চাঁদপুরসহ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না ?

ঢাকা প্রতিনিধি: সব প্রস্তুতি শেষ। ২১শে অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ দিয়ে তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে এমন প্রস্তুতির পরও আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার- এমনটাই ধারণা indexসংশ্লিষ্টদের। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মনোভাবের কথা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনকে আন-অফিসিয়ালি বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির পর যে কোন নির্বাচনে যেতে ভয় পাচ্ছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় অরাজনৈতিক এ নির্বাচনটিও পিছিয়ে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয়, জেলা বা উপজেলা কমিটির কার্যক্রম এখন নেই। কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যক্রম দেখভাল করছেন একজন যুগ্ম- সচিব। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম দেখাশোনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নির্বাচনে সম্মতি দেননি। আগামী ২১শে অক্টোবর এ নির্বাচন হচ্ছে না বলে ধরে নেয়া যায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনে এবারও সরকারপন্থিদের দু’টি গ্রুপ রয়েছে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ গেল সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও তা জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রভাব ফেলবে। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনকারী মুক্তিযোদ্ধারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তা সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে। তাই জাতীয় নির্বাচনের পর এ নির্বাচনটি হলে ভাল হয়। বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিফ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে পাঠান এবং নির্বাচনের তফসিল বাতিলসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাতিল করার জন্য বলেন। এর ভিত্তিতে নির্বাচনটি স্থগিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রী সরকারের সিদ্ধান্তের কথা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, সরকার আপাতত নির্বাচন করতে চায় না। নির্বাচন না হওয়ার সংবাদ ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তারা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন না করা সরকারের জন্য বোকামি ছাড়া কিছু নয়। এখন আগের নির্বাচিত কমিটি সংসদের অফিস ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারি কর্মকর্তারাও অফিস খুলবেন না। তাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে আসবে। তারা জানান, বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগকে লালন করে। তাই নির্বাচন না করে তাদেরকে এক প্রকার বসিয়ে দেয়া হবে। এর আগে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞাকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার করা হয় সাবেক সচিব মো. শাহজাহান সিদ্দিকী বীরবিক্রম, আইজিপি (পুলিশ সমন্বয়ক) ফণীভূষণ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন সিদ্দিকী (অব.) ও মেজর এম আবদুস সালাম (অব.)-কে। ১২ই অক্টোবর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন। ওই দিন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন ২০১৩-এর তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিলে বলা হয়, ২১শে অক্টোবর (সোমবার) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ২৬শে সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৮শে সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিল ২৯শে সেপ্টেম্বর এবং আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ৩০শে সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১লা অক্টোবর, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ২রা অক্টোবর, প্রতীক বরাদ্দ ৩রা অক্টোবর। তফসিলে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে মোট পদের সংখ্যা ৪১টি, মহানগর কমান্ড কাউন্সিলে ১৭টি পদ এবং উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলে ১১টি পদে প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। এরপর গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন্দ্রীয় কমান্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন। তাদের মধ্য থেকে অনেকেই নির্বাচন পেছানোর পক্ষে মত দেন। তবে ওই সভায় সঠিক সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তফসিল ঘোষিত সময়ে নির্বাচন হচ্ছে না।