চাঁদপুরে বর্নচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৪৪ বছরের পথ চলার আনন্দে আন্ত:জেলা নাট্যোৎসবের  পুলিশ সুপার শামসুন্নাহান পিপিএম

শওকত আলী॥
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনভুক্ত বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর গৌরবের ৪৪ বছরের পথচলার আনন্দে আয়োজিত আন্তঃজেলা নাট্যোৎসবের গতকাল রবিবার ৩য় দিন সন্ধ্যায় ঢাকা লোকো নাট্যদলের মলিয়রের মূল গল্প অবলম্বনে, তারিক আনাম খানের রূপান্তরে ও লিয়াকত আলী লাকির নির্দেশনায় চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘কঞ্জুস’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটক মঞ্চায়নের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য মুক্তা দের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। তিনি বলেন, নাটকের মাধ্যমে আমরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। নাটকের মাধ্যমে আমরা সমাজের চিত্র তুলে ধরি। নাটকের মাধ্যমে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ ও মাদক দূর করা যাবে। নাটকে সমাজের সমস্যাগুলো অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব। আমরা যদি নাটকে সমাজের ভয়াবহতা তুলে ধরি তাহলে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। এক সময়ে গ্রামে রাত জেগে নাটক করা হত। সেই নাটকের ধারা আর থিয়েটারের ধারা এক নয়। থিয়েটার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারি। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৪৪ বছর পদার্পণে যে নাট্যোৎসব করা হয়েছে তাতে করে সমাজের সকল কুসংস্কার ও অন্যায় অপরাধ তুলে ধরা হচ্ছে। এটি সত্যি প্রশংসনীয় ভূমিকা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, জেলা কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ওমর পাটওয়ারী প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএম হান্নান, এনএসআই ডিডি ফারুক আহমেদ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

কঞ্জুস’ নাটকের কাহিনী : ষাট বছরের হারকিপটে বুড়ো হায়দার আলী খান। তার পুত্র কাযিম আলী খান ও কন্যা লাইলী বেগম। লাইলী ভালোবাসে তাদের খাস নোকর বদি মিয়াকে, যার সাথে পরিচয় হয়েছিল সমুদ্র তীরে। শুধু প্রেমের কারণে নিজের পরিচয় গোপন করে বদি মিয়া হায়দার আলী খানের বাড়িতে চাকরের কাজ নেয়। অন্যদিকে পুত্র কাযিম প্রেমে পড়ে পাশের মহল্লার মর্জিনার সঙ্গে। কিন্তু সমস্যা বাধে তখন, যখন কঞ্জুস হায়দার আলী পুত্রের প্রেমিকাকে বিয়ে করার প্রতিজ্ঞা করে গোলাপজানকে দায়িত্ব দেয় ঘটকালির। অপরদিকে তার পুত্রের বিয়ে ঠিক করে এক বিধবার সঙ্গে এবং যৌতুকের টাকা বাঁচানোর চিন্তায় কন্যা লাইলির জন্য পাত্র ঠিক করে তারই বন্ধু ৫০ বছর বয়সী আসলাম বেগের সঙ্গে। ঘটনা তুঙ্গে উঠে কঞ্জুস হায়দার আলীর মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ২০ লাখ টাকা যখন চাকর লাল মিয়া চুরি করে তারই পুত্র কাযিমের হাতে তুলে দেয়। এই নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ঈশিতা চাকী, মুমু মাসুদ, মোস্তফা আল মাসুদ সুমন, জিয়া উদ্দিন শিপন, স্বদেশ রঞ্জন দাস গুপ্ত, আজিজুর রহমান সুজন, রুবেল সংকর, মুসা রুবেল, জেবুন্নেছা সোবহান, প্রিয়াংকা বিশ্বাস মেঘলা, আজিজুর রহমান সুজন, খাদিজা মোস্তারি মাহিন, মুমু মাসুদ, তাজুল ইসলাম, শাহরিয়ার কামাল, আবু বকর বকশি, জুলফিকার বাবু।