চাঁদপুরে এক গণিতের শিক্ষকের বিকৃত যৌনাচার ।

nari8_eচাঁদপুর(তাজাখবরডটকম থেকে): কুষ্টিয়ার পান্না মাষ্টারের পর এবার চাঁদপুরে এক গণিতের শিক্ষকের বিকৃত যৌনাচার নিয়ে ফুঁসে উঠছে স্থানীয় অভিভাবকরা।

শিক্ষকের যৌন বিকৃতির কথা ফাঁস হয়ে যাবার পর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। আর ওই শিক্ষকের বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও ক্লিপস এখন চাঁদপুরের যুবসমাজের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছে, এসব ভিডিও ফুটেজ থেকে শিক্ষক ইমাম হোসেনের যৌনাচারের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এইসব ভিডিও ক্লিপস হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ায় নিজ সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। তারা এখন ঐ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তবে শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় সরাসরি কেউই মুখ খুলতে চাননি।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদপুর হাইমচরের চরভাংঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন (বিএসসির) প্রাইভেট ও কোচিংয়ে পড়ানোর নাম করে কোমলমতী ছাত্রীদের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

শুধু তাই নয়, ঐ শিক্ষক এই সব অবৈধ যৌন সম্পর্কের ভিডিও চিত্র ধারন করেন গোপনে। এসব গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি দিনের পর দিন ওই ছাত্রীদের তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

ইমাম হোসেন চাঁদপুর হাইমচরের চরভাংঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক। তিনি স্কুলের ছাত্রাবাসে থাকেন এবং সেখানে ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান।

প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নিয়ে ইমাম হোসেন বেশকিছু ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আর এসব ভিডিও ধারণ করে তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে রেখে দেন।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ টেলু একটি তথ্য প্রিন্ট করার জন্য ইমাম হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে তা দেখতে পান।

পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির কাছে তিনি জানান। সে সময় ইমাম হোসেন সবাইকে ম্যানেজ করে রক্ষা পান। তবে বিষয়টি আস্তে আস্তে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায় এবং তার ভিডিও ক্লিপস মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিচার ও শাস্তির দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। তবে প্রধান শিক্ষক তা গ্রহণ না করে তাদেরকে চুপ করে থাকার পরামর্শ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরভাংঙ্গা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমরা ইমাম স্যারের বিচার চেয়ে দরখাস্ত জমা দেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের তিন-চারজন শিক্ষক বিনা কারণে শ্রেণিকক্ষে তাদের মারধর করেন।’

তবে সম্প্রতি ভিডিও ক্লিপস আকারে ইমাম হোসেনের বিকৃত যৌনাচার এলাকার যুবকদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়লে আবারও ইস্যুটি সামনে চলে আসে। এখন ঐ শিক্ষকের বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠছে অভিভাবকরা।

শিক্ষক ইমাম হোসেনের লালসার শিকার এক ছাত্রীর বাবা জানান, তার মেয়েকে শিক্ষক ইমাম জোর করে এ অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছে। এ ঘটনার পর তার মেয়েকে তিনি অন্য এক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছেন। তবে এখন ঐসব ভিডিও মানুষের হাতে হাতে ষড়িয়ে পরায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

ঐ অবিভাবক আরো জানান, লম্পট ইমাম অগণিত কোমলমতী মেয়ের সর্বনাশ করে চলেছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চাইলে তিনি উল্টো তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।

মেয়ের সর্বনাশের প্রতিবাদে মামলা বিষয়ে ওই অভিভাবক জানান, শিক্ষক ইমাম হোসেন খুব প্রভাবশালী লোক। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা মামলা করেননি। তাছাড়া মান-সম্মানের ভয়েও তারা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেননি।

তিনি জানান, তিনি যদি ইমাম হোসেনের বিরদ্ধে মামলা করেন, তাহলে তার লোকজন তাকে মেরে ফেলবে। তিনি বলেন, আমরা এমনিতেই সংখ্যালঘু। তার ওপর এই বিপদ ডেকে আনতে চাননি।

অভিযোগের ব্যাপারে চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসমাইল হোসেন প্রথমে এ ধরনের কোনো ঘটনা এই বিদ্যালয়ের ঘটেনি জানালেও এক পর্যায়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘এলাকার সবাই যা জানে, আমিও তাই জানি। সত্য কখনো গোপন থাকে না। তবে আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

ঘটনা যে শিক্ষকের মাধ্যমে জানাজানি হয় সেই শিক্ষক শাহানাজ টেলু বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। আমি ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি। পরে প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়।’

তিনি জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে তদন্তসাপেক্ষে শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে হাইমচর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষক ইমাম হোসেন এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। এরপরও সন্তানতুল্য কোমলমতীদের সঙ্গে বিকৃত যৌন সম্পর্ক গড়ে তাদের সর্বনাশ করে চলেছেন। স্থানীয়রা ইমাম হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় জানাজানির পর তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।