চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আসনে বড় দুই দলের প্রার্থীদের সরগরম উপস্থিতি

রফিকুল ইসলাম বাবু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-৪ তথা ফরিদগঞ্জ আসনে সম্ভাব্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা বেশ জমে উঠেছে। এই আসনে বড় দুই দলের তথা আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যকার আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হবে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দুই দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী এবং এরা কেউ কারো চাইতে কোন অংশে কম নয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সে সময়কার চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। তাঁর গ্রামের বাড়ি উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই ইউনিয়নের বাসিন্দা লায়ন মোঃ হারুনুর রশিদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময়ে হাজীগঞ্জে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে লায়ন হারুন আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে ত্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এরপরের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬নং রূপসা ইউনিয়নের বাসিন্দা দু’জন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। দলের হাইকমান্ডের সাথেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এঁরা হলেন বর্তমান এমপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এবং বিএনপির সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি লায়ন হারুনুর রশিদ। এদিকে এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে পৌর এলাকায় রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই শক্ত প্রতিদ্ব›ন্দ্বী । এদের একজন হচ্ছেন বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী হিসেবে পরিচিত ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যর্নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। আরেকজন হচ্ছেন ফরিদগঞ্জের সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সৎ রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মরহুম অ্যাডঃ সিরাজুল ইসলামের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান। রোমানের বর্তমানে দলে কোনো পদ পদবী না থাকলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ছাত্র ও যুবসমাজ তার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছে। রোমানকে নিয়ে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফরিদগঞ্জে নূতন এক জাগরণ সৃষ্টি করেছে। বিএনপি থেকে যদি সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদের মনোনয়ন নিশ্চিত না হয় তাহলে উপজেলা বিএনপির ত্যাগী ও ছাত্রদলের সাবেক তুখোড় নেতা, ১০নং গোবিন্দপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ মোঃ ইউনুছ দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে যাদেরকে দেখা যায় তাঁরা হচ্ছেন : ২নং বালিথুবা (পূর্ব) ইউনিয়নের বাসিন্দা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান। ৮ম ও ৯মসহ দু বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সখ্যতা ও আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদে তিনিও এবার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ হারুনুর রশিদ সাগর জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন। তবে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে সক্রিয়ভাবে মাঠে না থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরো ক’জন বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাদের নাম প্রচার করে দলের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন। অপরদিকে ৪নং সুবিদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এমএ হান্নানও বিএনপি থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন। তবে এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে মাঠে যারা সক্রিয় রয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন : আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এবং অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান। আর বিএনপির হচ্ছেন সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ ও শরীফ মোঃ ইউনুছ। এঁরা সবসময় ফরিদগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিসহ সামাজিক ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।