কাজের মেয়ে আদুরীর গৃহকর্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ-

আদুরীর বাবা মারা গিয়েছে আট বছর আগে। দরিদ্র মা গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাটি কাটার কাজ করে। সেই টাকা দিয়ে কোন ভাবে বেঁচে থাকতো তাদের জীবন। তাই সংসারের অভাব ঘুচাতে পেটের তাগিদে ১০ বছরের শিশুকন্যাটিকে এক বছর আগে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে তুলে দেন রাজধানীর পল্933996_394857130642928_1402695255_nলবী এলাকার ৯১/১ নম্বর সাগুফতা বাড়ির ২য় তলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের বাসায়। কাজের বিনিময়ে মেয়েটি যদি ভালো থাকে। কিন্তু `ভালো ভাবে বেঁচে থাকা’র বদলে অনাদর অবহেলা আর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে অর্ধমৃত অবস্থায় আদুরীকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এই ঘটনায় আদুরীর মামা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করলে গৃহকর্ত্রী নওরীন আক্তার নদীকে আটক করে পুলিশ। তারপরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি নদীকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। এসময় আসামির আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুরু মিয়া তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

আদুরীর মামা নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আদুরীর বাবা আব্দুল খালেক মৃধা আট বত্সর আগে মারা গিয়াছে। আদুরীর মা সাফিয়া গ্রামে ঘুরে ঘুরে মাটি কাটে। আদুরীরা পাঁচ বোন ও চার ভাই। নয় ভাই বোনের মধ্যে আদুরি চার নম্বরে। অভাবের তারনায় এক বত্সর আগে পটুয়াখালী জেলার গালর্স স্কুল রেডের বাসিন্দা সৈয়দ চুন্নু মিয়ার মাধ্যমে আদুরিকে ঢাকায় কাজের জন্য পাঠায় ওর মা সাফিয়া। এরপরে হঠাত্ গত ২২ সেপ্টেম্বর চুন্নু মিয়া সাফিয়াকে জানায় আদুরিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তিন দিন আগ থেকে। তাড়াতাড়ি ঢাকায় গিয়ে খোঁজ খবর নেও। সাফিয়া তখন বলেন আমি কিভাবে ঢাকা যাবো কিছুই তো চিনি না। উত্তরে চুন্নু মিয়া বলেন আমার ভাই সৈয়দ শাহজাদা মিয়ার ছেলে রনি তোমাকে ঢাকার সদরঘাট থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু ঢাকার সদর ঘাটে আসার পরে আদুরির যে বাসায় কাজ করে সেই বাসায় আদুরীর মা সাফিয়াকে নিতে চায় না রনি। পরে অন্য একটি বাসায় নিয়ে যায় এবং রনি খবর দেয় আপনার মেয়ে আদুরীর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া গিয়েছে। আদুরীর মামার ভাষ্যমতে, আদুরীকে গৃহকর্ত্রী নওরীন অক্তার নদী, তাঁর বোন পুষ্পিতা ও মা ইশরাত জাহান, সাইফুল মারধর করতো। গরম ইস্তিরি দিয়ে ছ্যাঁকা, বে্লড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে দিতেন। নদীর পিতার নাম মৃত আশরাফ গ্রামের বাড়ী বগুরা জেলার কাকনার পাড়া। আর সাইফুল ইসলামের পিতার নাম জব্বার খান গ্রামের বাড়ী বরিশালের সায়েস্তাবাদ এলাকায়।