গরু মোটাতাজাকরণ চলছে

ccccকিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানীর ঈদ। সাধারণত বাংলাদেশের মানুষ কোরবানী করার জন্য গরুকেই বেশি পছন্দ করে। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে তো কথাই নেই। সম্প্রীতি মতলব উত্তরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় গরু মোটাতাজা করতে ব্যবহার করছে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বৃদ্ধিবর্ধক হরমোন ইনজেকশন স্টেরয়েড। গরুকে ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়ানো শুরুর ১০/১৫ দিন পর হেমাটোপিন বিএস (১০এমএল) ইনজেনশন মাংসপেশিতে প্রয়োগ করে মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া ত্বরাম্বিত হয়। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বেশ জোরে শোরে শুরু হয়েছে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তারা বৈধপথে গরু মোটাতাজাকরণ না করে ভিন্ন পথ বেছে নিচ্ছে।

এসব গরুর মাংস খাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অনুধাবন করা যাবে না। এটা আস্তে আস্তে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি করে। এ সম্পর্কে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. জুনায়েদ নাঈম বলেন, স্টেরয়েট জাতীয় ইনজেকন গরুর শরীরের কোষকে দ্রুত বিভাজিত করে। অনেক ক্ষেত্রে কোষে পানির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং দৃশ্যত গরু মোটা দেখায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওইসব গরুর মাংসের গুণগতমান কমে যায় এবং তা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। স্টেরয়েট মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করলে গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব হরমোনের কারণে গরুর ডায়াবেটিকস সহ বিভিন্ন জটিল রোগ হয়ে থাকে। গরু বিক্রয়ের আগে সাধারণত ওইসব ইনজেকশন ব্যবহার করার ফলে তা সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগে জবাই করার ফলে তা গরুর শরীরে থেকে যায় ফলে পরবর্তীতে তা মানুষের শরীরে চলে যায়। তিনি বলেন, স্টেরয়েডের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গরু জবাই করা বা গরুর মাংস খাওয়া ঠিক নয়। এসব হরমোন এতটাই মারাত্মক যে মাংস রান্না করার পরও তা নষ্ট হয় না।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গিযাসউদ্দিন ইবনে রহমান (কাজল) বলেন, মানুষের শরীরের গিয়ে অনাকাক্সিখত কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গের বিভিন্ন প্রকার রোগের সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব, মেয়েদের অল্প বয়সে পরিপক্বতা এবং শিশুদের অল্প বয়সে মুটিয়ে যাওয়া তার অন্যতম একটি কারণ এসব স্টেরয়েড হরমোন। এসব বৃদ্ধিবর্ধক ইনজেকশন ব্যবহার না করে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে অধিক লক্ষ্য দিতে হবে। অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি দাবি করছে এলাকার সচেতন মহল।