‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ নারীদের পাহারায় পুরুষদের নির্বিঘ্ন মাদক ব্যবসা

চাঁদপুর শহরের ‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ নারীদের পাহারায় রাতভর কিছু পুরুষের নির্বিঘ্ন মাদক ব্যবসা চলছে বছরের পর বছর। কিন্তু এরা পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে সবসময়। এ নিয়ে শহরের সুধী-সচেতনসহ নিরীহ সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চাঁদপুর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের প্রান্তিক এলাকায় ‘কয়লা বাগানে’র অবস্থান। এক সময় এখানে কয়লা শ্রমিকদের আধিক্য ছিলো বলে এটির নাম কয়লা বাগান হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। রেলওয়ের জায়গা লীজ এনে কিংবা দখল করে এখানে ঘিঞ্জি অবস্থায় ৫-৬শ’ ঘর করা হয়েছে। এ ‘কয়লা বাগানে’র সনি্নহিত এলাকায় ৮নং ওয়ার্ডের জেটিসি ‘কুলি বাগান’ অবস্থিত। জুট ট্রেডিং কর্পোরেশন (জেটিসি)-এর কুলি তথা পাটশ্রমিকদের বসবাসের জন্যে এখানে রেল কর্তৃপক্ষ ৪শ’ কোয়ার্টার নির্মাণ করে দেয়। এই কোয়ার্টারের পাশাপাশি রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে আরো ৫-৬শ’ ঘর। ফলে ঘিঞ্জি পরিবেশে শহরের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে এই ‘কুলি বাগান’।

‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগান’ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এবং এখানে প্রবেশের একটি মাত্র প্রশস্ত সড়ক বিরাট জলাশয়ের মধ্য দিয়ে থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা এখানে তাদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর সন্ধ্যা নামতেই এখানে মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠে। মাদকসেবী ও ক্রেতারা এখানে ছুটে আসে। মাদকসেবন ও কেনাবেচায় যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন অথবা অন্য কেউ বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেজন্যে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন থেকে বড়স্টেশনগামী সড়কে থাকে কিছু নারীর অতন্দ্র প্রহরা। এরা পুলিশ বা মাদকবিরোধী কাউকে ‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ ঢুকতে দেখলেই মোবাইল ফোনে তাদের স্বামী কিংবা তাদের নিয়োগকর্তা মাদক ব্যবসায়ী পুরুষকে জানিয়ে সতর্ক করে দেয়, যাতে তারা সংলগ্ন ভঁূইয়া বাড়ি, জামতলা ও গুয়াখোলা বেপারী বাড়ির সরু রাস্তা দিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে।

প্রায় ১৫ হাজার লোকের বাসস্থান ‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ মাদক ব্যবসার মূল হোতা হচ্ছে আওলাদ শেখ, নয়ন মুন্সী ও সুমন মুন্সী, রিয়াদ, পাখি, ঈগল আলম (ঈগল লঞ্চের সাবেক চানাচুর বিক্রেতা), সাগরসহ আরো ক’জন। এখানে মাদকে বিক্রি ও সেবনের মধ্যে নব্বই ভাগ ইয়াবা ও ১০ ভাগ গাঁজা। এখানে মাদক সেবন করতে গেলে অনেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থও ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে হারায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ মাদক ব্যবসা সম্পর্কে পুলিশ সুপার ও চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সভায় বিভিন্ন বক্তা অবহিত করেছেন। সচেতন ব্যক্তিবর্গ গোপনে ও প্রকাশ্যে তথ্যও দিয়েছেন পুলিশকে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ‘কয়লা বাগান’ ও ‘কুলি বাগানে’ মাদকবিরোধী কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় জনমনে বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে বলে পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে।