চাঁদপুরে টিআর কর্মসূচির আওতায় ২৮১৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

চাঁদপুর : মহাজোট সরকারের শেষ সময় ত্রাণ মন্ত্রণালয় চাঁদপুর জেলায় টিআর কর্মসূচির আওতায় ২৮১৬ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের শেষ ঈদ ও নির্বাচনকে সামনে রেখে দেয়া বরাদ্দকে কেউ কেউ ‘নির্বাচনী টিআর’ হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন। এই কর্মসূচির আওতায় সারা জেলায় প্রকল্প তৈরির ধূম পড়েছে। মেম্বার-চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর-মেয়র, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউএনও, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা এবং সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা এখন এই কাজ নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে টিআর কর্মসূচির চাল বরাদ্দ হলেও রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও তাদের কাছের লোকজন দিয়ে প্রকল্প তৈরি ও কমিটি করে চাল হরিলুটের মহাপ্রস্তুতি চলছে। অবশ্য, একে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আখ্যায়িত করে জেলা ত্রাণ অফিস জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম কিস্তির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে জেলায় টিআর (সাধারণ) কর্মসূচির আওতায় ১২১৬ মে. টন, এমপিদের অনুকূলে টিআর (বিশেষ) ১৫০০ মে. টন এবং মহিলা এমপির অনুকূলে টিআর (বিশেষ) ১০০ মে. টন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক এমপির অনুকূলে ৩০০ মে. টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের জন্য জেলায় ২৮১৬ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ জন্য প্রকল্প দাখিল করতে ৫ সেপ্টেম্বর জেলা ত্রাণ অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ও সংসদীয় আসনভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩৮টি, মতলব উত্তর উপজেলার ৭১টি, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ১৩টি, কচুয়া পৌরসভার ৭টি, মতলব পৌরসভার ২০টি এবং ছেঙ্গারচর পৌরসভার ১১টি প্রকল্প জেলা ত্রাণ অফিসে জমা পড়েছে।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৭ মে. টন ও সর্বনিম্ন ১ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া যায়। তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে টিআর প্রকল্পের চাল বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে সদরে ১৪২ মে. টন, হাইমচরে ১০০ মে. টন, ফরিদগঞ্জে ১৫৩ মে. টন, হাজীগঞ্জে ১২৩ মে. টন, শাহরাস্তিতে ৯৩ মে. টন, মতলব দক্ষিণে ৭৬ মে. টন, মতলব উত্তরে ১২৩ মে. টন এবং কচুয়ায় ১৪৯ মে. টন। পৌরসভা পর্যায়ে টিআর প্রকল্পের চাল বরাদ্দের পরিমাণ চাঁদপুর পৌরসভায় ৫৯ মে. টন, ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় ২৬ মে. টন, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ২৬ মে. টন, কচুয়া পৌরসভায় ১৫ মে. টন, মতলব পৌরসভায় ৪২ মে. টন, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় ৩১ মে. টন, শাহরাস্তি পৌরসভায় ২০ মে. টন এবং নারায়ণপুর পৌরসভায় ৩০ মে. টন।
এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রাশেদা বেগম হীরা ১০০ মে. টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলাওয়ারি বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে সদরে ২০ মে. টন, ফরিদগঞ্জে ৮ মে. টন, হাইমচরে ১১ মে. টন, হাজীগঞ্জে ৯ মে. টন, কচুয়ায় ৬ মে. টন, মতলব উত্তরে ৬ মে. টন, মতলব দক্ষিণে ৫ মে. টন, শাহরাস্তিতে ৪ মে. টন এবং চাঁদপুর পৌর এলাকায় ৩১ মে. টন। চাঁদপুরের একটি উপজেলায় সম্প্রতি যাচাই-বাছাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকায় তার স্বাক্ষরের জন্য প্রকল্পের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তার স্বাক্ষর হলেই তালিকা জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। কোনো কোনো উপজেলার সব ইউনিয়ন প্রকল্পের তালিকা এখনো দাখিল করেনি। এমপিদের পাঠানো প্রকল্প ও তালিকা যাচাই-বাছাই করারও বালাই নেই। কেবল সেসব প্রকল্পের কাজ উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা দেখভাল করবেন। কিন্তু বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিন দেখার সুযোগ পাবেন, তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ।