গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তার গাজী আটক

সংবাদদাতা : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩নং হানারচর ইউনিয়নের ফেরি ঘাট এলাকার সমান্যা গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে আবুল গাজির প্রতিবেশি বিল্লাল গাজির সঙ্গে গাছের ডালকাটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়ে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষেরই লোকজন সামান্য আহত হয়েছে। কিন্তু আবুল গাজি এলাকার কিছু দুষ্ট লোকের পরামর্শে ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন গাজিসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে একটি মিথ্যা মামলা করে। এ মামলায় মডেল থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার সময় মুক্তার হোসেন গাজিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায় গত ১৯/০২/২০১৮ইং তারিখে বিল্লাল গাজি তার গাছের ডালাপালা কাটার জন্য সেখানকার তাজুল ইসলাম নামক এক ব্যাক্তিকে দিন মজুরি হিসেবে দায়িত্ব দেন। সে জানায়, তার গাছের ডালাপালা কাটা অবস্থায় আবুল গাজির স্ত্রী বিল্লাল গাজিকে অনুরোধ করে বলে ভাই আপনার লেবারকে বলেন আমাদের গাছের দুটি ডালা কেটে দিতে। তখন আবুল গাজির স্ত্রীর অনুরোধে বিল্লাল গাজি তার লেবার তাজুল ইসলাম গাজিকে বলেন তাদের ডালা দুটো কেটে দেওয়ার জন্য। তখন সে তার গাছের দুটি ডালা কেটে দেয়। তার কিছুক্ষণ পর আবুল গাজি বাড়িতে এসে বিল্লাল গাজির দিন মজুর তাজুল ইসলামকে ব্যাপক মারধর করে। বিল্লাল গাজি সংবাদ পেয়ে বাড়িতে এসে আবুল গাজিকে না পেয়ে ফেরিঘাটে তার দোকানের পাশে এসে জিজ্ঞাস করে আপনার স্ত্রীর অনুরোধে আমার লেবার আপনার গাছের ডালা দুটো কেটেছে। আপনার যদি কিছু বলার থাকত আমাকে বলতেন শুধু শুধু কেন একটি গরিবের গায়ে হাত তুললেন। একথা বলার পর পর আবুল গাজি, তার ছেলে জাকির গাজি, তার ভাই মানিক গাজী, আমির গাজী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ দিতে থাকে। আমি তাদেরকে গালমন্দের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে সে আরো উত্তেজিত হয়ে আমার সাথে হাতাহাতি শুরু করে দেয়। আমি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে তারা নিজেরাই তর্কে জড়াইয়া তাদের হোটেলের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করিয়া মিথ্যা মামলা সাজিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য মামলা করেছে। সে মামলায় আমার এলাকার সুনামধন্য সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন গাজীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। অথচ যখন গাছের ডাল কাটা হয় এবং হাতাহাতি হয় ঐ সময় মোক্তার গাজী তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা চিকিৎসারত অবস্থায় ছিলেন। অথচ এ এলাকার কিছু লোক এবং হাবু ছৈয়ালের নেতৃত্বে তারা আমাদের হামলা করেছে এবং মিথ্যা মামলা করেছে। তবে আমরা আইনের প্রতি আস্থাশীল। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এই বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন জানায়, কী ঘটনায় তাকে আটক করেছে সে নিজেও জানে না। পড়ে তার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে কোনো এক হরিণাঘাটে মারামারি মামলায় আমাকে আটক করা হয়েছে। অথচ আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। যেই ঘটনা দেখিয়ে আমাকে আটক করা হয়েছে আমি ঐ সময় ঢাকাতে ছিলাম আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর জন্য। গতকাল রাতে ঘুমানো অবস্থায় পুলিশ আমাকে আটক করেছে। তবে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এই বিষয়ে ঐ এলাকার ব্যবসায়ী মনছুর গাজী, সলেমান গাজী, আমজাদ খান, ইয়াহিয়া বেপারী, রব গাজী, মিজান গাজী, শাহজাহান ছৈয়াল, মান্নান চৌকিদার, সাত্তার চৌকিদার, আহসান বেপারীসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মোক্তার গাজী একজন ভালো চেয়ারম্যান ছিলেন। আজ যাদের সাথে বিরোধ চলছে একসময় তাহারা সকলে মোক্তার গাজীর ছত্রছায়ায় ছিল। তার কারণেই তারা আজ প্রতিষ্ঠিত। তবে যেই ঘটনায় মোকতার গাজীকে আটক করা হয়েছে সে এ ঘটনার সাথে জড়িৎ না। এলাকার কিছু লোক তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও ক্ষতি করার জন্য এই মিথ্যা মামলায় তাকে জড়িয়েছে।