জুন রফরফ-৭ চাঁদপুর ঘাট থেকে দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যাওয়ার জন্য লিখিতভাবে নির্দেশ দেন। ঐ নির্দেশনায় প্রথমে তিনি স্বাক্ষর না করে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে ব্আিইডব্লিউটি’র দায়িত্বে থাকা টিআই মোঃ সুমনকে স্বাক্ষর করার জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নির্দেশ প্রদান করেন। টিআই সুমন নির্দেশনায় স্বাক্ষর না করায় নৌ নেট কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম তাকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ জারি করেন।