চাঁদপুরে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে ফ্রিজের চাহিদা ॥ বিক্রি বেড়েছে ৩ গুণ

images

নিজস্ব প্রতিনিধি-
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ফ্রিজের চাহিদা থাকে কোরবানী ঈদ উপলক্ষে। চাহিদার একটি বড় অংশ চাঁদপুরেও প্রভাব পড়েছে। যার ফলে এ বছর বিপুল পরিমাণে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ, ওভেন, প্রেসার কুকার ক্রয় করছেন ক্রেতারা।
এ সময়ে ফ্রিজ বিক্রেতাদের ব্যস্ততা থাকে সবচে’ বেশি। চাঁদপুরের বিভিন্ন শো-রুম ঘুরে দেখা গেছে, উন্নত ও দামে সাশ্রয়ী দেশীয় তৈরি ফ্রিজের দিকেই ক্রেতারা ঝুঁকছে বেশি। চাঁদপুর শহরে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে শো-রুমগুলোতে দেশি-বিদেশী ব্র্যান্ডের ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানিগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সরগরম হয়ে উঠেছে শহরের প্রধান প্রধান ফ্রিজের শো-রুমগুলো। চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ফ্রিজের শো-রুমগুলোতে সকাল থেকেই ক্রেতার আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। চাঁদপুর ওয়ালটন শো-রুমের ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্রমবর্ধমান 9_8749চাহিদা পূরণ এবং গুণগত উচ্চমান নিশ্চিত করতে ওয়ালটনের নতুন কারখানা স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। এবার তাদের ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন।
তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও চাঁদপুরে ক্রেতাদের বহুল পরিচিত সিঙ্গার কোম্পানির ফ্রিজের প্রতিও ক্রেতার আলাদা চাহিদা রয়েছে। চাঁদপুর সিঙ্গার প্লাসের ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেন জানান, চাঁদপুরে আমাদের সিঙ্গার কোম্পানির পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাঁদপুরে ক্রেতারা আমাদের কোম্পানির পণ্যের প্রতি আগ্রহ অন্যরকম।
তিনি আরো জানান, আমাদের সিঙ্গার কোম্পানি সর্বপ্রথম চাঁদপুরে ফ্রিজসহ সকল ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে শো-রুম চালু করে। সে কারণেই চাঁদপুরে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান পুরনো। গত বছরের তুলনায় এবারো আমাদের ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ বেশি বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, ভালো মানের পণ্যের দাম সবসময় একটু বেশি হয়ে থাকে। চাঁদপুর এলজি বাটারফ্লাই শো-রুমের ব্যবস্থাপক ফাতেমা খাতুন কণিকা বলেন, আমরা সবসময়ই কোরবানীর ঈদে রেকর্ড পরিমাণ ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ, ওভেন, প্রেসার কুকার বিক্রয় করে থাকি। এবারো পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। সেজন্য আমাদের কোম্পানির কোরবানির ঈদের চাহিদার কথা চিন্তা করে আমদানি করে রাখা হয়েছে। তিনি কথা প্রসঙ্গে ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, রকমারি