কুরআন নাযিলের মাস রমজান

——————————————
মুফতী মুহা : আবু বকর বিন ফারুক
——————————————
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বছরের ১২ টি মাসের মধ্যে রমজান মাসকে মর্যাদাবান করেছেন।
রমজান এ জন্যই মর্যাদা পেয়েছেন যে,  রমজান মাসে আল – কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে।
রমজান আরো মর্যাদাবাদ হয়েছে এজন্য যে,  কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে রমজানের ক্বদরের রাত্রে।
 এ রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ একটি রাত।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর রমজানের
ক্বদরের রাত্রিতে কুরআনুল কারীম নাযিল করেন।
কুরআনুল কারীম নাযিল করা হয়েছে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য।
নবীজি মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দীর্ঘ ২৩ বছরে কুরআনুল কারীম নাযিল হয়।
নবীজি মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
৪০ বছর বয়সে হেরা পর্বতের গুহায় হযরত জিব্রাঈল (আ:) এর মাধ্যমে কুরআনুল কারীম নাযিল হয়।
কুরআনুল কারীমে ৩০ পারা, ১১৪ সূরা, ৬৬৬৬ আয়াত রয়েছে।
কুরআনুল কারীম রমজান মাসে নাযিল হয়েছে।
 এই সেই কিতাব; আল কুরআন! এটি যাঁর পবিত্র বাণী সেই আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَان
“রমাদান মাস; এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে।” [সূরা আল বাকারাহ্: ১৮৫]
ইবনে কাসীর এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, এ মাসেই আল্লাহ্ তা’আলা অন্যান্য আম্বীয়ায়ে কেরামের উপর গ্রন্থ অবতীর্ণ করেন। ইমাম আহমাদ বলেন: ….আবূ সাঈদ আমাদের নিকট এই হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইবরাহীম (আলাইহিস্ সালাম)-এর সহীফা রমজানের প্রথম রাতে, তাওরাত রমজানের ছয় তারিখে, ইঞ্জীল রমজানের তের তারিখে ও কুরআন রমজানের চব্বিশ তারিখে অবতীর্ণ হয়।” এছাড়াও জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত আছে যে, “যবূর রমজানের বার তারিখে ও ইঞ্জীল আঠারো তারিখে এবং অন্যগুলো পূর্বোক্ত তারিখে অবতীর্ণ হয়।”
ইবনে মারদুবিয়া বলেন: সহীফাসমূহ, তাওরাত, যবূর ও ইঞ্জীল সংশ্লিষ্ট নবীর উপর একবারেই নাযিল হয়েছে। পক্ষান্তরে কুরআন একবারে নাযিল হয়েছে পৃথিবীর আকাশের ‘বাইতুল ইয্যাত’-এ, এবং তা রমজানের লাইলাতুল কাদর-এ অবতীর্ণ হয়। যেমনটি আল্লাহ্ বলেন: إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ “আমি একে মহিমান্বিত রাতে অবতীর্ণ করেছি”। তারপর তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বিভিন্ন ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে পৃথক পৃথক ভাবে নাযিল করা হয়। [ইবনে কাসীর: ১ম খণ্ড, পৃ: ৯৭-৯৮, ইফা প্রকাশন]
কুরআনুল কারীম সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেন –
সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ২
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ-
অর্থঃ এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য।(সূরা – বাকারা -২)
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম কুরআন তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম নফল ইবাদত বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন: কেউ যদি আল্লাহ্র কিতাবের একটি হরফ পাঠ করে তা হলে সে নেকি লাভ করে আর সেই নেকির পরিমাণ হচ্ছে দশ গুণ। (তিরমিযী শরিফ)।
বিদায় হজের ভাষণে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি তোমাদের জন্য রেখে যাচ্ছি আল্লাহ্র কিতাব ও তাঁর রসুলের সুন্নাহ, তোমরা যদি তা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করো তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। (বুখারী শরিফ, মুসলিম শরিফ)।
পরিশেষে বলব,কুরআন আমাদের সংবিধান। কুরআনের হুকুম আহকাম আমরা যথাযথভাবে মেনে চলবো।
তাই আমরা  কুরআন সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ব।
লেখক : মুফতী মুহা : আবু বকর বিন ফারুক
কার্যসম্পাদক : ছারছীনা মিডিয়া ফোরাম
সদস্য: ছালেহীয়া লেখক মজলিস (ছালেম)
ই- মেইল : mdabubakarbinfaruque@gmail.com