চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ডাঃ দীপু মনি এমপি

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী পহেলা এপ্রিল চাঁদপুর আসছেন। এটি পুরো চাঁদপুর জেলার জন্যে অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর আগমন উপলক্ষে জনসভাসহ যেসব কমসূচি রয়েছে, সবগুলো এমনভাবে সফল করবো যেনো তিনি অত্যন্ত খুশি ও তৃপ্ত হয়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকা যান। তিনি চাঁদপুরকে যেভাবে দু হাত ভরে দিয়েছেন তেমনি আমরাও তাঁকে যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শনসহ তাঁর সকল কর্মসূচি স্মরণ রাখার মতো সফল করবো। এর জন্যে যার যার অবস্থান থেকে যা করণীয় তা-ই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়ানোর বা কারো ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য রাষ্ট্রনায়কের মতো শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই নন, তিনি আজ আমাদের গর্বের অনেক বড় জায়গায় রয়েছেন। বিশ্বের ১৭৩ জন রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে, তিনজন সৎ এবং স্বচ্ছ রাষ্ট্রনায়কের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তৃতীয়। আর সিদ্ধান্তগ্রহণে দক্ষতা ও বাস্তবায়নে বিশ্বে প্রথম, মিতব্যয়িতায় প্রথম এবং মানবতায়ও প্রথম। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে সে দেশের সরকার একটি ‘অর্কিড ফুলের’ নাম শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করেছে। এটি অনেক বড় সম্মানের, অনেক বড় গৌরবের। এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক আমাদের চাঁদপুরে আসছেন, আমরা তাঁকে পেয়ে ধন্য হবো।

ডাঃ দীপু মনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা চাঁদপুরে তেমন একটা সন্তোষজনক আসন দিতে পারিনি। তারপরও তিনি চাঁদপুরের উন্নয়নে কার্পণ্য করেন নি। তখনও তিনি চাঁদপুরকে অনেক দিয়েছেন। আর এই নয় বছরে তো কী পরিমাণ দিয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তাই সেদিন যেনো চাঁদপুর-হাইমচর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় সে চেষ্টা থাকবে আমাদের সকলের। চাঁদপুর শহরকে সেদিন পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়তে হবে। তিনি চাঁদপুর শহরের ট্রাকঘাট এলাকায় নদীর পাড়ে ও রাস্তার পাশে অবৈধভাবে ইট-বালুর ব্যবসা সরিয়ে ফেলতে এবং সেখানে অনেক অংশ জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করতে জেলা প্রশাসন ও পৌর মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়া শহরের অন্যত্র যেভাবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে তা থেকে বিরত থাকতে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার যে প্র্যাকটিস চালু হবে সেটি যেনো পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।

বিদ্যুৎ সেক্টর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুতের সেবার পরিবর্তে মানুষ যেনো ভোগান্তির শিকার না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দু-একটি অভিযোগ যে শুনেছি, সেটিও যেনো না থাকে সে চেষ্টা থাকতে হবে। প্রি-পেইড মিটার সম্পর্কে জনগণকে স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে। তাহলে আর কোথাও সমস্যা হওয়ার কথা না। আর পহেলা এপ্রিলকে সামনে রেখে বিদ্যুতের ছোটখাটো সমস্যা থাকলে সেগুলো এর মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে। সেদিন যেনো চাঁদপুরের কোথাও বিদ্যুতের সমস্যা না হয়। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জনমানুষের আসার বিষয়ে দীপু মনি বলেন, শহরের বাইরের মানুষজন কোন্ কোন্ রুটে এসে পরিবহন কোথায় সর্বশেষ স্টপেজ হবে, তারা কোন্ দিক দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকবেন, নদীপথে যারা আসবেন তারা কোথায় নৌযান ভিড়াবেন তা আমাদের আরো মিটিং হবে, একাধিক প্রস্তুতি সভা হবে সেখানে আমরা ঠিক করে ফেলবো। আর স্টেডিয়ামে পানির ব্যবস্থা, বাথরুমের ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম ইত্যাদি বিষয়গুলো আগেভাগেই ঠিক করে ফেলতে হবে। অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফর চাঁদপুরের মানুষের মন উজাড় করা ভালোবাসা, রুচিশীলতা, কৃতজ্ঞতা, শৃঙ্খলা ও ভদ্রতা-নম্রতায় যেনো তাঁর মনে অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকে।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে কোনো ডিপার্টমেন্টের নেগেটিভ কোনো কিছু আমরা দেখতে চাই না। চাঁদপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সভ্যতা ও চেতনাগত দিক দিয়ে এ এলাকা অনেক বেশি এগিয়ে আছে। আমরা যারা সেবা দিয়ে আসছি, তারা যেনো মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক জেলায় সফরে এসে দুটি উপজেলায় প্রোগ্রাম করেছেন তার নজির খুব কমই আছে। কিন্তু আমাদের চাঁদপুরের বেলায় সেটি হচ্ছে। এতেই বুঝা যায় তিনি চাঁদপুরকে কতটুকু ভালোবাসেন এবং প্রধান্য দেন। এ মহান রাষ্ট্রনায়ককে যেনো আমরাও সেদিন দেখিয়ে দিতে পারি, আমরাও তাঁকে কতটুকু ভালোবাসি। তাই এটিকে শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ দেখলেই হবে না, একজন রাষ্ট্রনায়ক আসছেন সে দৃষ্টিকোণ থেকেও আমাদের দেখতে হবে। আর প্রত্যেকের দুটি চোখ যেনো নিজের নিরাপত্তা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দিকে নিবদ্ধ থাকে সেদিকে আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহেমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, পহেলা এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী আমাদের মাঝে আসছেন, এটি আমাদের জন্যে অত্যন্ত খুশির এবং গর্বের বিষয়। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছি চাঁদপুরে তাঁর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, পহেলা এপ্রিলকে সামনে রেখে আমাদের আরো অনেক বসা হবে। আগামী ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চাঁদপুর আসবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে আমাদের বিশেষ বর্ধিত সভা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন গণপরিবহন বন্ধ করা যাবে না। তাহলে শহরের বাইরের মানুষের জনসভাস্থলে আসতে অসুবিধা হবে, যেটি ২০১০ সালে হয়েছিলো।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নৌপুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার, ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী, পিপি অ্যাডঃ আমান উল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডঃ রনজিত রায় চৌধুরী এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ও চাঁদপুর কণ্ঠের বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ।

গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে গত মাসে চাঁদপুর জেলায় আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র, অপরাধ এবং মামলার তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার। সভায় জেলার সকল ইউএনও, সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।