অফারে না ভুলে ব্র্যান্ডের কোম্পানির পণ্য ক্রয় করা ভালো। চাঁদপুর মাই ওয়ান শো-রুমও ঈদ উপলক্ষে আকর্ষণীয় ডিজাইনের ফ্রিজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। পণ্যক্রয়ে থাকছে আকর্ষনীয় ডিসকাউন্ট। সেই সাথে স্যামসাং, র‌্যাংগস্, সনি, সার্প, ক্যালভানিটর, মার্সেল, হিটাচি, হাইকো, কনকা ইত্যাদি কোম্পানির শো-রুমগুলোকেও ফ্রিজ ডিসপ্লে করে আকর্ষণীয়ভাবে ক্রেতার দৃষ্টি নন্দনের জন্য সাজানো হয়েছে। দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপহার ও ডিসকাউন্ট অফার। মাই ওয়ান শো-রুমের ৭ সিফটি থেকে ১৪ সিফটি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের ফ্রিজ রয়েছে। এদের মূল্য হচ্ছে ৭ সিফটি ২১ হাজার, ১২ সিফটি ৩৪ হাজার ৫শ’, ১৩ সিফটি ৩৭ হাজার ৫শ’, ১৪ সিফটি ৪০ হাজার ও ৪২ হাজার, ১৬০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩২ হাজার ৮শ’, ২২০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩৭ হাজার ৯শ’। এলজি বাটারফ্লাই ফ্রিজের মূল্য সাড়ে ১০ সিফটি ৩৩ হাজার ৯ শ’ ৭৫, সাড়ে ১১ সিফটি ৩৬ হাজার ৮শ’ ৫০ ও ৪৩ হাজার ৯শ’ ৬৫ এবং ৩৮ হাজার, সাড়ে ১২ সিফটি ৪৫ হাজার, সাড়ে ১৩ সিফটি ৪৩ হাজার, ৪৪ হাজার, ১৫ সিফটি ৫৪ হাজার, ১৬ সিফটি ৫৪ হাজার, ২৪ সিফটি ৮৪ হাজার, ৩০ সিফটি ৮৭ হাজার ৩শ’, ১২০লিটার ডিপ ফ্রিজ ২৪ হাজার ৯শ’ ৯০, ১৫০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ২৬ হাজার, ১৭৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ২৭ হাজার ৫শ’ ২১০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩১ হাজার ১শ’ ২৫, ২৩০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩৩ হাজার, ২৬০ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩৫ হাজার। সিঙ্গার ফ্রিজের মূল্য সাড়ে ৮ সিফটি ২৫ হাজার ৫শ’-২৯ হাজার ৯শ’, সাড়ে ১০ সিফটি ৩২ হাজার ৯শ’ ও ৩৩ হাজার এবং ৩৩ হাজার ৯শ’, সাড়ে ১১ সিফটি ৩৭ হাজার ও ৩৭ হাজার ৫শ’, সাড়ে ১২ সিফটি ৩৪ হাজার ৯শ’ ১৩ সিফটি ৪২ হাজার ৩শ’, ১৪ সিফটি ৪০ হাজার ৫শ’, ১৬ সিফটি ৫৫ হাজার ৯শ’, ২৯৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩৬ হাজার ৯শ’, ২০৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩০ হাজার ৫শ’ ও ৩৩ হাজার। ওয়ালটন ফ্রিজের মূল্য সাড়ে ৮ সিফটি ২৪ হাজার ১শ’, ৯ সিফটি ২৩ হাজার ৬শ’, ১০ সিফটি ২৭ হাজার ৬শ’, ১১ সিফটি ৩০ হাজার ৪শ’, সাড়ে ১১ সিফটি ৩১ হাজার ৫শ’, ১২ সিফটি ৩০ হাজার ৬শ’, সাড়ে ১২ সিফটি ৩৩ হাজার ৯শ’, সাড়ে ১৩ সিফটি ৩৩ হাজার ৬শ, ১৪ সিফটি ৩৭ হাজার ৩শ’, ৩শ’ লিটার ডিপ ফ্রিজ ৩২ হাজার ৯শ’, ২০৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ২৭ হাজার ১শ’, ১৪৫ লিটার ডিপ ফ্রিজ ২৩ হাজার ৩শ’। সার্প ফ্রিজের মূল্য সাড়ে ৯ সিফটি ৪৩ হাজার, ১০ সিফটি ৪৫ হাজার ৪শ’, সাড়ে ১০ সিফটি ৪৬ হাজার ৯শ’, সাড়ে ১১ সিফটি ৫১ হাজার ৩শ’ ও ১৩ সিফটি ৬১ হাজার ৫ শ’ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।