কে এই লাল বাদশা!

আবু সাঈদ ওরফে লাল বাদশা। পুলিশের খাতায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউয়িনের পূর্ব গোবিন্দপুর ছৈয়াল বাড়ি। বাবা আঃ রশিদ ছৈয়াল। লাল বাদশার রয়েছে তিন ছেলে এবং স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ৭টি, চাঁদপুর সদরে ২টি, চট্টগ্রামে ১টিসহ ১০টি মাদক মামলা রয়েছে। রোববার রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হওয়ার পর আবার সামনে চলে আসে কে এই লাল বাদশা।

সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান জীবিত থাকাকালে আবু সাঈদ এবং পিচ্চি হান্নানের এক ঘনিষ্ট আত্মীয়সহ ঢাকার কাওরান বাজারের কাঁচা মালের আড়ত ও দোকানগুলোতে নিয়মিত চাঁদা তুলতো। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সে বেশ ক’টি খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিল। যদিও আইনী জটিলতায় সে সহজেই পার পেয়ে যায়।

পিচ্চি হান্নান র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পরও লাল বাদশা দীর্ঘদিন কাওরান বাজারে রাজত্ব করেছে। পরে একসময় সে চলে আসে কুমিল্লায়। পদুয়ার বাজার এলাকায় কনফেকশনারী দোকান দেয় সে। দোকানদারী করা অবস্থায় তার সাথে পরিচয় হয় কুমিল্লা অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদেরে সাথে। শুরু হয় তার মাদক ব্যবসা জীবন। এ সময় সে বাসযোগে ফেনসিডিল নিয়ে আসার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বেশ ক’বার। ফলে বাধ্য হয়ে ক’বছর পূর্বে সে নিজ এলাকা ফরিদগঞ্জে চলে আসে।

স্থানীয়দের মতে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে আসার পর সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে পুরোপুরি জড়িত হয়ে পড়ে। লাল বাদশা হিসেবে তার পরিচিতি পায়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তার এই ব্যবসা অব্যাহত ছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানায়। তারা জানায়, যদিও কিছুদিন পূর্বে আবু সাঈদ ওরফে লাল বাদশা চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে এ ব্যবসা ছেড়ে দিবে বলে ওয়াদা করে আসে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু বস্তুত এই লাইন থেকে সে সরে নি। পুলিশের মতে এটি তার আইওয়াশ ছিল। সোমবার রাতে তাকে আটক করার পর তার কাছ থেকে দুই বারে মোট ১১১ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পিচ্চি হান্নানের জীবদ্দশায় লাল বাদশার নামে কোনো মামলা হয়েছে কিনা তা জানা না গেলেও ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পুলিশের খাতায় তার নামে দশটি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। এগুলো হলো : ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯ (ক) /২৫ ধারায় ফরিদগঞ্জ থানায় গত ২৭ নভেম্বর একটি মামলা (নং-২৫। তাং-২৭/১১/২০১৭), ৮ নভেম্বর একটি মামলা (নং-১৯। তাং ১৮/১১/২০১৭), ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে পেনাল কোডে-১৪৩/ ৪৪৭/৪৪৮ /৩২৩/৩০৭/ ৩৫৪/৩৭৯/৪২৭/ ৫০৬ (২) ধারায় মামলা (নং- ১০। তাং-১০। ১৫/৯/২০১৫), ২০১৫ সালে জুনে পেনাল কোডে-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ (২) ধারায় মামলা (নং-১০। তাং-২১। ১৯/৬/২০১৫), ২০১৫ সালের এপ্রিলে ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)-এর ৯(ক) /২৫ ধারায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-১৯। তাং- ১৮/০৪/২০১৫), ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৭ (ক) /৯ (ক)২৫/২৬ ধারায় ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-০৪। তাং-০২/১২/২০১৭), ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেনাল কোডে ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৪২৭/৩৭৯ ধারায় মামলা (নং-১৯। তাং ২৫/০২/২০১৩), চাঁদপুর মডেল থানার ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)-এর ৭ (ক) /৯ (ক) ২৫ ধারায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে মামলা (নং ২৮। তাং-২১/১১/২০১৭), চাঁদপুর মডেল থানার ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯ (খ) ২৫ ধারায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মামলা (নং ১৪। তাং-৭/১/২০১৮) এবং চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৯ (খ) ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মামলা (নং- ৩৯। তাং- ২৭/৭/২০১৭) দায়ের হয়।

এদিকে মাদক সম্রাট লাল বাদশার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরিদগঞ্জে একটি কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও স্থানীয় ও সচেতন মহলের মতে এখন পুলিশকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। তার এই অঘোষিত রাজ্যে যেনো নতুন কোনো সম্রাটের আবির্ভাব না ঘটে। তাছাড়া তার সঙ্গী সাথীরা কোথায় রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।